লোকসভার নিরীখে পশ্চিম মেদিনীপুরে শাসকদলের পক্ষে ফল ছিল ৮-৭, বিধানসভায় ১৫-০ বলছে দু’পক্ষই

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ২ এপ্রিল: পাঁচ বছর আগের বিধানসভা নির্বাচনে (২০১৬), ১৫ টির মধ্যে ১৪ টি আসন (খড়্গপুর সদর বাদে) তৃণমূলের দখলে থাকলেও, হিসেব বদলে যায় ২০১৯ এর নির্বাচনে! লোকসভা নির্বাচন (২০১৯) এর ফলাফলের ভিত্তিতে, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ১৫ টি বিধানসভার মাত্র ৮ টি আসনে এগিয়ে ছিল শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। ৭ টিতে এগিয়ে ছিল বিজেপি। এর মধ্যে, খড়্গপুর সদরের বিজেপি বিধায়ক দিলীপ ঘোষ মেদিনীপুরের সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর, উপ-নির্বাচনে তৃণমূলের প্রদীপ সরকারের কাছে ওই আসনটি হেরে যান বিজেপি প্রার্থী প্রেমচাঁদ ঝা। ফলে, শাসকদলের পক্ষে ফলাফল দাঁড়ায় ৯-৬। খড়্গপুর সদর বাদে অন্য যে ৮ টিতে এগিয়ে ছিল শাসকদল, সেগুলি হল- খড়্গপুর গ্রামীণ, কেশপুর, ঘাটাল, দাসপুর, চন্দ্রকোনা, শালবনী, সবং এবং পিংলা। অন্যদিকে, খড়্গপুর সদর হেরে যাওয়ার পর যে ৬ টিতে বিজেপি এগিয়ে ছিল- মেদিনীপুর, নারায়ণগড়, কেশিয়াড়ি, দাঁতন, গড়বেতা ও ডেবরা।

thebengalpost.in
কে কোথায় এগিয়ে (প্রতীকী ছবি, সংগৃহীত) :

গত ২৭ শে মার্চ প্রথম দফা এবং গতকাল (১ এপ্রিল) দ্বিতীয় দফা নির্বাচনের পর, পশ্চিম মেদিনীপুরের ১৫ টি আসনেই সম্পন্ন হল ভোট। চুলচেরা বিশ্লেষণে বসেছে শাসক ও বিরোধী দু’পক্ষই। এই মুহূর্তে যেহেতু বুথ ফেরত সমীক্ষা করা আইনত নিষিদ্ধ, তাই দু’পক্ষ দাবি করলেও, আমরা নিরপেক্ষ ভাবে কোন কিছু তুলে ধরতে পারবনা! শুধুমাত্র শাসকদল তৃণমূল ও প্রধান বিরোধী বিজেপির বিভিন্ন নেতাদের মতামত আপনাদের সামনে তুলে ধরে একটা আভাস দেওয়ার চেষ্টা করছি। একইসাথে লোকসভার নিরীখে কোন আসনে কোন দল কতভোটে এগিয়ে ছিল, তাও তুলে ধরছি। এই মুহূর্তে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূলের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা সভাপতি অজিত মাইতি’কে ফোন করা হলেও, তিনি ফোন ধরেননি। তবে, তিনি নিজে যেহেতু একটি আসনের (পিংলা) প্রার্থী ছিলেন, তাই তিনি হয়তো এখনও ব্যস্ত আছেন! শাসকদলের জেলা যুব সভাপতি প্রসেনজিৎ চক্রবর্তী জানিয়েছেন, “১৫ টিতেই আমরা জিতছি।” অন্যদিকে, শাসকদলের জেলা সাধারণ সম্পাদক সুজয় হাজরা বললেন, “অন্তত ১২ টিতে আমরাই জিতছি।” জেলা নেতা হিসেবে সুজয় বাবু মেদিনীপুর বিধানসভা সহ বিভিন্ন বিধানসভাতেই একেবারে ময়দানে নেমে প্রচার করেছেন। তাই তাঁর ইঙ্গিত যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর মতে, কেশিয়াড়ি, দাঁতন এবং ঘাটাল বিধানসভা’তে শাসকদলের সঙ্গে বিজেপির হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে! অন্যদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শাসকদলের নেতার বক্তব্য অনুযায়ী, খড়্গপুর গ্রামীণ, পিংলা, গড়বেতা, নারায়ণগড় এই ৪ টি আসনেও শাসকদল যথেষ্ট চাপে। গ্রামীণের শাসকদলের একাধিক কর্মী জানাচ্ছেন, তাঁদের ক্ষোভ প্রার্থীর বিরুদ্ধে ছিল এবং এখনও আছে। এক্ষেত্রে, সংখ্যালঘু ভোটের অনেকটাই সংযুক্ত মোর্চার (সিপিআইএম) তরুণ প্রার্থী সৈয়দ সাদ্দাম আলি’র পকেটে যেতে পারে বলে তাঁরা ইঙ্গিত দিয়েছেন। একইকথা বলছেন, সিপিআইএমের জেলা নেতারাও। অপরদিকে, ‌ভোটের আগের দিন নারায়ণগড়ের তৃণমূল প্রার্থী’র ‘হতাশাযুক্ত অডিও’ ভাইরাল হওয়া, ভোটও তাঁর বিপক্ষে গেছে বলে মনে করা হচ্ছে!

