একসময়ের ‘লাল দুর্গ’ কেশিয়াড়ির জবা, বাসন্তীরা ফের ‘লাল’ স্বপ্নে বিভোর পোড়খাওয়া পুলিন’কে ঘিরে

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১৪ মার্চ: পরিবর্তনের নিয়ম মেনে, জঙ্গলমহলের বাম দুর্গ হয়ে উঠেছিল তৃণমূলের দুর্জয় ঘাঁটি। ফের মোদি হাওয়ায় কেশিয়াড়ির সাঁওতাল-আদিবাসী-দলিতরা পদ্ম ফুলকেই আপন করে নিয়েছিল! কিন্তু, স্বপ্ন পূরণ হয়নি জবা হেমব্রম, বাসন্তী হেমব্রম, লগেন মুর্মু’দের। পাট্টা জমি থেকে উচ্ছেদ হয়ে বছরের বেশীর ভাগ দিনই দিনমজুরী করতে যেতে হয়, পূর্ব মেদিনীপুর কিংবা জেলার অন্যত্র। বিধানসভা নির্বাচনের মুখে, সেই দিনমজুর আদিবাসীরাই গ্রামে ফিরেছে! ২৭ শে মার্চ ভোট দিয়েই ফের বরো ধান তোলার কাজে রওনা দেবে তারা। আর তার আগেই, পোড়খাওয়া সিপিআইএম নেতা তথা জেলার বাম রাজনীতির সুপরিচিত মুখ পুলিন বিহারী বাস্কের ডাকে মিছিলে পথ হাঁটলেন স্বতঃস্ফূর্তভাবে। সংযুক্ত মোর্চার আজকের মিছিল তাই ছিল লালে লাল!

thebengalpost.in
পুলিন বিহারী বাস্কে’র সমর্থনে মিছিল :

কেশিয়াড়ী বাজার সহ পাশ্ববর্তী সাতটি মৌজার মানুষদের নিয়ে জোট প্রার্থী পুলিন বিহারী বাস্কে’র সমর্থনে মিছিল হয় রবিবার। সুজাপুর, অরিনগর গ্রাম থেকে নিজেদের ধামসা বাদল নিয়ে এসে ড. পুলিন বিহারী বাস্কের প্রচার মিছিলে সামিল হলেন। মিছিল শেষে মুখে মুখে উঠে এল অভিযোগ, “ঔরাঙ্গাবাদ মৌজায় দুই বুথের দেড় শতাধিক আদিবাসী পাট্টাদার কে উচ্ছেদ করেছে তৃণমূলের যে যে নেতারা তারাই এখন বিজেপির মাতব্বর। বিজেপি বলেছিল বিচার দিবে, এখন মিলেমিশে ভাগ-বাঁটোয়ারা করে খাচ্ছে। তাই, আমরা আবার লালের দলে।” লখা হেমব্রম, সুধীর মুর্মু, দুর্গা হাঁসদা, সোমবারি মুর্মু’রা সেই জমি উদ্ধারের লড়াই করতে গিয়ে মিথ্যা মামলায় জেল খেটে এখন এলাকায়। এখনও মামলায় জর্জরিত। মন না চাইলেও তৃণমূল কে টাইট দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে বিজেপিকে ভোট দিয়েছে। তারাই এখন দেখছে, সুবর্ণরেখার বালি লুঠে তৃণমূল ও বিজেপির পঞ্চায়েতরা ভাগ নিয়ে একসাথে আছে। আর এদের মিথ্যা মামলা থেকে মুক্তি ও উচ্ছেদ হওয়া জমি ফেরতের লড়াইতে নিশ্চুপ! তাই, ফের তারা লাল স্বপ্নে বিভোর হয়েছে!

thebengalpost.in
বিজ্ঞাপন (Advertisement) :

আরও পড়ুন -   নির্বাচনের দিন ঘোষণার আগেই ভোটকর্মীদের প্রশিক্ষণ নির্ঘন্ট, পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামে ২০ ফেব্রুয়ারি প্রথম প্রশিক্ষণ