মহামারীর মধ্যেও করতে হচ্ছে স্কুলের বিভিন্ন কাজ, তা সত্বেও কাজ হারানোর ভয়ে আইসিটি কম্পিউটার শিক্ষকেরা, দাবি কর্ম নিশ্চয়তার

শান্তনু মাইতি, কলকাতা, ১৬ সেপ্টেম্বর : চরম দুরবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন তাঁরা! রয়েছে কাজ হারানোর আতঙ্ক। বিনা বেতনেও চালিয়ে যেতে হচ্ছে কাজ। মহামারীর মধ্যেও স্কুলের বিভিন্ন দায়িত্ব পালনে তৎপর তাঁরা। রাজ্যের বিভিন্ন সরকারী ও সরকার পোষিত বিদ্যালয়ে কর্মরত সেই আইসিটি প্রোজেক্টের শিক্ষকেরা মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) কলকাতা প্রেস ক্লাবে নিজেদের দাবিদাওয়া তুলে ধরলেন সাংবাদিক বৈঠক করে।

দ্য বেঙ্গল পোস্ট
কলকাতা প্রেস ক্লাবে আইসিটি প্রোজেক্টের শিক্ষকেরা :

মঙ্গলবার কলকাতা প্রেস ক্লাবে নিজেদের ন্যায্য দাবি তুলে ধরতে আইসিটি কম্পিউটার শিক্ষক-শিক্ষিকারা সাংবাদিক বৈঠক করলেন। সংগঠনের সভাপতি স্বরূপ পান বলেন, “আমরা আইসিটি কম্পিউটার শিক্ষক-শিক্ষিকারা ছাত্র-ছাত্রীদের কম্পিউটার শিক্ষাদানের পাশাপাশি রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ করে আসছি। বর্তমানে, করোনা পরিস্থিতিতেও আমরা স্কুলের বিভিন্ন কাজ যেমন শিক্ষাশ্রী, ঐক্যশ্রী, কন্যাশ্রী প্রকল্পগুলোর কাজ, বাংলার শিক্ষা পোর্টালে ডাইসের কাজ, ওয়েবসাইট ক্রিয়েশনের কাজ ইত্যাদি করে চলেছি। পরিচালনার দায়িত্বে থাকা তিনটি কোম্পানি (School Net, Aces, Extramarks) সঠিক সময়ে বেতন প্রদান করছে না।” কোম্পানিগুলির বিরুদ্ধে আর্থিক প্রতারণার তথ্য তুলে ধরে, তাঁরা বলেন, সরকারের নিজস্ব নিয়ন্ত্রণাধীনে ৬০ বছর পর্যন্ত তাঁদের চাকরির নিশ্চয়তা প্রদান করা হোক। সম্প্রতি, ৫ বছরের চাকরির মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার অজুহাত দিয়ে তাঁদের ৪০০ জন সহকর্মীর কাজ কেড়ে নিয়েছে কোম্পানি এবং ডিসেম্বর নাগাদ আরো ১৬০০ জনের কাজ চলে যেতে পারে, তাই অবিলম্বে তাঁদের চাকুরীর নিশ্চয়তা প্রদানের দাবি তুললেন সংগঠনের শিক্ষক-শিক্ষিকারা। ৬০ বছর পর্যন্ত চাকরি সুনিশ্চিত করার দাবি ছাড়াও, সঠিক বেতন প্রদান এবং বেতন-নিশ্চয়তার দাবিও তুললেন তাঁরা। এছাড়াও, ছাত্র-ছাত্রীদের এই কম্পিউটার শিক্ষা যাতে বন্ধ না হয় সে দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা। বিগত কয়েক বছর ধরে জেলাশাসকের দপ্তর, বিকাশ ভবন তদা শিক্ষামন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়ে আসছেন তাঁরা, তা সত্বেও হয়নি কোনো সুরাহা! তাই, কলকাতা প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক বৈঠক করে নিজেদের দাবিগুলি পুনরায় তুলে ধরলেন এই শিক্ষক-শিক্ষিকারা।

আরও পড়ুন -   জেইই এবং নিট পরীক্ষার্থীদের জন্য নির্দেশিকা জারি ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি'র, ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী