‘বাম-কংগ্রেস থেকে মাওবাদী’, জঙ্গলমহলে ভোট প্রচারে এসে সবার ভোট চাইলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১৮ মার্চ: ভাঙা পা নিয়েই রাজ্যজুড়ে প্রচার চালাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হুইল চেয়ারে বসেই হুঙ্কার দিচ্ছেন বিরোধীদের! সঙ্গে, কাতর কন্ঠে ভোট প্রার্থনা করছেন বিরোধী সমর্থকদের কাছেও। গতকাল, জঙ্গলমহলের ঝাড়গ্রাম থেকে “বামপন্থী বন্ধুদের” ভোট প্রার্থনা করেছিলেন। আর আজ পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশিয়াড়ির সভা থেকে, “মাওবাদী বন্ধুদের” কাছে আবেদন জানালেন, “যারা আমার মাওবাদী বন্ধু, তাদেরকে আহ্বান করছি, ওদেরকে একটি ভোটও দেবেন না! ওদের ভোট দিয়ে আপনার মূল্যবান ভোট নষ্ট করবেন না।” তারপরই কংগ্রেস সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বললেন, “আপনাদেরকে বলছি, আপনারা জগাই মাধাই এবং গদাইকে একটি ভোটও দেবেন না ওদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান। ভোট আমাকে দিন।”

thebengalpost.in
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিম মেদিনীপুরের সভায় :

এদিনের সভায়, তিনি প্রথম থেকেই বিজেপি, সিপিআইএম এবং কংগ্রেস কে তীব্র কটাক্ষ করেন। তবে তাঁর আক্রমণের মূল সুর ছিল বিজেপির বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, “যারা গান্ধীজিকে হত্যা করেছে তাদেরকে একটি ভোটও দেবেন না।” তিনি আরও বলেন, “বহিরাগতরা এসে বাংলা চালাবে না। বাংলার মেয়েই বাংলা চালাবে।” নিজের জীবনী বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমি বিগত দিনে চোখে আঘাত পেয়েছি, বুকে আঘাত পেয়েছি, পেটে আঘাত পেয়েছি। বাকি ছিল আমার পা! আমার পা তেও ওরা আঘাত করলো। শুধু আঘাতই করেনি আমার নামে কুৎসা রটানো হয়েছে, চরিত্রহনন হয়েছে। তবে আমি এর পাল্টা আঘাত করব না! আমি কোটি কোটি মায়ের পায়ে প্রণাম জানিয়ে আমি এর উসুল – প্রতিশোধ তুলব।” দীর্ঘ লকডাউন প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “হঠাৎ একদিন নরেন্দ্র মোদি লকডাউন ঘোষণা করে দিলেন। সে সময় বাংলার ছেলে মেয়েরা যারা বাইরে কাজে গেছিল, তাদের হাতে ছিল না কোনো টাকা পয়সা, না ছিল খাবারদাবার। কোন সামর্থ্য ছিল না ফিরে আসার। আমি ৩০০ ট্রেনের ব্যবস্থা করেছি, তাদের রাজ্যে ফিরিয়ে আনার জন্য।” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এদিনের বক্তব্য প্রসঙ্গে বিজেপির জেলা নেতৃত্ব বললেন, “ঠেলায় পড়ে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মিথ্যাচার করছেন। উনি বরং মোদিজীর পাঠানো পরিযায়ী শ্রমিকদের ট্রেনকে করোনা এক্সপ্রেস উপাধি দিয়েছিলেন!”

thebengalpost.in
বিজ্ঞাপন (Advertisement) :

আরও পড়ুন -   ফের শুরু হল মেদিনীপুরের 'সূর্যাস্তের হাট', এবার থেকে সপ্তাহে দু'দিন