নির্বাচনের ৯ দিন আগে মেদিনীপুরে জেলাশাসকের কার্যালয়ের সামনে দিনভর অবস্থানে বসে প্রাথমিক চাকরিপ্রার্থীরা

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, মেদিনীপুর, ১৮ মার্চ: কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, গতকাল (১৭ মার্চ) প্রাথমিকের ১৬,৫০০ শিক্ষক নিয়োগের মেধাতালিকা বা মেরিট লিস্ট প্রকাশ করেছে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ। সেই লিস্ট পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে প্রতিটি জেলার DPSC বা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদে। কিন্তু, কাউন্সেলিং বা স্কুল বাছাই প্রক্রিয়ার বিষয়ে পাঠানো হয়নি কোন নির্দেশিকা। অপরদিকে, একই মেধা তালিকায় থাকা কিছু জনের নিয়োগ হয়ে গেছে, তাহলে বাকিদের কেন হবেনা, এই দাবি নিয়ে গতকাল থেকেই বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন মেধা তালিকায় ঠাঁয় পাওয়া চাকরিপ্রার্থীরা। এই বিষয়ে গতকাল কলকাতার সল্টলেকে অবস্থিত প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ (আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র ভবন) থেকে কোন নির্দেশিকা পাঠানো হয়নি জেলার DPSC গুলিতে। তাই, এই বিষয়ে তাঁদের কিছু করার নেই বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রতিটি সংসদ অফিস এবং শিক্ষা ভবন (ডি আই অফিস) থেকে। এদিকে, গতকালের পর, আজও সারা দিন ধরে বিক্ষোভ-অবস্থানে বসলেন চাকরিপ্রার্থীরা। মেদিনীপুর শহরে অবস্থিত জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদ এবং জেলাশাসকের কার্যালয়ের মাঝখানে অবস্থিত কালেক্টরেট মোড়ে এখনও অবস্থানে বসে আছেন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার প্রায় কয়েকশো সফল চাকরিপ্রার্থী। রাত্রি ৮ টা অবধি তাঁদের কাছে কোনও বার্তা না আসায়, এই কয়েকশো চাকরিপ্রার্থী রাতভর শান্তিপূর্ণ অবস্থানে বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রথম দফা নির্বাচনের (২৭ মার্চ) মাত্র ৯ দিন আগে এই ধরনের বিক্ষোভ-অবস্থানে জেলা শহর উত্তাল হয়ে উঠেছে।

thebengalpost.in
মেদিনীপুর শহরে জেলাশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান বিক্ষোভ চাকরিপ্রার্থীদের :

প্রসঙ্গত, গত ১৫ ই ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে (সরস্বতী পুজোর দিন) রাজ্যের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ১৬,৫০০ শিক্ষক নিয়োগের ফলাফল প্রকাশিত হয়। অফলাইনে আবেদনকারী তথা কেস পিটিশনারদের জন্য ১২১৬ টি পদ সংরক্ষিত (ফাঁকা) রেখে, ১৫,২৮৪ জনের নাম বের করা হয়। তবে, মেধাতালিকা প্রকাশ করা হয়নি। সফলরা রোল নম্বর দিয়ে Included (মেধাতালিকায় অন্তর্ভুক্ত) কিনা দেখে নিতে পারছিলেন। এরপরই, ইন্টারভিউ দেওয়া অসফল (Not-Included) পরীক্ষার্থীরা নানা অভিযোগে মামলা করে কলকাতা হাইকোর্টে। সিঙ্গেল বেঞ্চে স্থগিতাদেশ জারি করা হয়। কিন্তু, ডিভিশন বেঞ্চে স্থগিতাদেশ উঠে যায়। তবে পর্ষদকে নির্দেশ দেওয়া হয়, অবিলম্বে মেধাতালিকা দেওয়ার জন্য। আজ সেই নির্দেশ মেনে মেধাতালিকা প্রকাশ করা হলেও, তা অসম্পূর্ণ বলে অনেক চাকরিপ্রার্থী’র অভিযোগ। কারণ, মেরিট লিস্টে ‘মেরিট’ ই উধাও! শুধুমাত্র নাম, র‍্যাঙ্ক এবং ক্যাটাগরি থাকলেও, সফল পরীক্ষার্থীদের নম্বর জানানো হয়নি। এদিকে, সরস্বতী পুজোর পরদিনই গত ১৭ ই ফেব্রুয়ারি কিছু সফল পরীক্ষার্থীর কাউন্সেলিং (স্কুল বাছাই) ও জয়েনিং (নিয়োগ) হয়ে যায়। কিন্তু, বেশিরভাগ সফল পরীক্ষার্থীর কাউন্সেলিং হয়নি কোনো এক অজানা কারণে! সফল পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, ইতিমধ্যে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় প্রায় ২০০ জন এবং সারা রাজ্যে ৪-৫ হাজার (১৫,২৮৪ র মধ্যে) জনের নিয়োগ সম্পূর্ণ হয়ে গেছে। কিন্তু, জেলার বাকি প্রায় ৭০০-৮০০ জন এবং রাজ্যের প্রায় ১০-১১ হাজার সফল পরীক্ষার্থী’র এখনও কাউন্সেলিং সম্পন্ন করা হয়নি। তাই, এই দ্বিচারিতা তাঁরা মেনে নেবেন না। এদিকে, প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ সূত্রে জানা গেছে, কলকাতা হাইকোর্টের তত্ত্বাবধানে বা নজরদারিতে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে। তাই, মেধা তালিকায় নাম থাকা প্রত্যেকেই চাকরি পাবেন। আপাতত, হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে মেধা তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। হাইকোর্ট এবং নির্বাচন কমিশনের অনুমতি নিয়ে, যথাসময়ে কাউন্সেলিং বা স্কুল বাছাই প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করা হবে।

thebengalpost.in
বিজ্ঞাপন (Advertisement) :

আরও পড়ুন -   দলিতকন্যা হত্যার প্রতিবাদে মেদিনীপুরে বাম-কংগ্রেসের যৌথ প্রতিবাদ মিছিল