thebengalpost.in
পশ্চিম মেদিনীপুরে কে কোথায় এগিয়ে (প্রতীকী ছবি, সংগৃহীত) :

অপরদিকে, বিজেপির মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সোমেন তিওয়ারি বললেন, “৮ টির মধ্যে ৮ টিতেই আমরা জিতছি।” ঘাটাল সাংগঠনিক জেলার সভাপতি তন্ময় দাস বললেন, “একশো শতাংশ নিশ্চিত ৭ টির মধ্যে ৭ টিতেই আমরা জিতছি। এতটুকুও সন্দেহ নেই।” বিজেপির আর এক অভিজ্ঞ ভোট সেনাপতি তথা মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলার সহ সভাপতি অরূপ দাস বললেন, “এবারের ভোটে রাজ্যে পরিবর্তনের পক্ষে তথা যশস্বী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি’র পক্ষে তীব্র হাওয়া বইছে। তাই জঙ্গলমহল পশ্চিম মেদিনীপুরের ১৫ টি আসনই আমাদের পাওয়ার কথা। যেভাবে মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়েছে, সেই সম্ভাবনা প্রবল। তা সত্ত্বেও বলব, ১২ থেকে ১৩ টিতে একশো শতাংশ জয় নিশ্চিত।” এক্ষেত্রে রাজনৈতিক সমালোচকেরা বলছেন, মানুষের স্বতঃস্ফূর্ততা এবং উৎসবের আমেজে ভোট দেওয়া প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার বা পরিবর্তনের ইঙ্গিত। কিছু আসনে আবার তার উল্টোটাও ঘটে যায়! তবে, বেশিরভাগ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শাসকদলের ভোট বা মার্জিন যে কমবে, তা নিয়ে সন্দেহ নেই। সেক্ষেত্রে, আসনও কমে যেতে পারে বেশ কয়েকটি। এক্ষেত্রে, বিভিন্ন বিধানসভায় আবার প্রার্থী হিসেবে গ্রহণযোগ্যতার বিষয়টিও কাজ করেছে বলে রাজনৈতিক মহলের অভিমত। এবার দেখে নিন, ১৫ টি আসনে লোকসভার (২০১৯) নিরীখে কোন দল কত ভোটে এগিয়ে ছিল-
মেদিনীপুর (বিজেপি)- প্রায় ১৭ হাজার।
নারায়ণগড় (বিজেপি)- প্রায় ৯ হাজার।
দাঁতন (বিজেপি)- প্রায় ৭০০০।
কেশিয়াড়ি (বিজেপি)- প্রায় ১১০০০।
ডেবরা (বিজেপি)- প্রায় ৪০০০।
গড়বেতা (বিজেপি)- প্রায় ৭০০০।
খড়্গপুর গ্রামীণ (তৃণমূল)- প্রায় ৯০০০।
কেশপুর (তৃণমূল)- প্রায় ৯২,০০০।
ঘাটাল (তৃণমূল)- প্রায় ৬,০০০।
দাসপুর- (তৃণমূল)- প্রায় ১০,০০০।
চন্দ্রকোনা (তৃণমূল)- প্রায় ৩,০০০।
শালবনী (তৃণমূল)- প্রায় ৯,০০০।
সবং (তৃণমূল)- প্রায় ৬,০০০।
পিংলা (তৃণমূল)- প্রায় ১৭০০।
অপরদিকে, খড়্গপুর সদরে লোকসভার নিরীখে বিজেপি এগিয়ে ছিল, ৪৫,০০০ ভোটে। উপনির্বাচনে তৃণমূল জেতে ২০,০০০ এর বেশি ভোটে।

আরও পড়ুন -   "ভুরিভোজ" (৭ ম পর্ব) : রাধা ভট্টাচার্যী'র নিবেদন 'আপেলের পায়েস'