মেদিনীপুরের মুকুটহীন সম্রাট ‘দেশপ্রাণ’ বীরেন্দ্র শাসমল : ১৪০ তম জন্মদিনে শ্রদ্ধাঞ্জলি

দ্য বেঙ্গল পোস্ট বিশেষ প্রতিবেদন, ২৬ অক্টোবর : (লিখেছেন, মেদিনীপুর জর্জ কোর্টের প্রখ্যাত আইনজীবী তথা বার অ্যাসোসিয়েশনের প্রাক্তন চেয়ারম্যান শান্তি দত্ত) ‘দেশপ্রাণ’ বীরেন্দ্রনাথ শাসমলের জন্ম হয় অবিভক্ত মেদিনীপুর জেলার (বর্তমানে, ত্রি খন্ডিত, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রাম) কাঁথি মহকুমার চন্দ্রভেটি (চাঁদিভেটি) গ্রামের বিখ্যাত জমিদার পরিবারে, ১৮৮১ সালের ২৬ শে অক্টোবর। গ্রামের স্কুলে এবং পরে মহকুমা হাইস্কুলে পাঠ শেষ করে, বীরেন্দ্রনাথ কলকাতার তৎকালীন মেট্রোপলিটন কলেজে এফএ ক্লাসে ভর্তি হন। অসাধারণ মেধাবী বীরেন্দ্রনাথ পাঠ্য বিষয়ের বাইরে একাগ্র মনে পড়াশোনা করতেন, দেশ-বিদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের কাহিনী এবং মনীষীদের জীবনী।
রাষ্ট্রগুরু সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিভিন্ন বক্তৃতা তাঁকে ভীষণভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল। বীরেন্দ্রনাথ বুঝেছিলেন, ইংরেজদের সঙ্গে লড়তে গেলে ওদের আইনটা আগে ভালোভাবে জানতে হবে। তাই তিনি তাঁর মায়ের আশীর্বাদ নিয়ে, ইংল্যান্ডে গেলেন আইন পড়তে, মায়ের দুটি শর্ত মেনে। তিনি খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করবেন না এবং কোন মেম সাহেব’কে বিয়ে করবেন না!
মেদিনীপুরের মুকুটহীন সম্রাট 'দেশপ্রাণ' বীরেন্দ্র শাসমল : ১৪০ তম জন্মদিনে শ্রদ্ধাঞ্জলি

ইংল্যান্ড থেকে ব্যারিস্টার হয়ে ফিরে এসে, বীরেন্দ্রনাথ কলকাতা হাইকোর্টে আইনি পেশায় যুক্ত হন। অতি অল্প সময়ের মধ্যেই বীরেন্দ্রনাথে’র প্রসার খুবই জমে ওঠে।
ওই সময় গ্রামেগঞ্জে কলেরা, বসন্ত রোগের খুবই প্রাদুর্ভাব ছিল। এছাড়াও ছিল, প্রায় প্রতি বছরই বন্যা অথবা খরার মত বিপর্যয়! সেচের মাধ্যমে জমিতে জল দেওয়ার কোন ব্যবস্থা ছিল না। উপরোক্ত যেকোন একটি ঘটনার কথা কানে এলেই, বীরেন্দ্রনাথ ছুটে যেতেন বিপর্যস্ত মানুষদের সাহায্য করতে। তিনি জাতপাত মানতেন না, তাই জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সবাই তাঁর সাহায্য পেতেন। কোনরকম কুসংস্কারকে তিনি কোনদিন প্রশ্রয় দিতেন না!
স্বদেশী করার অপরাধে বন্দী হওয়া বিপ্লবীদের হয়ে, বিনা পারিশ্রমিকে জেলা আদালত বা কলকাতা হাইকোর্টে জন্য লড়াই করতেন। প্রয়োজনে তাঁদের আর্থিক সাহায্যও করতেন। মেদিনীপুর তখন ছিল বিপ্লবীদের পীঠস্থান।
১৯১৩ সালে ইংরেজরা ঠিক করলেন, মেদিনীপুর’কে দ্বিখন্ডিত করে বিপ্লবীদের শায়েস্তা করতে। ইংরেজদের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গর্জে উঠল মেদিনীপুর বাসী এবং গর্জে ওঠেন বীরেন্দ্রনাথ। শুরু হয় জেলা ভাগের বিরুদ্ধে ব্যাপক আন্দোলন। এই সময় প্রথম বিশ্বযুদ্ধের দামামা বেজে উঠায় ইংরেজরা জেলা ভাগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। ১৯১৯ সালে ইংরেজরা সিদ্ধান্ত নিল মেদিনীপুর জেলায় ২৩৫ টি ইউনিয়ন বোর্ড তৈরি করার। সরকারি সিদ্ধান্তের কারণ ছিল, জেলাবাসীর ওপর জুলুম বাজির মাধ্যমে বর্ধিত ট্যাক্স আদায় করা। বীরেন্দ্রনাথে’র নেতৃত্বে তৈরি হয়েছিল ইউনিয়ন বোর্ড প্রতিরোধ আন্দোলন। ভারতীয় কংগ্রেস এই আন্দোলনকে পুরোপুরি সমর্থন করেছিল। বীরেন্দ্রনাথ দেশবাসীর কাছে প্রতিজ্ঞা করে জানালেন, যতদিন না পর্যন্ত তিনি ইউনিয়ন বোর্ড গুলিকে তুলতে পারবেন, ততদিন পর্যন্ত তিনি নগ্ন পায়ে থাকবেন। জমিদার বাড়ির ছেলে, প্রতিষ্ঠিত ব্যারিস্টার খালি পায়ে জেলার প্রত্যন্ত এলাকায় ঘুরে ঘুরে দেশবাসীকে বুঝিয়েছিলেন, ইউনিয়ন বোর্ড গঠনের ক্ষতিকর দিকগুলি। তিনি দেশবাসীকে ট্যাক্স দেওয়া বন্ধ করতে বললেন। ট্যাক্স বন্ধ হওয়ায়, সরকারের নির্দেশে পুলিশ একের পর এক বাড়ি থেকে সমস্ত জিনিসপত্র ক্রোক করে থানায় নিয়ে যেতে শুরু করল। ইংরেজরা ক্রোক করা মাল গুলিকে নিলামের ব্যবস্থা করল। ৫০০ টাকার মাল ৫ টাকা তেও কেউ কিনলো না! বহু মানুষকে ইংরেজরা গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠিয়ে দিল। থানা এবং সরকারি দপ্তরগুলি গ্রামের মানুষের ক্রোক করা জিনিসপত্র গুলিতে ভর্তি হয়ে গেল। শেষে ইংরেজরা বাধ্য হয়ে ইউনিয়ন বোর্ডগুলি তুলে নিল এবং সমস্ত বন্দী মানুষগুলিকে বিনা বিচারে ছেড়ে দিল। এরপর, কাঁথির ময়দানে বহু মানুষ সমবেত হয়ে বীরেন্দ্রনাথ শাসমলের পায়ে জুতো পরিয়ে দেন। বীরেন্দ্র শাসমল’কে কংগ্রেস দল তাদের বঙ্গীয় সম্পাদক নিযুক্ত করেন। সম্পাদকরা ওই সময় প্রতি মাসে ১০০ টাকা করে দল থেকে বৃত্তি পেত। বীরেন্দ্রনাথ শাসমল কোনদিনই ওই বৃত্তি’র টাকা নেননি। তিনি ছিলেন দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের খুবই অনুগত।

thebengalpost.in
মেদিনীপুরের মুকুটহীন সম্রাট ‘দেশপ্রাণ’ বীরেন্দ্র শাসমল : ১৪০ তম জন্মদিনে মেদিনীপুর ডট ইনের শ্রদ্ধাঞ্জলি (ছবি: মেদিনীপুর ডট ইন midnapore.in) :

