‘ভগ্ন হৃদয়ে’, অশ্রু বিসর্জনে ‘সিদ্ধান্ত’ জানালেন রাজীব! বাংলা জুড়ে তৃণমূলকর্মীদের আক্ষেপ, “একজন সৎ সৈনিককে হারালাম”

বিজ্ঞাপন

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, কলকাতা, ২২ জানুয়ারি: “আড়াই বছর আগেই এরকম সিদ্ধান্ত প্রায় নিয়ে ফেলেছিলাম”, রাজভবন থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বললেন রাজ্যের সদ্য প্রাক্তন মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। তখন তিনি রাজ্যের সেচমন্ত্রী ছিলেন। তাঁকে না জানিয়েই, কোনোরকম আলোচনা না করেই, সেচমন্ত্রীর দপ্তর কেড়ে নেওয়া হয়েছিল বলে তিনি ব্যথিত হৃদয়ে আজ জানালেন। তিনি বললেন, “তৃণমূল ভবনে কর্মীদের সঙ্গে বসে টিভিতে এই ব্রেকিং নিউজ দেখতে হয়েছিল আমাকে! অত্যন্ত দুঃখ পেয়েছিলাম দলনেত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী একবার ফোন করে সৌজন্য দেখানোর প্রয়োজনও মনে করেননি! তখনই একবার ভেবেছিলাম, এরকমই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি!” সেই সময় অনেকেই তাঁকে নিরস্ত করেন এবং পুনরায় তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে নিজের কাজও শুরু করেন বলে জানিয়েছেন। তবে, এদিন তিনি বারবার মুখ্যমন্ত্রী ও দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি নিজের আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন, তাঁকে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার জন্য, বিভিন্ন সময়ে তাঁকে নানা দায়িত্ব দেওয়ার জন্য। রাজীব বললেন, “যখনই যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, নিষ্ঠার সঙ্গে, আন্তরিকতার সঙ্গে তা পালন করার চেষ্টা করেছি। বিভিন্ন দপ্তরের মন্ত্রি থাকাকালীন শুধুমাত্র মানুষের জন্য কাজ করার চেষ্টা করেছি, জানিনা কতটা সফল হয়েছি, তা মানুষই বিচার করবেন। তবে আমাকে সুযোগ দেওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রী ও আমার দলনেত্রীর কাছে চিরকৃতজ্ঞ থাকব।” এরপরই কান্নায় ভেঙে পড়েন রাজীব! তিনি বলেন, “এই সিদ্ধান্ত যে শেষ পর্যন্ত নিতে হবে তা কখনোই ভাবিনি। আমি ব্যথিত। ভগ্ন হৃদয়ে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছি। গত কয়েক মাসে আমাদের কয়েকজন নেতার ব্যবহারে সত্যিই আমি আহত। সেই আঘাত আর সহ্য করতে পারলাম না! আমাকে কেউ ভুল বুঝবেন না! যদি কাউকে কোনো আঘাত করে থাকি দুঃখিত!” এভাবেই, অশ্রুসজল নয়নে সাংবাদিক দের সাথে কথা বলা শেষ করেন তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম স্বচ্ছ ভাবমূর্তির, সৎ ও নিষ্ঠাবান এই সৈনিক।

thebengalpost.in
রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়:

বিজ্ঞাপন
[ আরও পড়ুন -   ছাড়লেন বিধায়ক পদ, দল ছাড়ার আগেও 'দলনেত্রী'কে অশ্রুসিক্ত নয়নে শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা 'ব্যতিক্রমী' রাজীবের ]

রাজীবের মন্ত্রিত্ব ত্যাগে এবং বিজেপি’তে যাওয়ার আশঙ্কায় মর্মাহত আপামর তৃণমূল নেতা-কর্মীরা। তাঁরা একবাক্যে স্বীকার করছেন, “একজন সৎ সৈনিককে হারালাম!” বাস্তবিক অর্থে তৃণমূল কংগ্রেসের একমাত্র বিধায়ক বা মন্ত্রী, যাঁকে বিরোধীরাও সমীহ করেন এবং স্বচ্ছ ভাবমূর্তির বলে স্বীকার করেন। তাঁকে বিজেপি তে স্বাগত জানিয়েছেন, দিলীপ ঘোষ, কৈলাস বিজয়বর্গীয় রা। শুভেন্দু অধিকারী পূর্ব মেদিনীপুরের দীঘার রোড শো থেকে বলেছেন, “মেরুদন্ডটা ওর সোজা। পড়াশোনা জানা শিক্ষিত ছেলে। ওর পরিবারের সঙ্গে আমাদের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক।” শুভেন্দু এও বলেন, “শুধু দেখতে থাকুন, নির্বাচন পর্যন্ত। লম্বা লিস্ট।” তৃণমূল কংগ্রেসের সৌগত রায় যদিও মন্তব্য করেছেন, “দপ্তরের কাজ করছিল না। দল অনেক সময় দিয়েছে। অনেক বোঝানো হয়েছে। শেষ পর্যন্ত যদি এই সিদ্ধান্ত নেয়, কিছু করার নেই। চলে গিয়ে ভালোই হয়েছে।” শুধু রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ বা জনসাধারণ নয়, তৃণমূল কংগ্রেসও ধরে নিয়েছে রাজীবের দল ছাড়া এবং বিজেপি’তে যাওয়া মোটামুটি নিশ্চিত। আর রাজীব স্পষ্ট করলেন, “আমি যতদিন থাকব মানুষের জন্য কাজ করে যাব। জানিনা কোন প্ল্যাটফর্মে থাকব, তবে যে প্ল্যাটফর্মেই থাকিনা কেন মানুষের জন্যই কাজ করে যাব। আশা করছি আগামীদিনেও মানুষের উৎসাহ, সমর্থন পাব।” আগামীকাল, রাজ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আসছেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু’র ১২৫ তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে। তার আগেই রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিত্ব ত্যাগ তাৎপর্যপূর্ণ হলেও, প্রধানমন্ত্রী হাত ধরে নয়, খুব সম্ভবত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী’র হাত ধরে আগামী ৩০ বা ৩১ জানুয়ারি বিজেপিতে যোগদান করতে চলেছেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়, বৈশালী ডালমিয়ারা।

[ আরও পড়ুন -   CBI এর সমনেও 'নারুলা'! প্রথম 'খেলা'য় জিতল 'শান্তিকুঞ্জ', 'মাথা নত' না করার বার্তা 'শান্তিনিকেতন' থেকে ]
Advertisements

Advertisements