অদিতি মুন্সি’র কীর্তন আর অধিকারীদের বেনজির আক্রমণ! ‘নন্দীগ্রাম’ জয়ে মরিয়া মমতার শেষ ‘অস্ত্র’ প্রয়োগ

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পূর্ব মেদিনীপুর, ২৯ মার্চ: ‘নন্দীগ্রাম আন্দোলন’ থেকে শুরু করে নন্দীগ্রামের হাসপাতাল, বাস স্ট্যান্ড, বড় রাস্তা যা কিছু ‘ভালো’ সব কৃতিত্ব তাঁর! কিন্তু, ভাঙাচোরা রাস্তাঘাট, শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি কিংবা একাধিক কর্মীর মৃত্যু, যা কিছু ‘খারাপ’ সব দায় অধিকারী “বাপ-ব্যাটা”র! এই “বাপ-ব্যাটা”দেরই ভালোবেসে অনেককিছু দিয়েছিলেন, কিন্তু সবকিছু ছেড়ে বেরিয়ে আসায় তাঁরা আজ “গদ্দর”! রবিবার ‘আহত-বাঘিনী’ মমতার নন্দীগ্রাম-বচনে রাজনৈতিক মহল উত্তাল। আগামী ১ লা এপ্রিল নির্বাচনের আগে, রবিবার থেকে নন্দীগ্রামে থাকা শুরু করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী ৪ দিন (১ লা এপ্রিল পর্যন্ত) নন্দীগ্রামেই থাকবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। নন্দীগ্রাম জয়কে ‘পাখির চোখ’ করে প্রথম দিন (রবিবার, ২৮ মার্চ) শুরু করেছেন অদিতি মুন্সি’র কীর্তন দিয়ে। লক্ষ্য এবার হিন্দু ভোট! আর এসব করতে গিয়েই অধিকারীদের ‘বেনজির’ আক্রমণ করে বলে বসলেন, “বাপ-ব্যাটার অনুমতি ছাড়া নন্দীগ্রামে পুলিশ ঢুকতে পারতনা।” অভিযোগ আরও গুরুতর, চটি-পুলিশ ঢোকার নেপথ্যেও নাকি তাঁরাই! এদিকে, বাম কর্মী সমর্থক থেকে রাজনৈতিক মহলের প্রশ্ন, “সবই যখন জানতেন, এতদিন বলেননি কেন? নাকি শুভেন্দু-শিশির দল ছাড়ার পর মনে হল!” উত্তরটা অবশ্য দিয়ে দিয়েছেন শিশির অধিকারী, “নন্দীগ্রাম আন্দোলনে বামেদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে এই অধিকারীরাই। আর সেজন্যই উনি মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন।” স্বাভাবিকভাবেই, দলনেত্রী হিসেবে সমস্ত অন্যায়ের দায়ও যে তাঁর, একথা নন্দীগ্রামবাসী থেকে রাজ্যের যেকোনও প্রান্তের সাধারণ মানুষই কিন্তু বুঝে গিয়েছেন। তবে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে অধিকারী পরিবারের এই উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় আর চাপানউতোরে ‘একাধিক সত্য’ বেরিয়ে আপায়, একজন অন্তত মানসিকভাবে পরম-শান্তি লাভ করবেন! তিনি পাম অ্যাভেনিউ’র সাদা ধবধবে সেই ‘দৃষ্টিশক্তি’ হারানো আর ‘দূরদৃষ্টি সম্পন্ন’ মানুষটা। যাঁকে তৃণমূল কংগ্রেস আর তৎকালীন গদি মিডিয়া “খুনী বুদ্ধ” উপাধি দিয়েছিল, কিন্তু রাজ্যের আপামর শিক্ষিত সম্প্রদায়ের কাছে আজও ‘প্রিয় বুদ্ধ বাবু’।

thebengalpost.in
নন্দীগ্রামে মমতা :

যেভাবেই হোক নন্দীগ্রাম জয়ে বদ্ধপরিকর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়! এক ইঞ্চিও জায়গা ছেড়ে দিতে রাজি নন পূর্ব মেদিনীপুরের ‘ভূমিপুত্র’ শুভেন্দু অধিকারী। ‘জান কবুল’ লড়াই করছেন, সিপিআইএম তথা সংযুক্ত মোর্চার ‘অগ্নিকন্যা’ মীনাক্ষী মুখার্জিও। একদিকে যখন মীনাক্ষীর প্রচারে এসে আইএসএফ (ISF) নেতা পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকী বলে যাচ্ছেন, “ইমাম ভাতা নয়, ইমাম তার ছেলের চাকরি চায়। সংখ্যালঘু তোষণের মধ্য দিয়ে মমতা ব্যানার্জিই রাজ্যে সাম্প্রদায়িকতা ঢুকিয়েছেন। সাম্প্রদায়িক দল বিজেপি’কেও তিনিই রাজ্যে এনেছেন। তাই, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে ভোট দেওয়া মানে, সাম্প্রদায়িক শক্তিকেই ভোট দেওয়া। আমার এই ছোটো বোনটাকে ভোট দিয়ে জেতাতে হবে আপনাদের। ওর জন্য আমি আবার নন্দীগ্রামে আসবো।” অন্যদিকে, শুভেন্দু অধিকারীতো স্পষ্টই ঘোষণা করে দিয়েছেন, “বেগমকে ভোট দিলে আর হরিনাম সংকীর্তন করতে পারবেন না! রাজ্যটা কাশ্মীর হয়ে যাবে!” স্বভাবতই, প্রবল চাপে পড়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রবিবার থেকে টানা ৫ দিন নন্দীগ্রামে থাকতে শুরু করেছেন। অদিতি মুন্সি’কে দিয়ে কীর্তন গাওয়ানো থেকে শুরু করে হুইলচেয়ারে চেপে রোড শো সবকিছুই করছেন। সঙ্গে, অধিকারী বাপ-বেটাকে বেনোজির আক্রমণ! আর তা করতে গিয়ে নন্দীগ্রামের “নর্দমার কাদা” তিনি নিজেও মেখে ফেলছেন না তো, প্রশ্ন রাজনৈতিক মহলের!

আরও পড়ুন -   অমিতের কপ্টারে কলকাতায় শুভেন্দু! দুই মেদিনীপুরে পুড়ল ফ্লেক্স, ছিঁড়ল ব্যানার, মিছিল ফেরত গাড়িতে হল হামলা, 'মীরজাফর শুভেন্দু' পোস্টার তৃণমূল কর্মীদের