করোনা মুক্ত হয়েও অকাল বিদায় শালবনীর জনপ্রিয় লোকশিল্পী বিশ্বজিতের, প্রবল সংক্রমণে কাবু সারসবেদিয়া গ্রামে BMOH এর নেতৃত্বে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবির

thebengalpost.in
অকালেই চলে গেলেন বিশ্বজিৎ মাহাত :

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ২৯ মে: কোভিডের থেকেও এবারের এই দ্বিতীয় ঢেউয়ে অধিক বিপজ্জনক প্রতিপন্ন হচ্ছে ‘কোভিড পরবর্তী শারীরিক জটিলতা’ বা পোস্ট কোভিড কমপ্লিকেশনস (Post Covid Complications)। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার শালবনী ব্লকের চাঁইপুর গ্রামের বাসিন্দা, পেশায় লোকশিল্পী এবং এলাকার জনপ্রিয় একজন সমাজসেবক বিশ্বজিৎ মাহাত’র অকাল প্রয়াণের জন্যও দায়ী হয়ে থাকল এই কোভিড পরবর্তী শারীরিক জটিলতা! বৃহস্পতিবার রাতে মেদিনীপুর শহরের উপকণ্ঠে সেন্ট যোসেফ হাসপাতালে পরলোকগমন করেন এলাকার সুপরিচিত লোকশিল্পী বিশ্বজিৎ। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে মেদিনীপুর আসন থেকে নির্দল হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও করেছিলেন একদা শাসকদলের সক্রিয় কর্মী বিশ্বজিৎ। সূত্রের খবর অনুযায়ী, মে মাসের প্রথম সপ্তাহে করোনা আক্রান্ত হয়ে শালবনী করোনা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন বিশ্বজিৎ। প্রায় ১৩-১৪ দিন চিকিৎসাধীন থেকে, করোনা মুক্ত হয়ে বাড়িও ফিরে গিয়েছিলেন সম্প্রতি। কিন্তু, বাড়ি ফেরার ২-৩ দিন পরেই শারীরিক অস্বস্তি অনুভব করেন তিনি। পরিবারের লোকেরা শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন তাঁকে। সেখানে ২-৩ দিন চিকিৎসার পরও, স্বাস্থ্যের উন্নতি না হওয়ায়, তাঁকে সেন্ট যোসেফ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ২৬ শে মে। কিন্তু, কোনভাবেই শেষ রক্ষা হয় না! ২৭ শে মে রাতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বিশ্বজিৎ মাহাত (৪৫)। তাঁর মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ পরিবার-পরিজন থেকে শুরু করে, অসংখ্য শুভানুধ্যায়ী!

thebengalpost.in
অকালেই চলে গেলেন বিশ্বজিৎ মাহাত :

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকার একজন পরোপকারী মানুষ হিসেবে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন বিশ্বজিৎ। একসময় শাসকদলের সক্রিয় কর্মী হিসেবে অনেক কাজও করেছেন। কিন্তু, বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে মনোমালিন্যের কারণে, নির্দল হিসেবে মেদিনীপুর বিধানসভা আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। নির্বাচনে হেরে গেলেও এলাকাবাসীর কাছে লোকশিল্পী বিশ্বজিতের জনপ্রিয়তা একটুও কমেনি! দিনকয়েক আগেও কেউ ভাবতে পারেননি সেই বিশ্বজিৎ তাদের সকলকে ছেড়ে এভাবে চলে যাবেন। আরও মর্মস্পর্শী ঘটনা যে, বিশ্বজিতের মৃত্যুতে তাঁর আট-দশ বছরের একমাত্র পুত্র ‘অনাথ’ (পিতৃ-মাতৃ হারা) হয়ে গেল! কারণ, বছর পাঁচেক আগেই বিপত্নীক হয়েছিলেন বিশ্বজিৎ। সব দুঃখ ভুলে সন্তানকে মানুষ করছিলেন। কিন্তু, তাঁর এই অকাল-বিদায়ে এই বয়সেই পিতৃমাতৃহীন হল ছোট্ট এই ছেলেটি! পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা (বিশ্বজিতের দাদা-বৌদি সহ বাকিরা) তাকে আপন করে নিলেও, কোভিডের এই নিদারুণ আঘাত এই বয়সের একটি ছোট্ট বালককে যে “সব হারানোর বেদনা” দিয়ে গেল, তা কোনো শোকবাক্য বা সান্ত্বনার বাণীতেই পূরণ হওয়ার নয়! এলাকার একজন সমাজসেবী তথা শালবনী পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সন্দীপ সিংহ জানিয়েছেন, “খুবই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা! প্রথম থেকেই বিশ্বজিৎ ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে আমরা পরিচিত। এই দুঃসংবাদে আমরা শোকস্তব্ধ! পিতৃমাতৃহীন ওই বালকের পাশে থাকার যথাসাধ্য চেষ্টা করব।”

thebengalpost.in
সারসবেদিয়া গ্রামে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবির :

এদিকে, শালবনী ব্লকের বুড়িশোল গ্রামের পর, আরও যে সকল গ্রামে গোষ্ঠী সংক্রমণ ছড়িয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম— পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার এই শালবনী ব্লকেরই সারসবেদিয়া গ্রাম। গত কয়েকদিন আগে থেকেই গ্রামের একাধিক বাসিন্দার জ্বর-সর্দি’র উপসর্গ দেখা দেওয়ায় এবং ২ জন প্রৌঢ়ের সম্প্রতি মৃত্যু হওয়ায়, ব্লক স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষ থেকে ২-৩ দিন আগেই করোনা পরীক্ষা শিবিরের আয়োজন করা হয়েছিল। তাতে ৬৯ জনের মধ্যে ১৩ জনের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। এরপরই, শুক্রবার শালবনীর ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক (BMOH) ডাঃ নবকুমার দাস নিজে উপস্থিত থেকে সকলের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন এবং প্রত্যেককে প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র প্রদান করেন। তিনি জানিয়েছেন, “প্রত্যেকেই স্বল্প উপসর্গ যুক্ত। প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র দেওয়া হয়েছে।” শালবনী পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মিনু কোয়াড়ি জানিয়েছেন, “গ্রামের প্রত্যেককেই বাড়িতে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেকোনো প্রয়োজনে আমরা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেব।”

আরও পড়ুন -   পেনশন ও ভাতার টাকা উধাও! "ব্যাঙ্কিং জালিয়াতি"র শিকার মেদিনীপুর শহরের অসহায় পরিবার, অতিমারীর চরম সঙ্কটে প্রশাসনের মুখাপেক্ষী