জেলা শহর কাঁপিয়ে, ‘ঘুম’ এর ঘোর কাটিয়ে, সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় ‘গজরাজ’ এখন মেদিনীপুরের গভীর জঙ্গলে

মণিরাজ ঘোষ, মেদিনীপুর, ২৬ ফেব্রুয়ারি : মাত্র কয়েক ঘন্টার মধ্যে জেলা শহর মেদিনীপুর’কে রীতিমতো কাঁপিয়ে দিয়ে অবশেষে ‘ঘুমপাড়ানি ওষুধ’ এর প্রয়োগে, ঠিক মধ্যরাতে (রাত্রি সাড়ে বারোটা নাগাদ) কাবু হল ‘গজরাজ’। আজ ভোর ৩ টে নাগাদ বনদপ্তরের আধিকারিক ও কর্মীরা হাতিটিকে মেদিনীপুর বনবিভাগের অন্তর্গত চাঁদড়া রেঞ্জের শুকনাখালির জঙ্গলে ছেড়ে দিয়ে আসেন। এরপর, একটা লম্বা ঘুম! যদিও, প্রতিমুহূর্তে তাকে পর্যবেক্ষণে রাখার দায়িত্বে ছিলেন বনকর্মীরা এবং পশু চিকিৎসকেরা। অবশেষে, সকাল ৮ টা- ৯ টা নাগাদ ঘুম ভাঙে প্রায় পূর্ণ বয়স্ক (১৭-১৮ বছর বয়স বলে অনুমান) গজরাজের! স্বস্তির শ্বাস ফেললেন বনদপ্তরের আধিকারিক থেকে কর্মীরা। এই মুহূর্তে শুকনাখালির জঙ্গলে সে বহাল তবিয়তে বিরাজ করছে বলে জানা গেছে বনদপ্তর সূত্রে।

thebengalpost.in
গভীর জঙ্গলে গজরাজ :

মেদিনীপুর বনবিভাগের এডিএফও (ADFO) বিজয় চক্রবর্তী জানিয়েছেন, “হাতিটি এখন সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় আছে।” অন্যদিকে, গতকাল থেকে এই পুরো প্রক্রিয়ার পুরোভাগে থাকা, ভাদুতলা রেঞ্জের রেঞ্জ অফিসার পাপন মোহান্ত জানালেন, “সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় প্রায় পূর্ণ বয়স্ক হাতিটি এখন ঘোরাফেরা করছে। বনদপ্তরের পক্ষ থেকে নজর রাখা হয়েছে। দু’দুটো ঘুমের ওষুধ প্রয়োগ করায় সামান্য ঘোর আছে, আগামীকাল থেকে সেটাও কেটে যাবে। খুব ভালো লাগছে, সকলের প্রচেষ্টায় সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় শহর থেকে হাতিটিকে জঙ্গলে ফিরিয়ে দিতে পেরে।” তবে, বনদপ্তরের পক্ষ থেকে বারবার আবেদন করা হয়েছে, জঙ্গলে আগুন লাগানো বা জঙ্গলের ক্ষতি করা থেকে সাধারণ মানুষ যেন বিরত হয়! আর, এই বিষয়ে প্রশাসনকেও আরও কঠোর হওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে সংশ্লিষ্ট সমস্ত মহল থেকে।

thebengalpost.in
গভীর জঙ্গলে গজরাজ :

আরও পড়ুন -   প্রখর রৌদ্রে পাখিদের 'পিপাসা' মেটাতে উদ্যোগী পরিবেশ প্রেমী বনাঞ্চল আধিকারিক পাপন মোহান্ত