আগুনের ‘লেলিহান শিখা’ র হাত থেকে ‘জঙ্গল’ কে রক্ষা করতে পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে সুদূর পুরুলিয়ায় জঙ্গলমহলের তিন ভূমিপুত্র

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১২ মার্চ: অযোধ্যা পাহাড় তথা জঙ্গলমহলের বিস্তীর্ণ জঙ্গলভূমি যখন বসন্তের রোমান্টিক আবহে দাউদাউ করে জ্বলতে থাকে, তখন সেই ধোঁয়ায় জঙ্গলমহলবাসীদের চোখ আর্দ্র হয়! মিডিয়া ফুটেজের তোয়াক্কা না করে তারা ঝাঁপিয়ে পড়ে দাবানলের গ্রাস থেকে তাদের মাতৃসমা জঙ্গলকে রক্ষা করার জন্য। এভাবেই গত দশ বারোদিন ধরে পুরুলিয়ার কিছু অকুতোভয় যুবক অযোধ্যা পাহাড় ও সংলগ্ন বিস্তৃত বনভূমিতে লাগা আগুনের সাথে মোকাবিলা করে তা সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করে ফেলেছে। তাদের সেই কর্মযজ্ঞে সামিল হতে, পশ্চিম মেদিনীপুরের মেদিনীপুর ও শালবনী থেকে জঙ্গলমহলের তিন ভূমিপুত্র (রাকেশ সিংহ দেব, অপূর্ব মাহাত, সুমন মাহাত) গত ৯ মার্চ সকাল সকাল পুরুলিয়ায় পৌঁছে গিয়েছিল। পুরুলিয়ার যুবকদের সঙ্গে হাতে হাত লাগিয়ে, উষ্ণ জঙ্গলকে যথাসাধ্য শীতল করার প্রচেষ্টায় রত হল তারা। সারাদিন অযোধ্যা পাহাড়ের জঙ্গলে চষে বেড়িয়ে, দগ্ধ জঙ্গলের দুঃখ অনুভব করার সাথে সাথেই, সমাজ মাধ্যমে এক ‘মর্মস্পর্শী বার্তা‘ তুলে ধরার প্রচেষ্টাও থাকল।

thebengalpost.in
পুরুলিয়ার জঙ্গল :

প্রকৃতিপ্রেমী ও বন্যপ্রাণ গবেষক রাকেশ সিংহ দেব বললেন, “বন্যপ্রাণ ও প্রাণীর অবর্ণনীয় ক্ষতি। বাস্তুতন্ত্রের ধ্বংসলীলা! বলার কিছুই নেই। আমরা বাক্যহারা! তা সত্ত্বেও যথাসাধ্য প্রচেষ্টা মাত্র। বিশেষ ধন্যবাদ জানাই, সুজিত কুমার মাহাত ভাই এবং সুব্রত মাহাত দাদাকে। ধন্যবাদ জানাই সকল যোদ্ধাদের যারা প্রথমদিন থেকে এই বিশাল কর্মযজ্ঞে সামনে থেকেছে। এখনও কোনরূপ প্রথাগত প্রশিক্ষণ ছাড়াই আগুনের ধোঁয়া তাপ সহ্য করে কাজ করে যাচ্ছে।” রাকেশ, অপূর্ব, সুমন, সুজিত, সুব্রত দের আবেদন, “পলাশ শিমূলের আকর্ষণে যে সমস্ত পর্যটক পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম বা জঙ্গলমহলে আসছেন, তাদের প্রতি একান্ত অনুরোধ আপনারা অত্যন্ত সতর্ক ও সজাগ থাকুন। এই পাতাঝরার মরসুমে জঙ্গলগুলির তলদেশ জতুগৃহ হয়ে রয়েছে, সামান্য আগুনের ফুলকি পেলেই দাবানল জ্বলে উঠবে। প্লাস্টিক এবং বিড়ি সিগারেটের টুকরো যত্রতত্র ছুঁড়ে ফেলবেন না!”
(ছবি ও তথ্য সৌজন্যে : রাকেশ সিংহ দেব)

thebengalpost.in
দগ্ধ অরণ্য :

আরও পড়ুন -   মেদিনীপুর শহরের মির্জাবাজারে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়িতে আগুন, দমকল আসার আগেই ভস্মীভূত