তফশিলী সম্প্রদায়ের ছাত্র-ছাত্রীদের “কুৎসিত” মন্তব্য! অভিযুক্ত অধ্যাপককে সাসপেন্ড করল আইআইটি খড়্গপুর (IIT Kharagpur)

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১৩ মে: অনলাইন ক্লাসে তফশিলী শিক্ষার্থীদের প্রতি “কুৎসিত” মন্তব্য করে সারা দেশ জুড়ে সমালোচিত হয়েছিলেন আইআইটি খড়্গপুর (IIT Kharagpur) এর কলা ও সমাজ বিজ্ঞানের অধ্যাপিকা। তদন্ত শুরু করেছিল আইআইটি খড়্গপুর (IIT Kharagpur) কর্তৃপক্ষ। এবার, অভিযুক্ত অধ্যাপিকার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হল। সাময়িক সময়ের জন্য অভিযুক্ত অধ্যাপিকাকে সাসপেন্ড বা বরখাস্ত করল খড়্গপুর আইআইটি কর্তৃপক্ষ। প্রসঙ্গত, এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে তফশিলী সম্প্রদায়ের ছাত্র-ছাত্রীদের প্রবেশিকা পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য যে প্রশিক্ষণের ক্লাস চলছিল, সেখানেই কয়েকজন ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্য করে কুৎসিত ও অবমাননাকর মন্তব্য করেন ওই অধ্যাপিকা। অনলাইন ক্লাসের ওই ভিডিও নিমেষে ভাইরাল হয়ে গিয়েছিল। চাপের মুখে তদন্ত কমিটি গঠন করে আইআইটি খড়্গপুর কর্তৃপক্ষ। বুধবার তার প্রাথমিক রিপোর্ট জমা পড়ার পর পদক্ষেপ নেওয়া হল।

thebengalpost.in
অনলাইন ক্লাসের ভাইরাল ভিডিওর স্ক্রিনশট :

উল্লেখ্য যে, কলা ও সমাজ বিজ্ঞানের অধ্যাপিকা সীমা সিং তফশিলী সম্প্রদায়ের ছাত্র-ছাত্রীদের প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রস্তুতি ক্লাসে পড়ুয়াদের লক্ষ্য করে বলেন, “ইউ ব্লাডি….গো টু হেল ( You Bloody Ba__rd…go to hell)!” আর, এই ক্লাসের ভিডিও নিমেষে ভাইরাল হয়ে যায় এবং দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় বয়ে যায়। বর্তমান থেকে প্রাক্তন, অধ্যাপক থেকে শিক্ষাবিদ সকলেই এর কড়া সমালোচনা করেন! তবে, ওই অধ্যাপিকা সপরিবারে করোনা সংক্রমিত হওয়ায়, সেই সময় (এপ্রিলের ২৬/২৭ নাগাদ) তাঁর সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পড়ুয়াদের কাছ থেকে জানা গিয়েছিল, ওই অধ্যাপিকার মনে হয়েছিল যে জাতীয় সঙ্গীত (National Anthem) চলার সময় কিছু পড়ুয়া উঠে দাঁড়ায়নি! তাই অধ্যাপিকা সীমা সিং ওই শব্দটি “প্রয়োগ” করেছেন ওই ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে। ভিডিওতে স্পষ্ট হয়েছিল, অধ্যাপিকা রীতিমতো ‘সজাগ’ হয়েই ওই মন্তব্য করেছিলেন, কারণ তাঁকে স্পষ্ট ভাষায় হুমকি দিতে শোনা গিয়েছিল (যদিও ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি দ্য বেঙ্গল পোস্ট)— “তোমরা যে কোনও জায়গায় অভিযোগ জানাতে পার…কেন্দ্রীয় নারী-শিশুকল্যাণ কিংবা এস-এসটি-মাইনরটি (সংখ্যালঘু) উন্নয়ন মন্ত্রক। আমার কিছু যায় আসে না, আমি আমার সিদ্ধান্তে অনড়!” এক্ষেত্রে হয়তো ওই অধ্যাপিকা, জাতীয় সঙ্গীতের সময় উঠে দাঁড়ানোর কথা বলতে চেয়েছেন। যদিও পড়ুয়াদের দাবি ছিল, তাঁরা সকলেই উঠে দাঁড়িয়েছিলেন। এরপর, অধ্যাপিকার বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়তেই তদন্ত শুরু করেন কর্তৃপক্ষ। তৈরি হয় তদন্তকারী দল। সেই দলের প্রাথমিক রিপোর্ট জমা পড়ার পরেই ওই অধ্যাপিকাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। আইআইটি খড়্গপুর এর রেজিস্ট্রার তমাল নাথ বলেন, “তদন্তকারী কমিটির প্রাথমিক রিপোর্ট পাওয়ার পর সাসপেন্ড করা হয়েছে। প্রক্রিয়া অনুসারে পরবর্তী তদন্ত হবে।” (The IIT Kharagpur Registrar Tamal Nath said, “Seema Singh has been suspended after getting the report of the fact-finding committee. She will resume only after further orders are issued. The inquiry will follow after this suspension as per the procedures.”) এ নিয়ে তফসিলি জাতি-জনজাতিদের উপর অত্যাচার প্রতিরোধ আইনেও অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন -   খড়্গপুর IIT র তৈরি পশ্চিম মেদিনীপুরের ৭৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের নাম শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির নামে, তীব্র প্রতিবাদ বাম-কংগ্রেস-তৃণমূলের