প্রথম পর্বের গণতন্ত্র-উৎসব শেষে ঘরে ফিরলেন ‘ওরা’! আপাত-নির্বিঘ্ন নির্বাচনে দুই মেদিনীপুর থেকে দুই ‘নজিরবিহীন’ অভিযোগ অথই জলে

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ২৮ মার্চ: প্রথম পর্বের গণতন্ত্র-উৎসব (প্রথম দফার নির্বাচন) সমাপ্ত হল। RC (Receiving Centre) তে সবকিছু জমা দিয়ে ঘরে ফিরলেন ভোটকর্মীরা। এ যেন একপ্রকার যুদ্ধ জয়ের আনন্দ! নির্বাচনী-যু্দ্ধ জয় করে (পড়ুন, পরিচালনা করে), প্রায় দু’দিন পর ঘরে ফেরা ভোট-সৈনিক (ভোটকর্মী) এর জন্য ‘হাসিমুখে’ দরজা খুলে মধ্যরাতেই বরণ করে নিলেন আপনজনেরা! RC (Receiving Centre) থেকে অনেক দূর দূরান্তে যাদের বাড়ি, তাঁরা অবশ্য আজ (২৮ মার্চ) মধ্যরাতেও বাড়ি ফিরতে পারলেন না। রবিবার সকাল সকাল বাড়ি পৌঁছবেন হয়তো। এই গরমের মধ্যে, মাথায় অকল্পনীয় চাপ আর নিশ্চিন্তে ঘরে ফেরার উৎকন্ঠা নিয়ে নির্বাচন পরিচালনা করতে হয়েছে তাঁদের। সব শেষে একপ্রকার ঘেমে-নেয়ে RC (Receiving Centre) তে EVM, ব্যালট ইউনিটের মতো গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র এবং অসংখ্য কাগজপত্র নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের বুঝিয়ে দিয়ে তবে ‘ছুটি’ স্কুল শিক্ষক থেকে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মী সহ ভোট পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ভোটকর্মীদের। অবশ্যই উল্লেখ করা প্রয়োজন, কেন্দ্র ও রাজ্য পুলিশের কর্মীদের কথাও, সারা বছরই যারা এই ধরনের চ্যালেঞ্জিং কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকেন। সবমিলিয়ে মোটের উপর নির্বিঘ্নেই শেষ হল প্রথম দফার নির্বাচন। দুই মেদিনীপুর সহ জঙ্গলমহলের জেলাগুলিতে, মোট ৩০ টি আসনে নির্বাচন হল এই পর্যায়ে। ভোট পড়েছে গড়ে ৮০ শতাংশের আশেপাশে। ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুরে প্রায় ৮৪-৮৫ শতাংশ!

thebengalpost.in
মেদিনীপুর কলেজের RC তে জমা দেওয়ার শেষে (রাত্রি তখন ১২ টা) :

শনিবার (২৭ মার্চ) সকাল থেকেই বিভিন্ন বিক্ষিপ্ত অশান্তির খবর পাওয়া গেছে বিভিন্ন জেলা থেকেই। তবে, দিনের শেষে দেখা যায়, সেইভাবে গুরুতর অভিযোগ বা অশান্তির ঘটনা ঘটেনি দু’একটি ক্ষেত্র ছাড়া। শনিবার সকালেই পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার শালবনী বিধানসভা থেকে খবর আসে, সিপিআইএম প্রার্থী সুশান্ত ঘোষের উপর হামলা করেছে তৃণমূল কর্মীরা। তৃণমূল প্রার্থী শ্রীকান্ত মাহাত সেই অভিযোগ উড়িয়ে দিলেও, ওই ঘটনায় ৬-৭ জনকে আটক করেছে পুলিশ। কেশিয়াড়ি থেকেও বিজেপি এজেন্টের মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ আসে। আবার, গড়বেতা বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী মদন রুইদাসের অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁদের ৪ জন মহিলা সমর্থক সহ ৬ জন এর উপর হামলা চালিয়েছে তৃণমূল। যথারীতি অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে তৃণমূলের তরফে। অন্যদিকে, পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথি দক্ষিণ বিধানসভার একটি বুথ থেকে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থরা অভিযোগ করেন, “তাঁরা ভোট দিচ্ছেন জোড়াফুলে, কিন্তু তা পড়ছে পদ্মফুলে!” চরম উত্তেজনা দেখা দিলেও, অভিযোগের সারবত্তা খুঁজে পাওয়া যায়নি। প্রিসাইডিং অফিসার থেকে নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দিল, “ভিত্তিহীন অভিযোগ।” তবে, পটাশপুরে ব্যাপক অশান্তি ও বোমাবাজির ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। কাঁথিতে আবার শুভেন্দু অধিকারী’র ভাই সৌমেন্দু অধিকারী’র গাড়িতে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে! অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল। এছাড়াও, বিভিন্ন জায়গা থেকে তৃণমূলের তরফে অভিযোগ করা হয়, কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা ভোটারদের প্রভাবিত করছেন, পদ্মফুলে ভোট দেওয়ার জন্য! এই অভিযোগেরও প্রামাণ্য তথ্যাদি অমিল! পুরুলিয়াতে আবার বিজেপি’র বিরুদ্ধে ভোটারদের মুড়ি-ঘুগনি খাওয়ানোর অভিযোগ উঠেছে। ভোটপর্ব প্রায় মিটে যাওয়ার পর, খড়্গপুর গ্রামীণের সিপিআইএম তথা জোট প্রার্থী সৈয়দ সাদ্দাম আলি’কে হেনস্থা ও মারধরের অভিযোগ উঠল তৃণমূলের বিরুদ্ধে! অপরদিকে, তৃণমূলের বিরুদ্ধে যখন বিভিন্ন জায়গাতেই বুথ জ্যামের অভিযোগ আনা হল, তখনই শাসকদল তৃণমূলের তরফে EVM পরিবর্তন করার ‘মারাত্মক’ অভিযোগ উঠল মেদিনীপুরে!

