রাজ্যে সংক্রমণ দু’হাজার পার! মহারাষ্ট্রের পর দিল্লিতেও ‘নাইট কার্ফু’, ‘লকডাউন’ ছত্তিশগড়ের দুর্গ জেলায়

দ্য বেঙ্গল পোস্ট বিশেষ প্রতিবেদন, ৬ এপ্রিল: আর দু’হাজারের আশেপাশে নয়, ছাড়িয়ে গেল দু’হাজার! গত চব্বিশ ঘণ্টায় পশ্চিমবঙ্গে করোনা সংক্রমিত হয়েছেন ২০৫৮ জন। মৃত্যু হয়েছে ৭ জনের! রবিবার ও সোমবার যথাক্রমে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১৯৫৭ ও ১৯৬১। মঙ্গলবার একেবারে ২০৫৮। কলকাতা (৫৮২) ও উত্তর ২৪ পরগণার (৪৭২) করোনা পরিস্থিতি ক্রমেই দুর্বিষহ হয়ে উঠছে! এরপরই আছে, হাওড়া (১৭৯), দক্ষিণ ২৪ পরগণা (১৩০), হুগলি (৯২) ও পশ্চিম বর্ধমান (৭৫)। গত চব্বিশ ঘণ্টায় যে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে, তাঁরা যথাক্রমে- কলকাতা (৩), উত্তর ২৪ পরগণা, হুগলি, মালদা ও মুর্শিদাবাদ এর। সংক্রমণ বাড়ছে জঙ্গলমহল এবং উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতেও।

thebengalpost.in
দিল্লিতে নাইট কার্ফু :

অন্যদিকে, ভয়াবহ সংক্রমণের মুখে আজ থেকেই দেশের রাজধানী দিল্লিতে নাইট কার্ফু জারি হল। ইতিমধ্যে, দেশের বাণিজ্য রাজধানী মুম্বই সহ মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে ‘নাইট কার্ফু’ শুরু হয়েছে। গত চব্বিশ ঘণ্টায় দিল্লির মতো একটি ছোট কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ৩৫৪৮ জন সংক্রমিত হওয়ার পরই মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল দিল্লিতেও ‘নাইট কার্ফু’র সিদ্ধান্ত নেন। রাত ১০ থেকে ভোর ৫ টা পর্যন্ত চলবে এই কার্ফু। আগামী ৩০শে এপ্রিল পর্যন্ত জারি থাকবে এই নির্দেশ। পরিস্থিতি দেখে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানা গেছে। গত চব্বিশ ঘণ্টায় দেশে করোনা সংক্রমণ গতকালের থেকে সামান্য কমে হয়েছে- ৯৬,৯৮২। মৃত্যু হয়েছে ৪৪৬ জনের। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক সূত্রে খবর, গত ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড সংক্রমণের প্রায় ৮২ শতাংশই ৮টি রাজ্যে- মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক, ছত্তিশগড়, দিল্লি, তামিলনাড়ু, উত্তরপ্রদেশ, পঞ্জাব ও মধ্যপ্রদেশে। ছত্তিশগড়ে গত ২৪ ঘন্টায় করোনা আক্রান্ত হয়েছেন- ৭৩০২ জন। এরপরই, আজ সন্ধ্যায় ছত্তিশগড় সরকার এই রাজ্যের দুর্গ জেলায় সম্পূর্ণ লকডাউনের ঘোষণা করেছে। আগামী ১৪ ই এপ্রিল পর্যন্ত এই নির্দেশ কার্যকর থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

thebengalpost.in
কোভিডের বিরুদ্ধে নতুন যুদ্ধ শুরু :

অপরদিকে, সারা দেশ জুড়ে জটিল পরিস্থিতি মোকাবিলায় গত রবিবার (৪ এপ্রিল) উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আগামী বৃহস্পতিবার (৮ এপ্রিল) পুনরায় বৈঠকের কথা আছে। এই বৈঠকে নাইট কার্ফু ও লকডাউন বিষয়েও আলোচনা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এই মুহূর্তে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক রাজ্যগুলিকে বেশি করে পরীক্ষা বা চিহ্নিতকরণ, চিকিৎসা, কোভিড-উপযুক্ত ব্যবহার এবং টিকাকরণের উপর জোর দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বলে জানা যায়। অন্যদিকে, AIIMS এর প্রধান রণদীপ গুলেরিয়া জানিয়েছেন, “যে হারে সংক্রমণ বেড়ে চলেছে তাতে লকডাউন ছাড়া উপায় নেই! বিনা মাস্কে জনতা যে ভাবে জমায়েত করছে তাতে সংক্রমণ ঠেকানো দায়। মিনি লকডাউন করে আগামী ৩-৪ মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। একইসঙ্গে, দ্রুত গতিতে ভ্যাকসিনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। তার সাথে মাস্ক ব্যবহার করতেই হবে, মাস্ক ছাড়া একদমই বাইরে বেরনো যাবেনা।”

আরও পড়ুন -   পড়ুয়াদের পাশে মমতা, তুলে নিলেন লকডাউন