শালবনীর খোকা সিং খুনে অসম থেকে গ্রেপ্তার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত রাজকুমার, জাল গোটাচ্ছে পুলিশ

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ২৮ ফেব্রুয়ারি: পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার শালবনীর চকতারিনী’র বাসিন্দা, পেশায় ঠিকাদার ও নামকরা ব্যবসায়ী অরবিন্দ সিংহ রায় (ওরফে, খোকা সিং) খুনে আরও একজনকে গ্রেফতার করল পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিশ। এই নিয়ে মোট তিনজনকে গ্রেফতার করা হল। ২৫ শে ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) রাতে অসম থেকে গ্রেফতার করা হয়, খড়্গপুর শহরের বড় আয়মার বাসিন্দা রাজকুমার যাদবকে। জানা গেছে, খোকা সিং’কে নৃশংস ভাবে খুনের ঘটনায় রাজকুমার যাদব’ই ছিল প্রধান হত্যাকারী ও অভিযুক্ত। শুক্রবার (২৬ ফেব্রুয়ারি), পুলিশ তাকে কোর্টে তোলে এবং নিজেদের হেফাজতে নেয়। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, গত, ১৬ ই ফেব্রুয়ারি গ্রেফতার হওয়া, খড়্গপুর পৌরসভার অন্তর্গত বড় আয়মার বাসিন্দা জয়কিসান সিংহ এবং ভগবানপুরেরে বাসিন্দা অভিষেক শর্মাকে খুনের ঘটনায় যুক্ত করেছিল বা কন্ট্রাক্ট দিয়েছিল এই রাজকুমারই। তবে তিনজনই ভাড়াটে খুনি। ঘটনার মূল চক্রান্তকারী বা রাজকুমার’কে খুনের কন্ট্রাক্ট দেওয়া প্রধান অভিযুক্তকে এখনও খুঁজছে পুলিশ।

thebengalpost.in
ধৃত রাজকুমার যাদব :

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার শালবনী ব্লকের শালবনী (চকতারিনী)’র বাসিন্দা তথা এলাকার জনপ্রিয় ব্যবসায়ী ও নামকরা ঠিকাদার অরবিন্দ সিংহ রায় (খোকা সিং) এর রক্তাক্ত ও নলি-কাটা মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছিলেন গত ৭ ই ফেব্রুয়ারি, রবিবার গভীর রাতে। ৬ নং জাতীয় সড়কের উপর, ডেবরা টোল প্লাজার সামনে বুড়ামাল এলাকায়, একটি অভিজাত চারচাকা গাড়ির মধ্য থেকে পুলিশ তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করে। ৮ ই ফেব্রুয়ারি, সোমবার সকালে খোঁজ নিয়ে পুলিশ তাঁর পরিচয় জানতে পারে এবং তদন্ত শুরু করে। খোকা সিং খুনের রহস্য বিভিন্ন কারণে ক্রমেই ঘনীভূত হয়েছে। জেলা পুলিশ সুপার দীনেশ কুমার সম্প্রতি সাংবাদিক বৈঠকে রহস্য উন্মোচনের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন এবং জানিয়েছিলেন একাধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে, খুব শীঘ্রই দোষীদের গ্রেফতার করা হবে। অবশেষে, খুনের ৯ দিনের মাথায়, গত ১৬ ই ফেব্রুয়ারি দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর, তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও ৯ দিন পরে (২৫ শে ফেব্রুয়ারি) পুলিশ গ্রেফতার করল খুনের ঘটনায় অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত বা পান্ডা রাজকুমার যাদব’কে। জানা গেছে, শালবনীর সুপরিচিত ব্যবসায়ী এবং বিশিষ্ট সমাজসেবী খোকা সিং মেদিনীপুরের এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রায় ৩০-৪০ লক্ষ টাকা পেতেন। খুনের পেছনে এই আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি জড়িয়ে থাকতে পারে বলছ প্রাথমিক ভাবে অনুমান করা হচ্ছে। তদন্তে এই সূত্র ধরে এগিয়ে পুলিশ জানতে পেরেছে, খড়্গপুরের ‘সুপারি কিলার’ রাজকুমার যাদব’কে খুনের কন্ট্রাক্ট বা বরাত দেয় কেউ বা কারা। রাজকুমার অর্থের বিনিময়ে এই ঘটনায় কাজে লাগায় অভিষেক ও জয়কিষাণকে। এরপর, রাজকুমার অসমে পালিয়ে গিয়ে এক সঙ্গিনীর জুটিয়ে ফেলে। তার সঙ্গেই ছিল সে। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে, পুলিশ সেখান থেকেই গ্রেফতার করে রাজকুমার’কে। তবে, এখনও অধরা খুনের কন্ট্রাক্ট বা বরাত দেওয়া মূল অভিযুক্ত। পুলিশ যেভাবে তদন্তে এগোচ্ছে, হয়তো খুব শীঘ্রই মূল অভিযুক্ত’কে গ্রেফতার করা সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন -   শালবনীর নামকরা ব্যবসায়ী খোকা সিং এর রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধার ডেবরার কাছে জাতীয় সড়কে, নৃশংস ভাবে খুনের অভিযোগ