খুনের মামলায় গ্রেফতার অলিম্পিক পদকজয়ী কুস্তিগীর সুশীল কুমার

দ্য বেঙ্গল পোস্ট বিশেষ প্রতিবেদন, সুদীপ্তা ঘোষ, ২৩ মে: পর পর দুবার অলিম্পিকের মঞ্চে পদক জিতেছিলেন কুস্তিগীর সুশীল কুমার! ২০১২ সালে লন্ডন অলিম্পিকে রুপো জিতেছিলেন সুশীল কুমার এবং ২০০৮ সালে বেজিং অলিম্পিকে ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন তিনি। দিল্লির ছত্রশাল স্টেডিয়ামে ঝামেলার মধ্যে জড়িয়ে পড়েছিলেন কুস্তিগীর সুশীল কুমার। তারপর থেকেই গত ১৫ দিন ধরে গা ঢাকা দিয়েছিলেন। জলন্ধরের কাছে একটি জায়গা থেকে সুশীল কুমারকে গ্রেফতার করেছে উত্তর দিল্লির পুলিশ। খুনের মামলায় জড়িত সুশীল কুমারের এক সঙ্গী অজয় কুমারকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। গত ১৮ই মে সুশীল কুমার নয়াদিল্লির রোহিনী আদালতে আগাম জামিনের আবেদন করেন। কিন্তু, আদালত সেই আবেদন খারিজ করে দেন। একজন কুস্তিগীরের খুনের মামলায় সুশীল কুমার সহ নাম জড়ায় আরও বেশ কয়েকজন কুস্তিগীরের। এই খুনের ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করতে গেলে দেখা যায় সুশীল কুমার পলাতক। এরপরেই উত্তর দিল্লি থানার পুলিশ সুশীল কুমারের বিরুদ্ধে লুক আউট নোটিশ জারি করেন। সুশীল কুমারকে ধরিয়ে দিতে পারলে ১ লক্ষ টাকা এবং তাঁর সঙ্গীকে ধরাতে পারলে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়।

thebengalpost.in
সুশীল কুমার গ্রেফতার :

পুলিশ সূত্রে খবর, সাগর রানা নামে ২৩ বছরের একজন কুস্তিগীর, যিনি গ্রেকো রোমান এর জাতীয় জুনিয়র চ্যাম্পিয়নের ৯৭ কেজির বিভাগের বিজয়ী, তাঁর খুনের মামলাতেই লুক আউটের নোটিশ জারি হয় সুশীলের বিরুদ্ধে। গত মঙ্গলবার এই খুনের মামলায় সুশীলের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হলেও কোনোরকম প্রমাণ না থাকায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়নি। শেষপর্যন্ত ৮ মে শনিবার কিছু সিসিটিভি ফুটেজ এবং কল রেকর্ডিং পুলিশের হাতে আসায় ঘটনাটি স্পষ্ট হয় যে, এই গন্ডগোলের মূলে ছিলেন সুশীল। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সুশীলের তল্লাশি চালালেও খোঁজ পাওয়া যায়না তাঁর। এরপরেই তাঁর বিরুদ্ধে নোটিশ জারি হয়। সাগর রানার দুই বন্ধু সোনু এবং অমিত নামের দুই কুস্তিগীরও ঘটনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পরে একজনের মৃত্যুও হয়। তাঁদের বয়ানেও স্পষ্ট যে এই ঘটনার পেছনে সুশীলের হাত রয়েছে। আগেই, সুশীলের সাথে যারা জড়িত ছিল তাদের মধ্যে ভাগতু, রবিন্দর এবং প্রিন্স দালাল কে গ্রেফতার করেছিলেন দিল্লি পুলিশ। খুনের মামলার পাশাপাশি বেআইনি অস্ত্র রাখা এবং অপহরণের মামলাও দায়ের করা হয় সুশীলের বিরুদ্ধে। পুলিশ সূত্র অনুযায়ী, মডেল টাউনে সুশীলের একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন সাগর। কিন্তু কোনো ভাড়া না দেওয়ায় বরাবরই অশান্তি লেগে থাকত দুজনের মধ্যে। এরপর সাগর ওই ফ্ল্যাট ছেড়ে স্টেডিয়ামের কাছেই তাঁর এক বন্ধু সনুর সাথে থাকতে শুরু করলেও পুরনো ভাড়া মেটাননি। উপরন্তু এই নতুন ফ্ল্যাটে আসার পর থেকেই সাগর সুশীলের বিরুদ্ধে উল্টোপাল্টা কথা রটাতে থাকেন। কথা কানে যেতেই রেগে যান সুশীল। এরপর মঙ্গল বার ছত্রসল স্টেডিয়ামের বাইরে পার্কিংয়ে সাগরকে ফ্ল্যাট থেকে ডেকে আনেন প্রিন্স এবং রবিন্দর। কথা কাটাকাটি হতে হতে শেষ পর্যন্ত ব্যাপারটি মারামারিতে পৌঁছয়। সাগরকে বেসবল এবং হকিস্টিক দিয়ে মারা হয়। সাগরের বন্ধুরা এসে পৌঁছালে শুরু হয় দুই দলের মধ্যে মারামারি। এরপরে সাগর মাটিতে লুটিয়ে পড়লে পালিয়ে যান সুশীলরা। পরে সুশীলের গাড়ির সন্ধান পেলে তাতে বন্ধুক, কার্তুজ, হকিস্টিক এবং বেসবল স্টিক উদ্ধার করে বাজেয়াপ্ত করেন পুলিশ।

আরও পড়ুন -   "মাইক্রো কনটেনমেন্ট জোন তৈরি করে দ্বিতীয় ঢেউ আটকাতে হবে", প্রধানমন্ত্রীর করোনা-বার্তা, বৈঠকে অনুপস্থিত মুখ্যমন্ত্রী