নগেন্দ্রকে মনে করালেন নিত্যানন্দ! সায়নীর চোখে চোখ রেখে বললেন, “মাই নেম ইজ এন. মণ্ডল”

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, আসানসোল, ২৭ এপ্রিল: ভোট সপ্তমী আপাত-শান্তিপূর্ণ ভাবে মিটলেও, দিনটি উল্লেখযোগ্য হয়ে থাকল, রাজ্য পুলিশের একজন‌ এ এস আই (Assistant Sub-Inspector) এর চোখে চোখ রেখে অন্যায়ের প্রতিবাদ করার জন্য। সেটাও আবার শাসকদলের তারকা প্রার্থীর বিরুদ্ধে! ওই ASI হলেন, নিত্যানন্দ মণ্ডল (এন. মণ্ডল) এবং ওই তারকা হলেন আসানসোল দক্ষিণের তৃণমূল প্রার্থী সায়নী ঘোষ। ঘটনাক্রমে জানা যায়, সোমবার বার্ণপুরের শান্তিনগর সংলগ্ন সোনামাটি স্কুলের বাইরে তৃণমূল প্রার্থী সায়নীর সঙ্গে বচসা বাধে রাজ্য পুলিশের। সায়নীর অভিযোগ, তাঁর দলের ছেলেদের উপর বেআইনিভাবে পুলিশ লাঠিচার্জ করেছে। পুলিশের অভিযোগ, সোনামাটি স্কুলের বুথে এলাকার বিদায়ী কাউন্সিলর বিনোদ যাদব বুথ য্যামের চেষ্টা করছিল। তাই, সায়নীর সঙ্গে বিনোদ বুথের ভিতরে ঢুকে পড়লে কেন্দ্রীয় বাহিনী তাঁকে বের করে দেয়। এরপরই বুথের বাইরে এসে সায়নী রাজ্য পুলিশের দিকে তেড়ে যান এবং অভিযোগ করেন, তাঁর দলের ছেলেদের উপর লাঠিচার্জ করা হয়েছে। প্রত্যুত্তরে এএসআই নিত্যানন্দ মণ্ডল বলেন, “আপনি কে?” উত্তর আসে, “আমি প্রার্থী”। তারপর নিত্যানন্দ বলেন, “আপনার সঙ্গে এত লোক কেন? আপনি আগে ওদের সরান। মাই নেম ইজ এন মণ্ডল অ্যাসিসট্যান্ট সাব ইন্সপেক্টর অফ পুলিস।”

thebengalpost.in
নিত্যানন্দ – সায়নী :

এই প্রসঙ্গে, এএসআই নিত্যানন্দ মণ্ডল সাংবাদিকদের বলেন, “প্রাক্তন কাউন্সিলর (বিনোদ যাদব) তিন জায়গায় জমায়েত করেছেন। ছবি আছে আমাদের কাছে। বারবার বলা হচ্ছে।” বুথ জ্যামের অভিযোগ উড়িয়ে অবশ্য তৃণমূল প্রার্থী সায়নী ঘোষ (Saayoni Ghosh) বলেন, “বেআইনিভাবে লাঠিচার্জ করছে পুলিস। বোকা বোকা অভিযোগ দিচ্ছে। লাঠিচার্জের এক্তিয়ার নেই। ভোটে ব্যাঘাত ঘটানোর চেষ্টা করছেন। তৃণমূলের লোক বলেই লাঠিচার্জ করা হচ্ছে।” কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন সায়নী, “কেনা গোলামের মতো ব্যবহার করছেন উনি। সব উত্তর ২ মে’র পরে পাবেন। ওঁর মুখে কথা বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে।” সায়নী অবশ্য এও জানান, অবাঞ্ছিত এই ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ হয়েছে এবং মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রার্থীকেই বিপুল ভোটে জেতাবেন। এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য যে, দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে, পয়লা এপ্রিল স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চোখে চোখ রেখে আইপিএস (IPS) নগেন্দ্রনাথ ত্রিপাঠী বয়ালের বুথে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, “খাঁকি উর্দিতে দাগ নেব না ম্যাডাম!” রাজনৈতিক সমালোচকেরা বলছেন, এদিন একজন এএসআই (ASI) হয়েও মেরুদন্ড সোজা রেখে, নিত্যানন্দ যেন সেদিনের নগেন্দ্র’কেই মনে করালেন!

আরও পড়ুন -   শালবনী থেকে ঘাটাল লালে লাল! শিল্প-কর্মসংস্থানের দাবিতে ছাত্র-যুবরা পথে, একযোগে আক্রমণ তৃণমূল-বিজেপিকে