প্রশাসনের শত প্রচেষ্টাতেও খড়্গপুরের রাবণ দহনে সচেতনতা উধাও, মেদিনীপুরের গান্ধী ঘাটে প্রতিমা নিরঞ্জন নিয়ম মেনে

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, খড়্গপুর ও মেদিনীপুর, ২৭ অক্টোবর:পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার খড়্গপুর শহরের ঐতিহ্যমণ্ডিত অনুষ্ঠান ‘রাবণ দহন’ বা ‘রাবণ বধ’ বা ‘দশেরা’ (লৌকিক ভাষায়, রাবণ পোড়া) অনুষ্ঠিত হয়, বিজয়া দশমী’র দিন। খড়্গপুর শহরের নিউ সেটেলমেন্ট এলাকার রাবনপোড়া মাঠে, দশেরা উৎসব কমিটির আয়োজনে এই রাবণ দহন অনুষ্ঠিত হয়। করোনা আবহের মধ্যেও এই অনুষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়নি, বরং সচেতনতার মধ্য দিয়ে তা উদযাপন করার সমস্ত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

thebengalpost.in
দূরত্ব বজায় রেখেই বসানো হয়েছিল মানুষজনকে :

thebengalpost.in
দূরত্ব উধাও আতসবাজির প্রর্দশন শুরু হতেই :

প্রশাসনের তরফে সকল থেকেই এই অনুষ্ঠান নিয়ে সাজো সাজো রব ছিল! বিধায়ক (MLA) প্রদীপ সরকার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (Adtnl SP) কাজী সামসুদ্দিন আহমেদ, মহকুমাশাসক (SDO) বৈভব চৌধুরী, মহকুমা পুলিশ আধিকারিক (SDPO) সুকোমল কান্তি দাসের নেতৃত্বে নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং দূরত্ব বজায় রেখে ‘রাবণ দহন’ দর্শনের ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা হয়েছে দফায় দফায়। অন্তত হাজার খানেক মানুষ যাতে দূরত্ব বজায় রেখে এই আকর্ষণীয় অনুষ্ঠান উপভোগ করতে পারে সেই ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তবে শেষমেশ মানুষের আবেগের কাছে সমস্ত দূরত্ব আর স্বাস্থ্য বিধি ভেঙে চুরমার হয়ে গেল! কয়েক হাজার মানুষের সমাগমে স্বাস্থ্য সচেতনতা শিকেয় উঠলো শেষমেশ। প্রসঙ্গত, এবারও প্রায় ৫০ ফুটের বেশি উচ্চতার রাবণ তৈরি করা হয়েছিল। রাবণে আগুন লাগান জেলাশাসক ডঃ রশ্মি কমল।

thebengalpost.in
খড়্গপুরে রাবণ দহন ঘিরে মানুষের উৎসাহ :

thebengalpost.in
রাবণ দহন (খড়্গপুর) :

অপরদিকে, নিয়মবিধি মেনে দশমীর দিন (২৬ অক্টোবর) থেকেই প্রতিমা নিরঞ্জন শুরু হয়ে গেছে পশ্চিম মেদিনীপুরেও। আজ এবং আগামীকালও চলবে প্রতিমা নিরঞ্জন। নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে প্রতিমা নিরঞ্জনের উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে এবার। রাজ্য সরকার যেমন করোনা’র কারণে এবার পুজো কার্নিভাল বন্ধ রেখেছে, ঠিক তেমনই প্রতিটি পুজো উদ্যোক্তাদের এবার পোসেশন (Possession) বা জাঁকজমকপূর্ণ বিসর্জন করতে নিষেধ করা হয়েছিল। হাইকোর্টের নির্দেশও ছিল তেমনই। মেদিনীপুর শহরের গান্ধী ঘাটেও নিয়ম মেনে সোমবার বিকেল থেকে প্রতিমা বিসর্জন বা নিরঞ্জন শুরু হয়।

thebengalpost.in
গান্ধী ঘাটে প্রতিমা নিরঞ্জন :

thebengalpost.in
মেদিনীপুর শহরের গান্ধী ঘাটে :

সমস্ত বিষয়টি খতিয়ে দেখতে উপস্থিত হয়েছিলেন, মহকুমাশাসক তথা পৌর প্রশাসক দীননারায়ণ ঘোষ। দূরত্ব বজায় রেখে, ক্রেনের সাহায্যে প্রতিমা বিসর্জন করা হয় কংসাবতী নদীর জলে। বিদায় বেলায় সেই বেদনাবিধুর দৃশ্যের সাক্ষী হতে শহরবাসীরা ভিড় জমিয়েছিলেন। তবে, অন্যান্যবারের মতো বিপুল জনসমাগম হয়নি। সচেতনতা বজায় কিছু মানুষ উপস্থিত ছিলেন। প্রশাসনের তরফেও উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল।

thebengalpost.in
খড়্গপুরে জেলাশাসক ডঃ রশ্মি কমল, খড়্গপুরের মহকুমাশাসক বৈভব চৌধুরী, জেলা সহ সভাধিপতি অজিত মাইতি প্রমুখ :

thebengalpost.in
বিসর্জন শুরু হওয়ার আগে মেদিনীপুরে গান্ধী ঘাট পরিদর্শনে মেদিনীপুর সদরের মহকুমাশাসক দীননারায়ণ ঘোষ :

আরও পড়ুন -   কয়েকমাস পরেই বিয়ের পিঁড়িতে বসার কথা ছিল রাজেশের, স্ত্রী-কন্যাকে নিয়ে তাড়াতাড়ি ফিরে আসার কথা দিয়েছিলেন বিপুল, শোকস্তব্ধ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী