প্রকল্প আছে, ট্যাপও আছে, জল নেই! মেদিনীপুর সদর ব্লকে ২২ কোটি টাকার প্রকল্পে তালা ঝোলালেন ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১৬ এপ্রিল: রাজ্য সরকারের জনস্বাস্থ্য ও কারিগরী দপ্তরের অধীন ২২ কোটি টাকার সজলধারা প্রকল্প। সেটাও আবার জেলা সদর থেকে ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে, ধেড়ু্য়ার দেউলকুন্ডা এলাকায়। কিন্তু, প্রকল্প সংলগ্ন দু-তিনটি গ্রাম জল থেকে বঞ্চিত! এই অভিযোগে, চাঁইপুর, কুন্ডলবনি, সগোডিহার প্রায় হাজারখানেক ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী আজ ওই প্রকল্পের মেন গেটে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে বিক্ষোভ দেখালেন। অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে, গ্রামবাসীদের অভিযোগের সঙ্গে সহমত হলেন ওই প্রকল্পের কর্মীরাও! তাঁদের মতে, পাইপ লাইন বিছানোর ক্ষেত্রে গাফিলতি আছে। জনস্বাস্থ্য ও কারিগরী দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক (Executive Engineer) শামিদীপ ভট্টাচার্য বললেন, “ওই কাজ চলছে। ঠিকাদারদের সাথে কথা বলে দ্রুত সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করছি।”

আরও পড়ুন -   মেদিনীপুরে হবে ড্রাগন ফলের চাষ, আদিবাসী পরিবারগুলিকে স্ব-নির্ভর করার লক্ষ্যে কৃষি ও উদ্যান পালন দপ্তরের উদ্যোগ
জলের দাবিতে বিক্ষোভ মেদিনীপুর সদর ব্লকে :

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, মেদিনীপুর সদর ব্লকের দেউলকুন্ডা প্রকল্পের সবথেকে নিকটস্থ গ্রাম চাঁইপুর। সেই গ্রামের প্রবীর মাইতি, নিতাই মুর্মু, অজিত মাহাতদের অভিযোগ, “এই গ্রামের উপর দিয়ে পাইপ গেছে। এখান থেকে ৮-১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত গ্রামগুলি জল পাচ্ছে। কিন্তু, এই চাঁইপুর, কুন্ডলবনি, সগোডিহার গ্রামবাসীরা জলের অভাবে মরতে বসেছে। কিছু জায়গায় আবার জলের ট্যাপও বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু, জল নেই! জলই যদি না থাকে এই ট্যাপগুলো বসিয়ে কি লাভ? তাই, যতক্ষণ না সুরাহা হচ্ছে, আমরা গেটের তালা খুলবো না।” ওই প্রকল্পের এক কর্মী, তাপস বেরা বললেন, “ওনাদের দাবি যুক্তিসঙ্গত। আমাদের অনেকেরই বাড়ি এই এলাকাতেই। আমাদের বাড়িতেও জল নেই। আমাদের মেকানিক্যাল ডিপার্টমেন্টের কাজ সব ঠিক আছে অর্থাৎ মেশিনপত্র সব ঠিক আছে। পাইপলাইনের কাজ সিভিল ডিপার্টমেন্ট করে, ওখানেই কিছু সমস্যার কারণে, এই সব গ্রামে জল নেই।” এ নিয়ে জেলার জনস্বাস্থ্য বিষয়ক কর্মাধ্যক্ষ শ্যামপদ পাত্র বললেন, “এই মুহূর্তে নির্বাচন সংক্রান্ত বিধিনিষেধের জন্য বিভাগীয় আধিকারিকরাই সবকিছু দেখাশোনা করছেন। ওনাদের কাছে আমিও আবেদন রাখব, দ্রুত সমস্যার সমাধান করে দেওয়ার জন্য।” দ্রুত সমাধানের আশ্বাসই অবশ্য দিয়েছেন বিভাগীয় আধিকারিক শামিদীপ ভট্টাচার্য।