নির্বাচন মিটতেই পশ্চিম মেদিনীপুরে শুরু হল নদী ও খাল সংস্কারের কাজ, খুশি ঘাটালবাসী

thebengalpost.in
ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের কাজ শুরু হয়েছে :

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ৭ এপ্রিল: পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে প্রথম দুই দফায়। নির্বাচন মিটতেই অবশেষে শুরু হল (ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের অন্তর্গত বলে দাবি) বিভিন্ন নদী ও খাল সংস্কারের কাজ। নদী ও খাল সংস্কারের কাজ শুরু হওয়ায় খুশি এলাকার মানুষ। প্রসঙ্গত, বহু প্রতীক্ষিত এই ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের কাজ শুরু হওয়া নিয়ে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে আছেন এলাকাবাসী। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের অন্তর্গত দুবাৰ্চটী, ক্ষীরাই, বাকসী, নিউ কসাই, চন্দ্রেশ্বর, গােমরাই, পায়রাশি প্রভৃতি নদী ও খালগুলি রাজ্য সেচ দফতরের অর্থে চলতি বছরই সংস্কার হবে বলে বিভিন্ন মহলে দাবি করা হয়েছে। ফলস্বরূপ, বন্যাপ্রবণ দুই মেদিনীপুর জেলার পাঁচটি ব্লকে বন্যার প্রকোপ অনেকটা কমবে বলে আশাবাদী স্থানীয় বাসিন্দারা!

thebengalpost.in
ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের (Ghatal Master Plan Work) কাজ শুরু হয়েছে :

ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান রূপায়ণ সংগ্রাম কমিটির দীর্ঘ আন্দোলনের পর শেষ পর্যন্ত নদী ও খাল সংস্কারের কাজ শুরু হওয়ায় স্বস্তি পেয়েছেন তাঁরাও! রাজ্য সেচ দফতরের বরাদ্দকৃত অর্থে গত ২০১৮ সালে ৭৩ কোটি টাকা ব্যয়ে পলাসপাই নদী সংস্কার হয়েছিল। পরবর্তী ধাপে ২০২০ সালে ২৬.৫ কিমি দীর্ঘ দুবার্চটী ও ২১ কিমি দীর্ঘ নিউ কাঁসাই নদী এবং ২৬.৭ কিমি দীর্ঘ ক্ষীরাইয়ের সংস্কার হয়। বাকি বেসিন স্কীমের অন্তর্গত খাল ও ১৪ কিমি দীর্ঘ চন্দ্রেশ্বর, ৮ কিমি দীর্ঘ পায়রাশি, ৪ কিমি দীর্ঘ গােমরাই খালগুলি প্রায় ২১০ কোটি টাকা ব্যয়ে বর্তমানে জোর কদমে সংস্কারের কাজ চলছে। কংসাবতী সংলগ্ন উপরােক্ত নদী ও খালগুলি পূর্ণ সংস্কারের কারণে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কোলাঘাট, পাঁশকুড়া, ময়না এবং পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার দাসপুর -১ ও ২ ব্লক এলাকার বন্যা সমস্যা অনেকটা কমবে বলে সেচ দফতর সূত্রে খবর। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, বন্যার প্রকোপ কমার পাশাপাশি রূপনারায়ণের জলে এলাকার ধান, ফুল, সবজি চাষেরও অনেকটাই উপকার হবে । মাস্টার প্ল্যান রূপায়ণ সংগ্রাম কমিটির যুগ্ম সম্পাদক নারায়ণ চন্দ্র নায়ক ও দেবাশিস মাইতি নদী ও খাল সংস্কারের এই কাজকে আন্দোলনের আংশিক জয় বলে মনে করছেন। তাঁদের কথায়, “কাজের পূর্ণাঙ্গ রূপায়ণ যতদিন না হচ্ছে , ততদিন ধাপে ধাপে নিকাশি নদী ও খালগুলি পূর্ণ সংস্কার করতে হবে। পরবর্তী ধাপে শিলাবতী নদী খনন এবং সংলগ্ন কেটিয়া নদী ও তার শাখা খালগুলি সংস্কার এবং চন্দ্ৰেশ্বর খালকে শিলাবতী নদীর সাথে যুক্ত করার দাবি সম্প্রতি সেচ দফতরের আধিকারিকের জানানাে হয়েছে।” উল্লেখ্য যে, এই কাজগুলি নির্বাচনী বিধি লাগু হওয়ার আগেই অনুমোদন পেয়েছিল, তাই রাজ্যে নির্বাচন প্রক্রিয়া চালু থাকলেও কাজ চালিয়ে যেতে সমস্যা হয়নি বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।

আরও পড়ুন -   দূষণ সৃষ্টিকারী ইঞ্জিন রিক্সা রেল শহর থেকে জেলা সদরে দেদার ছুটছে, অভিযোগ যানজট নিয়েও, উদাসীন প্রশাসন