“নবীন পট্টনায়ককে দেখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভদ্রতা শেখা উচিত”, পশ্চিম মেদিনীপুরে দাঁড়িয়ে বললেন দিলীপ ঘোষ

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ৩০ মে: “ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়কের কাছে ভদ্রতা শেখা উচিত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের! নবীন জি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন, একসঙ্গে বৈঠক করেছেন। আর, বৈঠক শেষে জানিয়েছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এসেছেন এটাই অনেক! আমরা কেন্দ্র সরকারের ঘাড়ে অর্থের বোঝা চাপাবোনা, এই করোনা পরিস্থিতির মধ্যে। আমরা নিজেদের অর্থে আপাতত পরিস্থিতি সামাল দেব।’ আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত না জানিয়ে, দেরিতে পৌঁছেছেন। সঙ্গে মুখ্যসচিবকে নিয়ে ঢুকে, একটা কাগজ ধরিয়ে দিয়ে বেরিয়ে গেছেন গটগট করে! এটাই ওনার ভদ্রতা। আর, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শুধু টাকা আর টাকা! করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও ২০ হাজার কোটি টাকার ফিরিস্তি দিয়েছেন।” রবিবার জঙ্গলমহল পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার শালবনী ব্লকের কর্ণগড়ে বসে এভাবেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়’কে আক্রমণ করেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি তথা মেদিনীপুরের সাংসদ দিলীপ ঘোষ। নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে, দলীয় কর্মীদের উপর হওয়া অত্যাচার ও ঘরছাড়া করা নিয়েও শাসকদলের বিরুদ্ধে মুখ খোলেন তিনি। শনিবার দুপুরে,‌ শালবনীর কর্ণগড়ে দীর্ঘদিন ঘরছাড়া থাকা বিজেপি কর্মী গোপাল মিদ্যার বাড়ির উঠোনে বসেই তৃণমূল কংগ্রেস তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। যদিও, তাঁর অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন শালবনীর বিধায়ক তথা মন্ত্রী শ্রীকান্ত মাহাত।

thebengalpost.in
সকালে চা চক্রে খড়্গপুরে দিলীপ ঘোষ :

প্রসঙ্গত, অতিমারী ও দুর্যোগের পরিস্থিতিতে “সাংসদ জন আহার” কর্মসূচির সূচনা এবং শাসকদলের হাতে অত্যাচারিত কর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেই পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় পৌঁছেছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি তথা মেদিনীপুরের সাংসদ দিলীপ ঘোষ। সকালে খড়্গপুরে চা-চক্র সেরে তিনি পৌঁছন জঙ্গলমহল শালবনী ব্লকের কর্ণগড় ও সংলগ্ন বালিজুড়ি গ্রামে। প্রথমেই তিনি শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের হাতে অত্যাচারিত পরিবারগুলির সঙ্গে দেখা করেন এবং তাদের মুখ থেকে অত্যাচারিত হওয়ার বিবরণ শোনেন। পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে, “সাংসদ জন আহার” কর্মসূচির সূচনা করেন জঙ্গলমহলের প্রত্যন্ত এই গ্রামে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে লকডাউনে অসহায় পড়া পরিবারগুলির হাতে দুপুরের আহার (ভাত, ডাল, তরকারি প্রভৃতি) তুলে দেওয়া হয়। এরপরই সাংবাদিকদের সঙ্গে মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়’কে তীব্র ভাষায় কটাক্ষ করেন মেদিনীপুরের সাংসদ। তিনি বলেন, “ভদ্রতা, মান-সম্নান জ্ঞান, আর সাংবিধানিক আচরণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছ থেকে শেখার প্রয়োজন নেই! উনি বরং শিখুন। যে মুখ্যমন্ত্রী একসময় প্রধানমন্ত্রী’কে কোমরে দড়ি বেঁধে ঘোরানোর কথা বলেন, রাজ্যে আসা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভদ্রভাবে সাক্ষাৎ না করে একটা কাগজ ধরিয়ে দিয়ে মুখের সামনে দিয়ে মুখ্যসচিবকে সঙ্গে নিয়ে বেরিয়ে যান, তিনি আবার কি ভদ্রতার কথা বলেন, সংবিধানের কথা বলেন!” ত্রাণ নিয়ে রাজনীতির করার কথাও বলেছেন তিনি। তবে তিনি জানিয়েছেন, “অত্যাচার হচ্ছে, মেরে ঝুলিয়ে দেওয়া হচ্ছে বিজেপি কর্মীদের। নির্বাচনের পর থেকে ৩৫-৩৬ জন কার্যকর্তাকে খুন করা হয়েছে। তবে, এই অত্যাচারের মধ্য দিয়েই পশ্চিমবঙ্গে গত ৫-৬ বছর ধরে বিজেপি রাজনীতি করছে, ভবিষ্যতেও লড়াই চলবে।” ফেসবুক, টুইটারে শুভ্রাংশু রায়, সব্যসাচী দত্ত’দের মন্তব্য নিয়ে বিজেপি যে মাথা ঘামাচ্ছেনা তাও পরিষ্কার করে দেন তিনি! তিনি বলেন, “সোশ্যাল মিডিয়া দেখে বিজেপি রাজনীতি করেনা। তবে, বিভিন্ন মন্তব্যের মধ্য দিয়ে কেউ যদি সুপ্ত ইচ্ছা প্রকাশ করতে চান, সেটা তাদের ব্যাপার! এখনও তাঁরা বিজেপি দলে আছে বলেই জানি।” উল্লেখ্য যে, শুভ্রাংশু রায় ও সব্যসাচী দত্ত ‘জনগণের দ্বারা নির্বাচিত’ তৃণমূল সরকারের পক্ষে মন্তব্য করেছিলেন। এদিকে, বিজেপি রাজ্য সভাপতির বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে মুখ খুলেছেন তৃণমূলের শালবনী ব্লক সভাপতি তথা জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ নেপাল সিংহ। তিনি বলেছেন, “শান্ত শালবনীকে অশান্ত করতে এসেছিলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি।”

thebengalpost.in
“সাংসদ জন আহার” শালবনীতে :

আরও পড়ুন -   উৎসবের আনন্দ ঘরে ঘরে পৌঁছে দিল একদা মাও অধ্যুষিত লালগড়ের 'নবীন সংঘ', তমলুকে দুঃস্থ-অসহায়দের হাতে শীত বস্ত্র তুলে দিয়ে বন্ধুরা বলল 'পাশে আছি'