করোনার দ্বিতীয় ঢেউ এবার শালবনীতেও! সংক্রমিত ৩ জন, মেদিনীপুর শহরে বন্ধ হল স্কুল, সবকিছুর পরও ‘মাস্ক নেই মুখে’

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ৮ এপ্রিল:করোনার ‘দ্বিতীয় ঢেউ’ এবার আছড়ে পড়ল জঙ্গলমহল শালবনীতেও! বুধবার রাতে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের করোনা রিপোর্ট অনুযায়ী জেলায় যে ৩০ জন (তারমধ্যে ১ জন মৃত ব্যক্তি) করোনা সংক্রমিত হয়েছেন গত চব্বিশ ঘণ্টায়, তার মধ্যে শালবনী’র ৩ জন। শালবনী ব্লকের কোন এলাকার জানা না গেলেও, আক্রান্তদের মধ্যে ১ জন যুবক (২৫), ১ জন মহিলা (৫৫) এবং ১ জন মধ্যবয়স্ক ব্যক্তি (৪৯) বলে জানা গেছে স্বাস্থ্য দপ্তরের বিশেষ সূত্রে। উল্লেখ্য যে, গত কয়েক মাসে জঙ্গলমহলের এই এলাকা থেকে একজনেরও করোনা আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি, তাই নিশ্চিন্তে ছিলেন জঙ্গলমহলবাসী। ‘মাস্ক’ পরাও ছেড়ে দিয়ে নিশ্চিন্তে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন! শুধু তাই নয়, “সামাজিক দূরত্ব” ভুলে গিয়ে মেলাতেও মিলিত হওয়া শুরু করে দিয়েছেন। এই যেমন, শালবনী ব্লকের পিড়াকাটা এলাকায় ৫ দিন ব্যাপি হরিণাম সংকীর্তন ও মেলা চলছে। করোনা-কারণে মাঝখানে এক বছর (২০২০) ঐতিহ্যমণ্ডিত এই মেলা বন্ধ রাখা হয়েছিল। প্রায় করোনা শূন্য পরিস্থিতিতে এবার এই মেলা আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন গ্রামবাসীরা। উন্মুখ হয়ে থাকা, মেলাপ্রিয় জঙ্গলমহলবাসী ভিড়ও জমাচ্ছেন মেলায়। ৪ দিন ইতিমধ্যে অতিবাহিতও হয়ে গেছে। এর মধ্যেই জানা গেল, শালবনীতেও ফের করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৩ জন। তবে, দুঃশ্চিন্তার বিষয় হল এটাই, বুধবার রাতেও দেখা গেল মেলায় উপস্থিত ৮ থেকে ৮০ কারুর মুখেই মাস্ক নেই! যদিও বা ২-১ জন মাস্ক পরে আসছেন, বাকিদের মুখে মাস্ক নেই দেখে লজ্জায় খুলে ফেলছেন তাঁরাও! এদিকে, করোনা বিভাগ প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আজ থেকে নতুন করে শালবনী সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে তৃতীয় ও চতুর্থ তলে (HDU Unit এর ৫০ টি বেড) করোনা বিভাগ চালু করা হচ্ছে বলে জানা গেছে স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে। তবে, এও জানা গেছে পৃথক সিঁড়ি বা লিফ্ট ব্যবহার করা হবে করোনা সংক্রমিতদের জন্য। সোমবার জেলা টাস্ক ফোর্সের বৈঠকে স্বাস্থ্য আধিকারিকদের উপস্থিতিতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জেলাশাসক ডঃ রশ্মি কমল।

thebengalpost.in
শালবনী সুপার স্পেশালিটি ফের করোনা হাসপাতাল রূপে পথ চলা শুরু করতে চলেছে :