১৯২১ সালে ইংল্যান্ডের যুবরাজ ভারতবর্ষ পরিভ্রমণে এলে, কংগ্রেস দেশব্যাপী প্রতিবাদ হরতালের আহ্বান জানায়। সম্পাদক হিসাবে বীরেন্দ্রনাথ আন্দোলন সংগঠিত করেন কলকাতায়। এই অপরাধের জন্য, ইংরেজরা দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ, বীরেন্দ্রনাথ শাসমল, সুভাষচন্দ্র বসু সহ অনেক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। বিচারে তাদের ৬ মাসের কারাদণ্ড হয়। ছ’মাস জেলে কাটিয়ে বীরেন্দ্রনাথ শাসমল মেদিনীপুরে আসেন। মেদিনীপুরের মানুষজন তাদের প্রিয় নেতা’কে সেদিন ‘দেশপ্রাণ’ উপাধিতে ভূষিত করে সম্মান জানান। ১৯২৩ সালে জেলা বোর্ডের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন বীরেন্দ্রনাথ শাসমল। ইংরেজরা ‘দেশপ্রাণ’ বীরেন্দ্র নাথ শাসমলের জনপ্রিয়তা এবং তাঁর তেজস্বীতা’কে কোনদিন সহ্য করতে পারত না। ইংরেজরা ওনাকে Black Bull বলতো এবং প্রতি পদে পদে তাঁকে কাজে বাধা দিয়ে আসতো। কিন্তু, সমস্ত বাধা উপেক্ষা করে তিনি বেশ কয়েকটি প্রাথমিক স্কুল স্থাপন করেছিলেন। করেছিলেন পুকুর খনন, নলকূপ তৈরি এবং রাস্তাঘাট নির্মাণ। জেলা বোর্ড যে একটি জনসাধারণের উন্নতির কর্মক্ষেত্র তা দেশপ্রাণ বীরেন্দ্র শাসমলের চেয়ারম্যান হওয়ার আগে মানুষ বুঝতেই পারেননি। দেশপ্রাণ এর আগে সাধারণত বোর্ডের চেয়ারম্যান হতেন ইংরেজদের মনোনীত কোন এক ব্যক্তি। যিনি জেলাশাসকের নির্দেশ অনুযায়ী চলতেন। তাঁর চেয়ারম্যান থাকাকালীন দুটি ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, দেশপ্রাণ বীরেন্দ্রনাথ শাসমল ছিলেন মেদিনীপুরের ‘সিংহশিশু’ বিদ্যাসাগরের যোগ্য উত্তরসূরী! প্রথম ঘটনা– বাংলার ছোটলাট লিটন সাহেব মেদিনীপুর সফরে আসবেন। ছোট লাটের সম্বর্ধনা যাতে মেদিনীপুরে যথোপযুক্ত ভাবে হয়, সেই কারণে তৎকালীন জেলা শাসক মিস্টার গ্রাহাম তাঁর সঙ্গে দেখা করার জন্য চিঠি লিখে ডেকে পাঠালেন, জেলা বোর্ডের চেয়ারম্যান বীরেন্দ্রনাথ শাসমল’কে। জেলাশাসকের চিঠির উত্তরে দেশপ্রাণ জানিয়ে দিলেন, তিনি ছোটলাটের সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন না, কারণ ইংরেজ সরকার তাঁকে বিনা দোষে এবং বিনা প্রমাণে জেলে পাঠিয়েছিল। অতএব এ ব্যাপারে কোনরকম আলোচনারও অবকাশ নেই। দ্বিতীয় ঘটনা– এর কিছুদিন পরে জেলাশাসক দেশপ্রাণ’কে কোন একটি বিষয়ে আলোচনার জন্য তাঁর বাংলোতে ডেকে পাঠান। দেশপ্রাণ চিঠি দিয়ে জানিয়ে দিলেন, জেলাশাসক প্রয়োজন মনে করলে তাঁর জেলা বোর্ডের দপ্তরে এসে দেখা করতে পারেন, তিনি জেলাশাসকের বাংলোতে যাবেন না! কতখানি মানসিক জোর এবং দেশাত্মবোধ থাকলে পরাধীন ভারতের একজন মানুষ, ব্রিটিশ জেলাশাসক কে এই ভাবে উপেক্ষা করতে পারেন, তা ‘দেশপ্রাণ’ বীরেন্দ্রনাথ শাসমল দেখিয়ে গেছেন। ‘দেশপ্রাণ’ বীরেন্দ্রনাথ শাসমলের কর্মকাণ্ডের কথা মহাত্মা গান্ধী বিভিন্ন সূত্র থেকে জানতে পেরেছিলেন এবং মাঝে মাঝে খোঁজ নিতেন এই মানুষটির। যেকোন মানুষ তাঁর দুঃখ কষ্ট নিয়ে দেশপ্রাণের কাছে সাহায্য চাইলে, সেই মানুষটি কোনদিনই শূন্য হাতে ফিরে যেতেন না। ঠিক যেমনটা আমরা দেখেছিলাম, ‘দেশবন্ধু’ চিত্তরঞ্জন দাশের চরিত্রে। ১৯৩০ সালে মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে লবণ আন্দোলন শুরু হয়। এই আন্দোলনের আহবানে যুক্ত হতে মেদিনীপুরের মানুষেরাও ‘দেশপ্রাণ’ বীরেন্দ্রনাথ শাসমল কে নিয়ে বঙ্গোপসাগরের দিকে এগিয়ে যান। নরঘাটের কাছে একটি জায়গাতে ওই সমস্ত স্বদেশীদের পুলিশ ঘিরে ফেলে এবং পিছিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। সেদিন সেই আন্দোলনকারীরা ব্রিটিশের গুলির মুখে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন আমরা পিছাবোনা! ইংরেজরা তখন আন্দোলনকারীদের উপর মারধর শুরু করে। অনেক মানুষে মারা যান এবং অনেক মানুষ আহত হন। কিন্তু, তাঁরা পিছিয়ে যান নি, সেই জন্যই ওই জায়গাটির পরবর্তীকালে নাম হয়” পিছাবনী।”

thebengalpost.in
মেদিনীপুর ও খড়্গপুরের সংযোগস্থলে বীরেন্দ্র শাসমল সেতু সংস্কারের কাজ চলছে :

‘দেশপ্রাণ’ বীরেন্দ্রনাথ শাসমল চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুন্ঠন মামলায় বিপ্লবীদের জন্য বিনা পারিশ্রমিকে সওয়াল করেছিলেন হাইকোর্টে। মেদিনীপুরের জেলাশাসক ডগলাস হত্যা মামলায় তিনি আসামী পক্ষের হয়ে লড়াই করেছিলেন মেদিনীপুর আদালতে। ১৯৩৩ সালে কলকাতা কর্পোরেশনের নির্বাচন হয়। এই নির্বাচনে জয়ী হন দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ, দেশপ্রাণ বীরেন্দ্রনাথ শাসমল এবং নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু। দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ কলকাতা কর্পোরেশনের প্রথম মেয়র নির্বাচিত হন। প্রধান অফিসার হিসাবে নিযুক্ত হওয়ার কথা ছিল দেশপ্রাণ বীরেন্দ্রনাথ শাসমলের; কিন্তু সেদিন ওই পদে বসানো হয়েছিল নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু’কে। মেদিনীপুরের মুকুটহীন সম্রাটের প্রতি সেদিন অবিচার করা হয়েছিল। এর পরের বছর দেশপ্রাণ বীরেন্দ্রনাথ শাসমল কেন্দ্রীয় আইনসভার সদস্য নির্বাচিত হন। এর আগে, আইন সভার নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করাকে কেন্দ্র করে চিত্তরঞ্জন দাস, মতিলাল নেহেরু, সত্য মূর্তি, হাকিম আফজাল খা, বিটল ভাই প্যাটেল, মদনমোহন মাল বিয়া, বীরেন্দ্রনাথ শাসমল প্রভৃত্তি রা কংগ্রেস ছেড়ে “স্বরাজ্য পার্টি”গঠন করেন। দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ ওই দলের সভাপতি নির্বাচিত হন। পরে অবশ্য এই দল কংগ্রেসের সঙ্গে মিশে যায়। কঠোর পরিশ্রমের কারণে দেশপ্রাণ বীরেন্দ্রনাথ শাসমল একসময় খুবই অসুস্থ হয়ে পড়েন। ২৪ শে নভেম্বর ১৯৩৪ সালে মাত্র ৫৩ বছরে বছর বয়সে তাঁর জীবন দীপ নিভে যায়। কারাগারে থাকাকালীন তিনি তাঁর আত্মজীবনীমূলক একটি পুস্তক লিখে যান, যার নাম দেন “স্রোতের তৃণ”। বাংলা তথা ভারত মায়ের এই বীর সন্তান বলেছিলেন, “তিনি কখনও কারো কাছে মাথা নত করেননি। তাই তাঁর মৃত্যুর পরে তাঁর মাথা যেন অবনত না করা হয়।” তাঁর ইচ্ছানুযায়ী তার মরদেহ দণ্ডায়মান অবস্থায় কলকাতার কেওড়াতলা শ্মশান ঘাটে দাহ করা হয়। এখনো পর্যন্ত দক্ষিণ কলকাতার একটি রাস্তার নাম, কাঁসাই নদীর ওপর মেদিনীপুর-খড়গপুর সংযোগকারী সেতুটি’র নাম এবং কাঁথি মহাকুমার দু-একটি বিদ্যালয় তার নামে করা ব্যতীত এই মানুষটিকে আমরা যথেষ্ট সম্মান প্রদান করতে করিনি। এই মানুষটির প্রকৃত মূল্যায়ন এখনো হয়নি! ১৪০ তম জন্মদিনে দেশপ্রাণকে জানাই সশ্রদ্ধ প্রণাম!

thebengalpost.in
দেশপ্রাণ বীরেন্দ্র শাসমল সেতু বা কংসাবতী সেতু (মেদিনীপুর) :

আরও পড়ুন -   মহামারীর সময়েও ধর্মীয় অনুষ্ঠান'কে প্রাধান্য দেওয়ায় বিরোধীদের কোপের মুখে মুখ্যমন্ত্রী