thebengalpost.in
RC তে জমা দেওয়ার ভিড় :

সকাল থেকেই মেদিনীপুর শহরের চার্চ স্কুল, মির্জাবাজার এবং মোহনানন্দ বিদ্যামন্দিরের বুথ গুলিতে উত্তেজনা ছিল। উভয়পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে। কিন্তু, দিনের শেষে অর্থাৎ ভোটগ্রহণের পর্ব মিটে যাওয়ার পর সন্ধ্যা ৭ টা-৭.৩০ টা নাগাদ, শহর মেদিনীপুরের এই কেরানীটোলা শ্রী শ্রী মোহনানন্দ বিদ্যামন্দিরের ২০২-২০৬A বুথগুলি থেকে যে অভিযোগ করা হয়, তা নিঃসন্দেহে নজিরবিহীন! অভিযোগ করা হয়, ভোটগ্রহণ শেষে নাকি EVM চেঞ্জ (পরিবর্তন) করে দিতে চায়ছিলেন ওই বুথের দায়িত্বে থাকা ভোটকর্মী থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনী,‌ সকলে মিলে। কিন্তু,‌ প্রায় ১ ঘন্টা ধরে মেদিনীপুর শহরের বুকে এই ধরনের এক নজিরবিহীন বিক্ষোভ-আন্দোলন‌ চলার পর দেখা গেল, EVM সহ‌ সবকিছুই ঠিকঠাক আছে। সবকিছু মিলিয়ে দেখার পর তৃণমূল কংগ্রেসের মেদিনীপুর শহর সভাপতি বিশ্বনাথ পান্ডব বললেন, “ওরা চেষ্টা করেছিল EVM পরিবর্তন করার। কিন্তু, আমাদের কর্মীরা তা রুখে দিয়েছে।” তৃণমূলের জেলা সাধারণ সম্পাদক সুজয় হাজরা বললেন, “সেক্টর অফিসারের গাড়িতে ব্ল্যাঙ্ক ইভিএম ছিল, তা দেখেই আমদের কর্মীরা প্রতিবাদ করে। তবে, পোলিং এজেন্ট কে বাইরে বের করে দেওয়া এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর মারধরের ঘটনার আমর তীব্র নিন্দা করছি।” এই ঘটনা নিয়ে মেদিনীপুর বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী তথা প্রাক্তন জেলা সভাপতি শমিত কুমার দাশ বলেন, “সকাল থেকেই তৃণমূল অনেক ‌নাটক করেছে। মানুষের রায়ে পরাজয় নিশ্চিত জেনে শেষমেশ এই নাটক করে উত্তেজনা ছড়ানোর চেষ্টা করেছে। এই দফায়, মেদিনীপুর সহ জেলার ৬ টি আসনেই বিপুল ভোটে জিততে চলেছে ভারতীয় জনতা পার্টি।”

thebengalpost.in
মেদিনীপুরের কেরানীটোলা শ্রী শ্রী মোহনানন্দ বিদ্যামন্দিরের সামনে উত্তেজনা :

thebengalpost.in
সমস্যা সমাধানের পর :

আরও পড়ুন -   বিশ্বকর্মা পুজোর দিনই হার্ডওয়্যারের দোকানে টাইম বোমা! পাঁশকুড়াতে এলাকার দখল নিয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী