পুরুলিয়ার জয়পুর আসনে নরহরির ভাগ্য ‘উজ্জ্বল’ হল! হাইকোর্ট জানাল ভোটে লড়তে পারবেন না তৃণমূল প্রার্থী

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, কলকাতা ও পুরুলিয়া, ১২ মার্চ : লাল পলাশের দেশ পুরুলিয়া একসময় লাল দুর্গ ছিল! অবশ্য, লাল দুর্গেও যিনি অপরাজেয় ছিলেন, তিনি কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের বিধায়ক (বাঘমুন্ডি) নেপাল মাহাত। ২০১৪ সালে অবশ্য পরিবর্তনের হাওয়ায় এখানে তৃণমূল কংগ্রেসের মৃগাঙ্ক মাহাত সাংসদ হয়েছিলেন। পুরুলিয়া ও বাঘমুন্ডি ছাড়া (দুটিই কংগ্রেসের দখলে ছিল) অন্যান্য বিধানসভা গুলিও তৃণমূলের দখলে ছিল। ২০১৯ এর পর, পুরুলিয়া ধীরে ধীরে ‘কমলা’ হয়েছে। লাল পলাশের রুক্ষ্ম মাটিতে পদ্ম ফুটেছে! সাংসদ হয়েছেন বিজেপি’র জ্যোতির্ময় সিং মাহাত। একসময়ের বাম সাংসদ (ফরওয়ার্ড ব্লক) নরহরি মাহাত ২০১৮ সালে বিজেপি’তে যোগ দিয়েছেন। ২০২০ এর ১৯ শে ডিসেম্বর পুরুলিয়ার কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ কুমার মুখার্জিও বিজেপি’তে যোগদান করেছেন। ওই আসনেই এবার তিনি বিজেপি প্রার্থী। অন্যদিকে, নরহরি মাহাত এবার জয়পুর আসনে বিজেপি প্রার্থী। এই আসনে তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন উজ্জ্বল কুমার। তাঁর নামে দেওয়াল লিখনও হয়ে গিয়েছিল। এর মধ্যেই, তাঁর মনোনয়ন পত্র বাতিল করে দেয় নির্বাচন কমিশন। যদিও এর বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে যায় তৃণমূল। সিঙ্গেল বেঞ্চ জানায়, ভোটে লড়তে পারবেন উজ্জ্বল। সিঙ্গেল বেঞ্চের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে যায় নির্বাচন কমিশন। আজ হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে খারিজ হয়ে গেল সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশ। ফলে, ভোটে লড়তে পারবেন না তৃণমূলের উজ্জ্বল কুমার। পাশাপাশি, বাঘমুণ্ডি ও জয়পুরের নির্দল প্রার্থীও ভোটে লড়তে পারবেন না বলে জানিয়ে দিল হাইকোর্ট।

thebengalpost.in
নরহরি মাহাত :

পুরুলিয়ার জয়পুর বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী উজ্জ্বল কুমারের মনোনয়ন পত্রে ত্রুটি থাকায় তা বাতিল করে নির্বাচন কমিশন। এদিকে, ২৭ মার্চ জয়পুর কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হওয়ার ফলে মনোনয়ন পেশের সময় পেরিয়ে যায়। যে কারণে কমিশনের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন তৃণমূল প্রার্থী। তবে, শেষ পর্যন্ত কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশ অনুযায়ী, নির্বাচনে লড়াই করতে পারবেননা তিনি! আর এর ফলেই, বর্তমানে সেখানে শক্তিশালী বিজেপি’র জয়ের পাল্লা ভারী হল! তবে, বিজেপি প্রার্থী নরহরি মাহাত’র জয়ের সম্ভাবনা উজ্জ্বল হলেও, সেখানের সংযুক্ত মোর্চার ফরওয়ার্ড ব্লক প্রর্থী ধীরেন মাহাত তাঁকে কঠিন লড়াই দিতে পারেন বলেই মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন -   স্থগিতাদেশ উঠল প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে! তিন সপ্তাহের মধ্যে মেধা তালিকার প্রকাশ করতে হবে