অন্যদিকে, জেলা টাস্ক ফোর্সের বৈঠকে এও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের HDU-SARI ইউনিট যেখানে চালু করা হয়েছে, সেখানে এই মুহূর্তে ৩০ টি শয্যা থাকলেও, দ্রুত ওই বিভাগে ১০০ টি শয্যার জন্য উপযুক্ত পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে। এজন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পূর্ত (PWD) বিভাগকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। ঘাটাল সুপার স্পেশালিটি (মহকুমা হাসপাতাল) ও খড়্গপুর মহাকুমা হাসপাতালের কোভিড বিভাগ গুলিও শুরু করা হচ্ছে। এছাড়াও, জেলা টাস্ক ফোর্সের বৈঠকে এও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, প্রয়োজনে আয়ুশ হাসপাতাল (আবাস, খাসজঙ্গল) ও চালু করা হবে। আপাতত এটিকে স্ট্যান্ড বাই (জরুরি প্রয়োজনের জন্য) হিসেবে রাখা হচ্ছে। অন্যদিকে, ভিন রাজ্য থেকে আসা শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের জন্য নাকা চেকিং ফের শুরু করা হবে। সেক্ষেত্রে, বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থাও চালু করা হতে পারে বলে জানা গেছে প্রশাসন সূত্রে। বৈঠকের পর জেলাশাসক ডঃ রশ্মি বলেন, “জেলায় করোনা নমুনা সংগ্রহ আরও বাড়ানো হচ্ছে। হাসপাতালগুলিতেও সব রকম ব্যবস্থা করা হয়েছে। খড়্গপুর এবং ঘাটাল মহকুমা হাসপাতালের পাশাপাশি মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এবং শালবনী করোনা হাসপাতালেও উন্নত চিকিৎসার সবরকম ব্যবস্থা প্রস্তুত। অন্যান্য সমস্ত ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হচ্ছে।” এদিকে, গত ৩ দিনে জেলায় ৭৬ জন (৩৫,১১ ও ৩০) করোনা সংক্রমিত হয়েছেন! এ নিয়ে জেলার উপ মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ সৌম্যশঙ্কর সারেঙ্গী জানিয়েছেন, “এখনই আতঙ্কিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি না হলেও, অবিলম্বে কঠোর সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। নাহলে, বিপদ বাড়বে। ভ্যাকসিনেশন চলছে। ৪৫ বছরের উর্ধ্বে যাঁরা আছেন দ্রুত ভ্যাকসিন নিয়ে নিন। জেলার ২৬১ টি কেন্দ্র থেকে ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে। মাস্ক ছাড়া বাইরে বেরোবেন না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমস্ত ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে, আপনারাও সহযোগিতা করুন।”

thebengalpost.in
আপাতত বন্ধ রাখা হল বিদ্যাসাগর বিদ্যাপীঠ বালিকা বিদ্যালয় :

এসবের মধ্যেই, করোনা সংক্রমণের কারণে, মেদিনীপুর শহরের বিদ্যাসাগর বিদ্যাপীঠ বালিকা বিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিলেন স্কুল কর্তৃপক্ষ। বুধবার নোটিস দিয়ে স্কুল আপাতত বন্ধ করে দেওয়া হয়। এক স্কুলকর্মী ও তাঁর পরিবারের করোনা সংক্রমণের খবর পেয়ে স্কুল বন্ধ রাখার নোটিস ঝোলান কর্তৃপক্ষ। এমনকি, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে, নিভৃতবাসেও পাঠানো হয় স্কুলের অন্যান্য কর্মী এবং শিক্ষিকাদের। স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, নির্বাচন হয়ে যাওয়ার পরেই খুলেছিল স্কুল। সেদিনই ওই কর্মী স্কুলে আসেন। তাঁর পরিবারের সদস্যদের করোনা হয়েছে জানতেই, স্কুল বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। স্কুলের পরিচালন সমিতির সভাপতি আব্দুল ওয়াহিদ বলেন, “এক স্কুলকর্মীর করোনা সংক্রমিত হওয়ার খবর আসার পরেই স্বাস্থ্য দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। কোনও শিক্ষিকা বা স্কুলের অন্য কর্মী তাঁর সংস্পর্শে এসেছিলেন কি না, তার খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে। তবে তার আগে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সবাইকেই নিভৃতবাসে থাকতে বলা হয়েছে।” স্কুলে আপাতত ক্লাস চলছিল নবম – দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়াদের। যদিও তারা কেউই ওই স্কুল কর্মীর সংস্পর্শে আসেনি বলেই স্কুল সূত্রে জানানো হয়েছে। তবে, এতকিছুর পরও ‘সচেতন’ ও ‘শিক্ষিত’ শহরবাসীর মুখে মাস্কের দেখা নেই!

thebengalpost.in
নোটিশ বা বিজ্ঞপ্তি :

আরও পড়ুন -   প্রতিষ্ঠা দিবসে বৃদ্ধাশ্রমের আবাসিকদের হাতে উপহার এবং দলের পুরানো কর্মীদের সংবর্ধনা দিয়ে স্বাতন্ত্র্যের পরিচয় মেদিনীপুরের তৃণমূল কর্মীদের