কোথাও কান্না, কোথাও হাসি! শাসকদলের ‘মেরিট লিস্ট’ ঘিরে বিক্ষোভ, দলত্যাগও

দ্য বেঙ্গল পোস্ট বিশেষ প্রতিবেদন, সমীরণ ঘোষ, ৫ মার্চ: কবি‌ বলেছিলেন, জীবন মানে “কান্না-হাসির দোল দোলানো পৌষ ফাগুনের পালা!” কিন্তু, তা যে শাসকদলের প্রার্থী তালিকা ঘোষণার সঙ্গেও বিজড়িত, তা কেই বা জানত! দলের প্রার্থী তালিকায় ঠাঁয় না পেয়ে কোথাও কান্না-ক্ষোভ-বিক্ষোভ-হতাশার বহিঃপ্রকাশ ঘটল। আবার কোথাও মেরিট প্যানেলে জায়গা পেয়ে, খুশির জোয়ার! উথলে পড়ল হাসি। পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে দার্জিলিং, বীরভূম থেকে দক্ষিণ চব্বিশ পরগণা সব জায়গাতেই একই চিত্র।

thebengalpost.in
সোনালী গুহ’র কান্না :

ভাঙড়ের আরাবুল ইসলাম, সাতগাছিয়ায় বিধায়ক সোনালি গুহ, নলহাটির বিধায়ক মইনুদ্দিন শামসের মতো দীর্ঘদিনের নেতা-নেত্রীরা ক্ষোভে-কান্নায় ভেঙে পড়লেন! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একসময়ের ছায়াসঙ্গী সোনালী গুহ কাঁদতে কাঁদতে বললেন, “দীর্ঘদিন দলের সঙ্গে থাকার যোগ্য সম্মান দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল কংগ্রেস! সামনেই (৮ মার্চ) নারী দিবস। তার আগে দিদি যোগ্য সম্মান দিলেন! আমি এখনও ভাবতে পারছিনা দিদি এটা কি করে করলেন। আমি চাই দিদির শুভবুদ্ধি হোক, উনি তৃতীয়বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হন।” আর আরাবুল বললেন, “বুঝতে পেরেছি দলে আমার প্রয়োজন ফুরিয়ে এসেছে।” ক্ষোভে নিজের পার্টি অফিস ভেঙে ফেললেন তিনি। অন্যদিকে, নলহাটির বিধায়ক মইনুদ্দিন শামস দল ছাড়ারই ঘোষণা করে দিলেন। এদিকে, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার কেশিয়াড়ি তেপুনরায় প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে পরেশ মুর্মু’কে। আর, ঠিক তারপরই শতাধিক তৃণমূল কর্মী দল থেকে পদত্যাগ করল। এই তালিকায় রয়েছেন, রাজ্য যুব তৃনমূলের সম্পাদিকা কল্পনা সিট, ব্লক তৃণমূলের সহ-সভাপতি পবিত্র সিট। তাদের অভিযোগ, “বিধায়ক পরেশ মুর্মু একাধিক দুর্নীতির সাথে জড়িত রয়েছে। আমরা দুর্নীতিবাজ ও বহিরাগত বিধায়কের সাথে আর কাজ করতে পারব না। তাই এই পদত্যাগ।” অন্যদিকে, শিলিগুড়িতে ওমপ্রকাশ মিশ্রকে প্রার্থী করেছেন তৃণমূল নেত্রী। আর সেই খবর সামনে আসতেই শিলিগুড়ির দাপুটে নেতা নান্টু পাল সরাসরি বলে দিয়েছেন, “এই প্রার্থীকে নিয়ে ভোট জেতা সম্ভব নয়।”

thebengalpost.in
কেশিয়াড়িতে বিক্ষোভ :

আবার, প্রার্থী হতে পেরে কোথাও উথলে পড়ল খুশির জোয়ার! টলিপাড়া থেকে জঙ্গলমহল, একাধিক প্রার্থী’কে প্রথমবারের জন্য নির্বাচনী যুদ্ধের ছাড়পত্র দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। টলিপাড়ার জুন মালিয়া, সায়নী ঘোষ, কাঞ্চন মল্লিক, রাজ চক্রবর্তী, সায়ন্তিকা ব্যানার্জি’রা রীতিমতো উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন এবং দিদির আস্থার প্রতি যোগ্য সম্মান প্রদর্শনের আশ্বাস দিয়েছেন। জঙ্গলমহলেও নতুন প্রার্থী হিসেবে ঠাঁয় পেয়েছেন, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পরিষদের সভাধিপতি উত্তরা সিংহ হাজরা, সহ সভাপতি অজিত মাইতি, চন্দ্রকোনা পৌরসভার বিদায়ী পৌরপ্রধান অরূপ ধাড়া, ঝাড়গ্রামের বীরবাহা হাঁসদা প্রমুখরা। প্রত্যেকেই উচ্ছ্বসিত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁদের প্রতি আস্থা জ্ঞাপন করায়। অন্যদিকে, শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী তালিকার মেরিট প্যানেলে জায়গা পেয়েছেন, প্রাথমিক শিক্ষা পরিষদের সভাপতি মানিক ভট্টাচার্য। নদীয়ার পলাশিপাড়া থেকে তিনি প্রার্থী হয়েছেন। যা নিয়ে অবশ্য, নেট দুনিয়ায় হবু প্রাথমিক শিক্ষক শিক্ষিকারা দ্বিধাবিভক্ত। কেউ ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন, কেউ মুচকি হেসেছেন!

আরও পড়ুন -   রিহা চক্রবর্তী'র সমস্ত আর্জি খারিজ! সিবিআই তদন্তে সায় সুপ্রিম কোর্টের