“সাহায্য” চেয়ে মমতার “প্রলয় কান্ড” কে স্বীকার করল তৃণমূল! পাল্টা মুকুল-শিশির বাজোরিয়ার অডিও টেপ শুনিয়ে “নির্বাচন” কমিশনের সিদ্ধান্তের সমালোচনা

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পূর্ব মেদিনীপুর ও কলকাতা, ২৭ মার্চ: রাজ্য রাজনীতি তোলপাড় হয়ে যাওয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় – প্রলয় পালের কথোপকথনের অডিও রেকর্ডিং টির সত্যতা কার্যত স্বীকার করে নিল তৃণমূল কংগ্রেস। তাঁদের মতে, দলনেত্রী হিসেবে প্রাক্তন তৃণমূল কর্মীকে ফোন করতেই পারেন। এতে অন্যায়ের কিছু নেই! বরং, সেটিকে ‘ভাইরাল’ করে দেওয়ার মধ্যে ‘রাজনৈতিক দেওলিয়াপনা’ই ফুটে উঠেছে। অপরদিকে, সাংবাদিক বৈঠক করে তৃণমূলের মুখপাত্র কুনাল ঘোষ, বিজেপি নেতা মুকুল রায় এবং শিশির বাজোরিয়ার কথোপকথনের একটি অডিও টেপ শুনিয়েছেন। যেখানে, মুকুল রায় বলতে চেয়েছেন, “বিজেপি সমস্ত বুথে এজেন্ট দিতে পারবেনা”, তাই “এজেন্ট বসানোর নিয়ম পরিবর্তন হওয়া দরকার”। এরপরই, নির্বাচন কমিশন এজেন্ট বসার নিয়মে পরিবর্তন করে বলে তৃণমূলের অভিযোগ। এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের উপর বিজেপির ‘দাদাগিরি ফলানোর’ অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা। যদিও বিজেপির তরফে এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলা হয়েছে, তৃণমূল আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ের তলা থেকে যে মাটি সরে গিয়েছে, তার জ্বলন্ত প্রমাণ নন্দীগ্রাম বিধানসভার বিজেপি নেতৃত্ব’কে ফোন করে ‘সাহায্য’ চাওয়া!

thebengalpost.in
অডিও টেপ নিয়ে চাপানউতোর :

