বিধি আছে, দপ্তরও আছে, উপেক্ষা করেই চলছে বন্যপ্রাণী শিকার

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ৪ এপ্রিল: ভারতের আদিবাসী জনগোষ্ঠীগুলির মধ্যে সাঁওতাল সম্প্রদায় অন্যতম একটি আদিম জনগোষ্ঠী। এই জনগোষ্ঠীর কাছে “শিকার উৎসব” আজও গুরুত্বসহকারে পালিত হয়ে আসছে। আদিবাসী জনগোষ্ঠী হিসেবে সাঁওতাল সমাজের কাছে “শিকার উৎসব” একটি আনন্দোৎসব। এর সঙ্গে আদিবাসী পুরুষের শৌর্য-বীর্য ও পৌরুষ জড়িয়ে থাকে। তাই পরম্পরাগতভাবে আজও পালিত হয়ে আসছে এই উৎসব। বন্য পশু হত্যা করে “শিকার উৎসব” পালিত হয়। দলবদ্ধ হয়ে যা শিকার করা হয় তা দলের সব সদস্যের মধ্যে ভাগ করা হয়। অন্যদিকে, বন্যপ্রাণীরা প্রকৃতির সম্পদ। বন্যপ্রাণ রক্ষা করা জাতীয় কর্তব্য বলে ভারতীয় সংবিধানে উল্লেখ করা হয়েছে। দেশের “বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ আইনে” বন্যপ্রাণীকে হত্যা করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ‍্য হয়। কিন্তু, তা সত্বেও চলে এই শিকার উৎসব। বনদপ্তর তার সীমিত ক্ষমতা নিয়েই শিকারীদের বন্যপ্রাণ হত্যা করা থেকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করে, কখনও কখনও বাজেয়াপ্ত করা হয় পশু হত্যার অস্ত্রশস্ত্রগুলি। তবে তা নামমাত্রই! বলা চলে, জঙ্গলে একপ্রকার অবাধেই চলতে থাকে বন্যপ্রাণীর হত্যালীলা।

thebengalpost.in
পশু শিকার (ছবি : রাকেশ সিংহ দেব) :

জঙ্গলমহলের জেলাগুলিতে, শনিবার অনুষ্ঠিত হলো, সেই “শিকার উৎসব”। অভিযোগ যে, ২০১৮ সালে এই জেলার জঙ্গলেই শিকার উৎসব চলাকালীন হত্যা করা হয়েছিল একটি রয়েল বেঙ্গল টাইগার’কে। এই সম্পর্কে, আদিবাসী প্রবীণরা জানালেন, “শিকার তাঁদের পরম্পরাগত ভাবে হয়ে আসছে, তাই এমনটা চলবে।” অপরদিকে, পশুপ্রেমী দের অভিমত, “প্রশাসনের আরো কঠোরতার প্রয়োজন আছে। বনদপ্তরের হাতে আরো ক্ষমতা দেওয়া প্রয়োজন। একইসাথে সচেতনতা গড়ে তুলতে সকলেরই এগিয়ে আসা প্রয়োজন।” নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পশুপ্রেমী ও প্রকৃতি প্রেমী বললেন, “আদিবাসীরাই জঙ্গলের রক্ষক একথা যেমন ঠিক, তেমনই অবাধে পশু হত্যা নিয় তাঁদের আরও মানবিক হয়ে ওঠা প্রয়োজন। আসলে, তাঁরা গুলিয়ে ফেলেন, ফার্মে বা কৃত্রিম ভাবে চাষ করা হাঁস-মুরগি-ছাগলের সাথে অরণ্যে বসবাসকারী পশুদের। তাই তাঁরা ভাবেন, এটাও কোনো অপরাধ নয়! আরো সচেতনতা প্রয়োজন।”

thebengalpost.in
পশু শিকার (ছবি : রাকেশ সিংহ দেব) :

আরও পড়ুন -   মেদিনীপুর মেডিক্যালের মেডিসিন ওয়ার্ডে শর্ট-সার্কিট, সাময়িক আতঙ্ক ছড়ালেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে