সেই নন্দীগ্রামেই উঠে দাঁড়ালেন মমতা! শুভেন্দু’কে বিঁধে মুকুলের প্রতি ‘সোহাগ’

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পূর্ব মেদিনীপুর, ৩১ মার্চ: সেই নন্দীগ্রামেই হুইল চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ালেন তৃণমূল নেত্রী! গাইলেন জাতীয় সঙ্গীত। গত ১০ মার্চ, এই নন্দীগ্রামেই পায়ে আঘাত পেয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত ১২ ই মার্চ পায়ে প্লাস্টার নিয়ে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন তিনি। সঙ্গী হয়েছিল হুইল চেয়ার। ভোটের ভরা বাজারেও ‘একান্ত সঙ্গী’ হয়ে উঠেছে এই হুইলচেয়ার। সভা থেকে রোড শো, হুইলচেয়ারে বসেই বিরোধীদের আক্রমণ শানাচ্ছেন মমতা। এই মুহূর্তে বিরোধীদের (বিশেষত প্রধান প্রতিপক্ষ শুভেন্দু অধিকারী’কে) আক্রমণ আর সাধারণ মানুষের সহানুভূতি আদায়ের ‘নতুন অস্ত্র’ হিসেবে যুক্ত হয়েছে তাঁর এই হুইলচেয়ার তথা আঘাতগ্রস্ত পা। আর এ নিয়ে, বিজেপি নেতাদের সঙ্গে উত্তপ্ত বাদানুবাদও চলছে। তবে, তাকে থোড়াই কেয়ার করে (প্রচারের) শেষ লগ্নেও সেই ‘ভাঙা পা’ কেই প্রচারের প্রধান আলোয় নিয়েই এলেন মুখ্যমন্ত্রী! ভাঙা পা নিয়েই হুইল চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ালেন তিনি। এক পায়ের উপর ভর দিয়েই গাইলেন জাতীয় সঙ্গীত।

thebengalpost.in
নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় :

প্রসঙ্গত, আগামী বৃহস্পতিবার (১ এপ্রিল) নন্দীগ্রামে ভোট৷ তার আগে এ দিন শেষবেলার প্রচারে ঝড় তুললেন যুযুধান দুই প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারী৷ পিছিয়ে ছিলেন না সংযুক্ত মোর্চার মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ও। এদিন, শুভেন্দু অধিকারীর হয়ে রোড শো করেন অমিত শাহ, মিঠুন চক্রবর্তীরা। অন্যদিকে, হুইলচেয়ারে বসেই ভাঙাবেড়া থেকে সোনাচূড়া পর্যন্ত রোড শো করেন তৃণমূলনেত্রী৷ এরপর তিনটি জনসভা করেন তিনি৷ টেঙ্গুয়ার সভাতেই জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার সময় উঠে দাঁড়ানোর ইচ্ছাপ্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী৷ সঙ্গে সঙ্গেই তাঁকে সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেন সুব্রত বক্সি, দোলা সেনরা। যদিও তাঁকে সাহায্য না করে হাত জোড় করে যথাযথ ভাবে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার জন্য তাঁর এক সহকর্মীকে নির্দেশ দিতে দেখা যায় মুখ্যমন্ত্রী’কে। তিনি বলেন, “হাত জোড় করে জাতীয় সঙ্গীত গাও৷ আমি ঠেস দিয়ে আছি, পড়ব না৷’ এর পর এক পায়ে হুইলচেয়ারে ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়েই জাতীয় সঙ্গীত গাইতে শুরু করেন মুখ্যমন্ত্রী৷ তার আগে অবশ্য প্রতিটি সভা থেকেই মুখ্যমন্ত্রী তাঁর পায়ে আঘাতের জন্য সরাসরি শুভেন্দু অধিকারী’কে দায়ী করেন। নাম না করে তিনি বলেন, শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশেই ‘বহিরাগতরা’ তাঁর পায়ে আঘাত করেছে। তিনি আরও বলেছেন, মানুষের স্বার্থেই এভাবে পায়ে প্লাস্টার নিয়ে প্রচারে বেরোতে বাধ্য হয়েছেন তিনি৷

thebengalpost.in
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় :

অপরদিকে, এই মুহূর্তে তাঁর প্রধান প্রতিপক্ষ ও বিরোধী প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী’কে তীব্র ভাষায় ভর্ৎসনা করলেও, অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে মুকুল রায়ের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করলেন মমতা। তিনি বলেন, “মুকুল শুভেন্দু’র মতো অতটা খারাপ নয়।” তিনি এও বলেন, “বেচারাকে কাঁচরাপাড়া থেকে কত দূরে কৃষ্ণনগর উত্তরে প্রার্থী করেছে!” অন্যদিকে, BJP তে প্রার্থী নিয়ে অসন্তোষের ছবি সামনে এসেছে। সেই বিষয়টিকে সামনে রেখে এদিন মমতা বলেছেন, “যারা প্রথম থেকে BJP করেছে, তাদের কাউকে টিকিট দেয়নি। সায়ন্তন আমায় গালিগালাজ করত, তাকে দেয়নি, জয়প্রকাশকেও দেয়নি। CPIM এর হার্মাদ, তৃণমূলের গদ্দারদের টিকিট দিয়েছে। সব ধার করা লোককে টিকট দিয়েছে। তৃণমূলকে ভাঙতে গিয়ে নিজের দলটাকেই ভেঙে দিলেন।” রাজনৈতিক মহলের ধারণা, এইসব মন্তব্য করে আসলে তৃণমূলনেত্রী বিজেপির বিভিন্ন নেতাদের মনে ‘ক্ষোভ’ তৈরি করে তাঁদেরকে শেষবারের মতো নিজেদের দিকে টানার চেষ্টা করলেন। তবে, বিজেপি নেতৃত্ব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই চেষ্টাকে নূন্যতম গুরুত্ব দিতেই রাজি নন!

আরও পড়ুন -   শুভেন্দু'কে 'পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী' বলে বহিষ্কৃত কনিষ্ক, রাজীবের ক্ষোভ প্রশমনে উদ্যোগী তৃণমূল