মিললনা বিচার! চোখের জলেই মেদিনীপুর ছাড়লেন বাংলাদেশের প্রবীণ নাগরিক

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, মেদিনীপুর, ২৩ এপ্রিল: শেষ পর্যন্ত সর্বশান্ত হয়ে, একপ্রকার বিনা চিকিৎসায় মরণাপন্ন স্ত্রী, এক বুক হতাশা আর দু’চোখ ভরা অশ্রু নিয়ে বাংলাদেশ ফিরে গেলেন ষাটোর্ধ্ব আবুল কালাম শেখ। তবে অভিজ্ঞতা নিয়ে গেলেন মেদিনীপুরে প্রতারনার শিকার হওয়ার! পুলিশের দ্বারস্থ হয়েও মিললো না তাঁর পরিবারের কষ্টের অর্জিত অর্থ। এই ঘটনায় ঐতিহাসিক মেদিনীপুরের মাথা হেঁট হয়ে গেল বলে মনে করছেন সচেতন ও সহৃদয় নাগরিগরা।

thebengalpost.in
প্রতারিত হয়েই মেদিনীপুর ছাড়লেন বাংলাদেশের পরিবার :

বৃহস্পতিবার (২২ এপ্রিল) সারারাত মেদিনীপুরের ঈদগা এলাকার একটি মাদ্রাসায় মরনাপন্ন স্ত্রী’কে নিয়ে রাত্রি যাপন করার শুক্রবার ভোরে এম্বুলেন্সে করে স্ত্রীকে নিয়ে বাংলাদেশের যশোরের উদ্দেশ্যে রওনা দিলেন আবুল কালাম বাবু। তাঁর বাড়ি ফেরার জন্য সাহায্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলেন মেদিনীপুর টাউন মুসলিম কমিটির কর্মকর্তারা। তবে যেতে যেতে আবুল কালাম বাবু জানিয়ে গেলেন, ফিরে গিয়ে মেদিনীপুরের মানুষের প্রতি ভরসা করার খেসারতের কথা তিনি বাংলাদেশের মানুষদের জানাবেন! যেখানে পুলিশও অভিযুক্ত প্রতারকের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ না নিয়ে, আবেদন নিবেদনের মাধ্যমে অর্থ উদ্ধারের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। যদিও পুলিশের কথায়, “প্রতারক সেখ রাজু বাংলাদেশ ফেরার এম্বুলেন্স ভাড়া বাবদ ১৫ হাজার টাকা দেয় বলে জানিয়েছেন আবুল কালাম বাবু।” অন্যদিকে মুসলিম কমিটির এক কর্মকর্তা বলেন, “পুলিশ যদি প্রথম থেকেই কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করতো তাহলে ভিনদেশী এই মানুষটিকে আজ এই দিনটি দেখতে হতো না।”

thebengalpost.in
সর্বশান্ত হয়ে বাংলাদেশে ফিরে গেলেন বাংলাদেশী পরিবার :

প্রসঙ্গত, গত তিন-চারমাস আগে (২৪ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ থেকে স্ত্রী নার্গিস বেগমের ব্রেন টিউমারের চিকিৎসা করাতে মেদিনীপুরে এসে ছিলেন বাংলাদেশী নাগরিক আবুল কালাম শেখ। সম্পর্কে তাঁদের আত্মীয় শহরের নজরগঞ্জের এক যুবক সেক রাজুর কাছ থেকে স্ত্রী চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে রাজুর ব্যংক একাউন্টে ১ লাখ ৮৭ হাজার টাকা পাঠিয়ে দেন আবুল কালামের বাংলাদেশে থাকা পরিবার। এরপর, ব্যাঙ্গালোরে সাঁইবাবা হাসপাতালে নিয়ে গেলেও ভিসা শেষ হয়ে যাওয়ায়, চিকিৎসা সম্পূর্ণ না করিয়েই ফিরে আসতে হয় ওই পরিবারকে। সেখানে চিকিৎসা বাবদ কোন অর্থ খরচ না হলেও, মেদিনীপুরে ফিরে এসে সেখ রাজু ওই পরিবারকে জানায় সব অর্থ (প্রায় ২ লক্ষ) শেষ! এরপরই পুলিশের দ্বারস্থ হয় ওই পরিবার। কিন্তু, শেষমেশ একরাশ হতাশা আর চোখের জলেই মেদিনীপুর ছাড়তে হল ওই বাংলাদেশী পরিবারকে!

আরও পড়ুন -   অনেক 'আশা' নিয়ে মোহবনী গ্রাম থেকে মেদিনীপুরে পৌঁছলেন ক্ষুদিরাম বসু'র পরিবারের সদস্যরা