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তমলুক সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সহ সভাপতি প্রলয় পালের কথোপকথন (অডিওর সত্যতা যাচাই করেনি দ্য বেঙ্গল পোস্ট thebengalpost.in) :
প্রলয় পাল: হ্যাঁ দিদি, বলুন।
মহিলাকণ্ঠ: তুমি তো অনেক ইয়ং ছেলে। অনেক কাজ করো আমি জানি। এবার একটু তুমি একটু আমাদের সাহায্য করে দাও না। দেখবে কোনও অসুবিধা হবে না।
প্রলয়: দিদি, এবার আমি বলি আপনি একটু শুনুন। আপনাকে দেখেই কিন্তু আমার পরিবার রাজনীতি করেছিল।
মহিলাকণ্ঠ: আমি জানি সব।
প্রলয়: আপনার আদর্শের ভিত্তিতেই সব করেছিলাম। দিদি, যেদিন আপনি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন, ’১১ সালে যেদিন আপনি শপথ নেন। বা যেদিন রেজাল্ট বের হয় আর আপনি ক্ষমতায় আসছেন বুঝে নিয়েছিলাম। সে দিন পাঁচ জন ব্রাহ্মণকে দিয়ে হোমযজ্ঞ করে আমি কিন্তু মিটিং-মিছিল করেছিলাম। কিন্তু খারাপ লাগে দিদি, এত ত্যাগ করার পরও যখন প্রলয় পাল এসসি সার্টিফিকেট পায় না। এর থেকে লজ্জার আর কিছু থাকতে পারে না।
মহিলাকণ্ঠ: এটা কে করেছিল তুমি জানো। তোমাদের ওখানে যে লিডার ছিল, সে আমাদের নন্দীগ্রামে যেতে দিত না। এবং সে আমাকে নন্দীগ্রামে ঢুকতে দিত না। সারা মেদিনীপুরে ঢুকতে দিত না। তাদের জমিদারি চলত। তুমি তো সবই জানো ভাই।
প্রলয়: দিদি আমি রেসিডেন্ট সার্টিফিকেট পাব না এটা হতে পারে?
মহিলাকণ্ঠ: আরে আমি আছি কী করতে? যে করেছে সে অন্যায় করেছে।
প্রলয়: আমি মার খেয়েছি। দিদি, আপনার মহাদেবের হাতে তো মার খেয়েছি।
মহিলাকণ্ঠ: আমি জানি, আমি সব জানি। পরে সব শুনেছি। আগে তো আমি এত ডিটেলসে খবর নিতাম না। যে হেতু আমি এবার নিজে গিয়েছি, তাই আমি এ বার নিজেই সব খবর নিচ্ছি।
প্রলয়: দিদি, আপনি যা-ই মনে করুন না কেন, আমি এখন দল ছেড়ে বেরিয়ে এসেছি। যে দলের সঙ্গে আমি আছি, সেই দলের সঙ্গে আমি বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারব না। আমি যখন যে দল করি, আমি মন দিয়ে প্রাণ দিয়ে সেই দল করি। আমরা পরিবারও তাই করে। আমাদের পরিবারের বিরুদ্ধে কেউ আঙুল তোলার মতো দু’নম্বরি বলার মতো কারও ক্ষমতা হবে না। ভবিষ্যতেও থাকবে না। এমন অভিযোগ করার কারও ক্ষমতা ছিল না। আগামী দিনেও থাকবে না।
মহিলাকণ্ঠ: সব ঠিক। এ বার তুমি আমাকে একটা কথা বলো। যাদের জন্য করছ, তারা তো কোনওদিনও বিজেপি করেনি। এখন যারা করছে, তাদের কি তুমি বিশ্বাস করো, তারা অনেস্ট? তাদের তুমি বিশ্বাস করো যে তারা মানুষের জন্য কাজ করবে?
প্রলয়: দেখুন দিদি, যতদিন দল ঠিক থাকবে ততদিন দলের সঙ্গে থাকব। আমাকে আমার বিবেক জন্ম দিয়েছে। দল তো আর জন্ম দেয়নি। দলে কোনও অন্যায় হলে আমি কেন মানতে যাব ?
মহিলাকণ্ঠ: তার মানে আমি বলছি, যে তোমাদের ওখানে লড়ছে, সে কি তোমাদের কাছে সব?
প্রলয়: ওই পরিবার, যখন আমরা সিপিএমের কাছে অত্যাচারিত হতাম, তখন কিন্তু ওই পরিবার পাশে ছিল। ওই জায়গা থেকে আমি ওই পরিবারকে সাপোর্ট করি। এবং তা দীর্ঘদিন থেকে। শিশিরবাবুর সঙ্গে বাবার ৪০ বছরের সম্পর্ক। যেদিন সিপিএম অত্যাচার করত, তখন ওরাই ছিল। আর কেউ তখন পাশে ছিল না।
মহিলাকণ্ঠ : সেদিন ওরা আমাদের সঙ্গে ছিল বলেই ওরা আমাদের হয়ে করত। আমরাই সিপিএমের অত্যাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করতাম।
প্রলয়: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। ফোন করার জন্য। আপনি এত বড় নেতৃত্ব হওয়া সত্ত্বেও আমার মতো একজন সাধারণ কর্মীকে ফোন করেছেন। এই জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। কিন্তু দিদি, আমাকে ক্ষমা করবেন।
মহিলাকণ্ঠ : তুমি ভেবে দেখো।
প্রলয়: ঠিক আছে দিদি।
মহিলাকণ্ঠ : ও কে। থ্যাঙ্ক ইউ। তুমি ভালো থেকো।

thebengalpost.in
শিশির বাজোরিয়া – শুভেন্দু অধিকারী :

এদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর এই “সাহায্য” চাওয়াকে ‘দেউলিয়াপনা’ আখ্যা দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, “তৃণমূল নেত্রী দেউলিয়া হয়ে গেছেন। শুধু বিজেপি কর্মীকে নয়, পুলিশকে ফোন করে বলছেন, তোমরা শুভেন্দু’র হয়ে কাজ করছ? নিজের রাজনৈতিক অস্তিত্ব হারিয়ে, দিদি থেকে উনি এখন পিসি হয়ে গেছেন।” বিজেপি নেতৃত্বও বলেছে, “নন্দীগ্রামে হারার ভয়েই মুখ্যমন্ত্রী বিজেপি নেতাকে ফোন করেছেন।” আজ, শনিবার সকালেই তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফোন করেছিল বলে জানিয়েছেন বিজেপি জেলা সহ সভাপতি প্রলয় পালও।

আরও পড়ুন -   প্রযুক্তির পীঠস্থান আইআইটি খড়্গপুরে 'কৃত্রিম' নয়, 'মাটির' প্রদীপেই ঐতিহ্যমণ্ডিত "ইলুমিনেশন" ৪০ তম বর্ষে পদার্পণ করল