“এবার খেলা খতম হবে” মোদির হুঙ্কার খড়্গপুর থেকে, “বাংলা ভাষায় ২ মিঃ কথা বলতে পারবেনা” ডেবরা-সবং থেকে চ্যালেঞ্জ অভিষেকের, “খেজুরিতে আসতে দিতনা গদ্দররা” শুভেন্দু’র গড়ে মমতা

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ২১ মার্চ: তুঙ্গে প্রচার। ৫ বছরের জন্য জনসেবার দায়িত্ব ঘাড়ে তুলে নিতে বদ্ধপরিকর সব দলের নেতা-নেত্রীরাই! জিতে যাওয়ার পর জনগণের কি হবে, সেই প্রশ্ন তাই এখন অবান্তর। আপাতত শুধু ৫ বছরের জন্য সুযোগ চাই, সরকার চালানোর! খড়্গপুরের সভায় গতকাল স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কাতর কন্ঠে সেই আবেদনই রাখলেন- “বামেদের ৩৪ বছর দেখেছেন, তৃণমূলের ১০ বছর দেখেছেন, আমাদের শুধু ৫ টা বছর সময় দিন!” ‘সোনার বাংলা’ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিলেন প্রধানমন্ত্রী। মেদিনীপুরের মন জয় করতে, কেশপুর ব্লকের আনন্দপুরের বিখ্যাত ঝাড়েশ্বর মন্দির থেকে জঙ্গলমহল গোয়ালতোড়ের সর্বমঙ্গলা মন্দির, হেমচন্দ্র কানুনগো থেকে বীরেন্দ্রনাথ শাসমল সবকিছুই স্মরণ করলেন। আঞ্চলিক ভাষায় ডাক্তারি, ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ানোর কথা বললেন নতুন শিক্ষানীতি অনুযায়ী। আর, ভাঙা ভাঙা বাংলায় বললেন, “দিদির পাঠশালায় সিলেবাস তোলাবাজি আর কাটমানি…এবার খেলা খতম হবে, বিকাশ শুরু হবে।” তৃণমূল সরকারের আমলে শিক্ষক নিয়োগের ব্যর্থতা’র কথা তুলে ধরলেও, দেশে প্রতি বছর ২ কোটি কর্মসংস্থানের প্রসঙ্গ অবশ্য তোলেননি প্রধানমন্ত্রী। পেট্রোলিয়াম সহ দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির বিষয়েও দিশা দেখাতে পারেননি ‘মিনি ইন্ডিয়া’ খড়্গপুর থেকে!

thebengalpost.in
খড়্গপুরের সভায় প্রধানমন্ত্রী :

অন্যদিকে, পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরা বিধানসভার প্রার্থী প্রাক্তন IPS হুমায়ূন কবীরের সমর্থনে গতকাল একটি রোড শো এবং মানস রঞ্জন ভূঁইয়া’র সমর্থনে জনসভাতে অংশগ্রহণ করতে উপস্থিত হয়েছিলেন, এই মুহূর্তে তৃণমূল কংগ্রেসের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রীতিমতো জনপ্লাবনে ভেসে গিয়ে উচ্ছ্বসিত যুব তৃণমূল সভাপতি অভিষেক তাঁর স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের নানা প্রকল্প, অনুদানের কথা তুলে ধরলেন, স্লোগান দিলেন। সঙ্গে, সদ্য প্রকাশিত ইস্তেহারে মহিলাদের ‘হাত খরচ’ (সাধারণ ৫০০, সংরক্ষিত ১০০০) দেওয়ার কথাও বললেন। সর্বভারতীয় দল বিজেপি এখনও ইস্তেহার প্রকাশ করতে না পারায় তীব্র কটাক্ষ করলেন! নেত্রীকে অনুসরণ করে অভিষেকও ‘বহিরাগত’ বিজেপি নেতাদের ‘বাংলা’ বলা’কে বিদ্রুপ করলেন। বললেন, “কোনও কাগজ না দেখে মঞ্চের মাঝখানে দাঁড়িয়ে মাত্র ২ মিঃ একটানা বাংলা বলে দেখান! আমি ভারতবর্ষের যেকোনও রাজ্যে গিয়ে ১ ঘন্টা টানা হিন্দিতে কথা বলব।” এদিনও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার মনীষীদের স্মরণ করেছেন, তবে শালবনীর সভায় যে ‘ভুল’ করেছিলেন (‘বর্ণপরিচয়’ এর স্রষ্টা মাতঙ্গিনী হাজরা!) তা অবশ্য করেননি!

thebengalpost.in
সবং এর সভায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় :

অপরদিকে, গতকাল শুভেন্দু অধিকারী’র গড় হিসেবে পরিচিত হলদিয়া ও খেজুরী’তে জনসভা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দুই সভাতেই বিজেপি’কে তীব্র ভাষায় কটাক্ষ করার সাথে সাথে, দল ছেড়ে যাওয়া ‘গদ্দর’ দের আক্রমণ করলেন। বললেন, “অন্ধভাবে বিশ্বাস করেছিলাম। কিন্তু, যখনই নন্দীগ্রাম, খেজুরীতে আসতে চেয়েছি, বলেছে যাওয়ার দরকার নেই!” শুধু তাই নয়, খেজুরীর সভায় তিনি জেলবন্দী পাঁশকুড়ার প্রাক্তন পৌরপ্রধান আনিসুর রহমানকেও স্মরণ করলেন। বললেন, “যে ছেলেটা আমাকে বাইকে চাপিয়ে নিয়ে গিয়েছিল, তাকে জেলে ভরে রেখে দিয়েছে। যাকেই সহ্য করতে পারেনা, জেলে ভরে দেয়!” মুখ্যমন্ত্রী’কে অবশ্য কেউ প্রশ্ন করেননি, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মন্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও এই ‘অন্যায়’ (যদিও কোর্টের রায়ে জেলবন্দী) আপনি মেনে নিয়েছিলেন কেন!

thebengalpost.in
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় খেজুরী’র সভায় :

thebengalpost.in
বিজ্ঞাপন (Advertisement) :

আরও পড়ুন -   পশ্চিম মেদিনীপুরের ৩ জন এসডিও ই একসাথে বদলি! ২ জন এডিএম সহ বদলি একাধিক আধিকারিক