জঙ্গলে আগুন, জেলা শহরে হাতি! সাত ঘন্টার লড়াই শেষে নিরাপদ স্থানে ছেড়ে আসা হল ‘গজরাজ’ কে

মণিরাজ ঘোষ, মেদিনীপুর, ২৬ ফেব্রুয়ারি : রাত্রি ঠিক সাড়ে আটটা নাগাদ মেদিনীপুর কলেজে প্রবেশ করেছিল দলমার একটি দামাল বা দাঁতাল। খড়্গপুর গ্রামীণের জকপুর থেকে খড়্গপুর হয়ে একেবারে মেদিনীপুর শহরে পৌঁছে রীতিমতো হুলুস্থুল বাঁধিয়ে দিয়েছিল এই মত্ত মাতঙ্গ’টি। তার সাথে অতি উৎসাহীদের ভিড়! রাত্রি ৯ টা নাগাদ যদিও মেদিনীপুর কলেজ থেকে হাতিটিকে বের করলেন বনকর্মীরা, পথ না পেয়ে এবার সে পৌঁছে গেল সোজা মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। পরিত্যক্ত একটি বাগানে লুকিয়ে গেল এই বুনো হাতিটি। অবশেষে, ঘুমপাড়ানি ওষুধ (ট্রাঙ্কুলাইজার) প্রয়োগ করে ধীরে ধীরে তাকে বশে আনা হল। রাত্রি বা ভোর ৩ টা নাগাদ ছেড়ে আসা হল গভীর জঙ্গলে, নিরাপদ স্থানে।

thebengalpost.in
জঙ্গলে আগুন :

thebengalpost.in
মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে রাত্রি ১২ টা নাগাদ হাতিটিকে নিয়ন্ত্রণে আনা হল :

পশুপ্রেমী ও বনবিভাগের আধিকারিকদের মতে, যেভাবে জঙ্গলমহল জুড়ে একের পর এক জঙ্গলে অজ্ঞ-অসচেতন-অসৎ মানুষেরা আগুন লাগিয়ে দিচ্ছেন, তাতেই জঙ্গলের এই বৃহদাকার জন্তুগুলি লোকালয়ে আশ্রয় নিচ্ছে! বুনো হাতি তাই বন ছেড়ে একেবারে জেলা শহরে হাজির হয়েছে। সচেতন মানুষের জিজ্ঞাসা, এরপরেও কি মানুষের বোধবুদ্ধি হবেনা? এদিন (২৫ শে ফেব্রুয়ারি), যেভাবে রাত্রি সাড়ে আটটা থেকে ভোর তিনটে অবধি ভয়াবহ লড়াই চালাতে হল বনকর্মীদের, তা অবর্ণনীয়! অক্লান্ত পরিশ্রম করে, দু’দুটি ঘুমের ওষুধ প্রয়োগ করে, হাতিটিকে অবশ করা হল। মেদিনীপুর বনবিভাগের আধিকারিক’দের উপস্থিতিতে ভাদুতলা ও মেদিনীপুরের রেঞ্জ অফিসারদের নেতৃত্বে এবং অসংখ্য বনকর্মী ও হুলা পার্টিদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ থেকে রাত্রি সাড়ে ১২ টা নাগাদ, হাতিটিকে ক্রেনে করে তুলে, বনদপ্তরের গাড়িতে করে, রাত্রি ৩ টা নাগাদ গভীর জঙ্গলে ছেড়ে আসা হল।

thebengalpost.in
রাত্রি সাড়ে ১২ টা, ক্রেনে করে তোলা হল :

thebengalpost.in
ভোর ৩ টা, গভীর জঙ্গলে গজরাজ :

আরও পড়ুন -   উদ্বেগ বাড়িয়ে পশ্চিম মেদিনীপুরে করোনা আক্রান্ত ৩৫ জন! খড়্গপুরে ১৬, মেদিনীপুরে ১১, সংক্রমণ ছড়াচ্ছে জেলার অন্যত্রও