আগামীকাল থেকে পরিবহন কর্মী-হকারদের টিকা দেবে পশ্চিম মেদিনীপুর, জেলার ৪৯৬ টি কোভিড শয্যায় চিকিৎসাধীন ৩১৯ জন

thebengalpost.in
খড়্গপুরের নতুন সেফ হোম :

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১২ মে: বেসরকারি পরিবহনকর্মী, হকার এবং সাংবাদিকদের জন্য ১০ হাজার ভ্যাকসিন পাঠানো হয়েছে রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে। আগামীকাল (১৩ মে) থেকে তা দেওয়া শুরু হবে বলে জানা গেছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, রাজ্য সরকারের তরফে আগেই এই বিষয়ে ঘোষণা করা হয়েছিল। সাধারণ মানুষের মধ্যে সংক্রমণ কমানোর জন্য এবার সরকারি পরিবহন কর্মীদের সাথে সাথে বেসরকারি পরিবহনকর্মী, হকারদেরও টিকা দেওয়া হবে। অন্যদিকে, প্রথম শ্রেণীর করোনা যোদ্ধা হিসেবে সমস্ত সাংবাদিক দেরও করোনা টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে রাজ্য সরকারের তরফে। যদিও, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন ও জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের উদ্যোগে প্রথম পর্বেই জেলার অধিকাংশ সাংবাদিক টিকা নিয়েছেন। এখনও অবশিষ্ট আছেন যাঁরা, তাঁরা আগামীকাল থেকে টিকা নিতে পারবেন, জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের নির্দেশিকা অনুযায়ী।

thebengalpost.in
বেসরকারি উদ্যোগে জেলায় আজ থেকে শুরু হল নতুন সেফ হোম (উদ্বোধন করলেন প্রশাসনের আধিকারিকরা) :

অপরদিকে, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় এই মুহূর্তে কোভিড শয্যা আছে ৪৯৬ টি। জেলার ৬ টি করোনা হাসপাতালের এই ৪৯৬ টি বেডে বুধবার দুপুর পর্যন্ত ৩১৯ জন চিকিৎসাধীন আছেন। লেভেল ফোর শালবনী করোনা হাসপাতালের ২০০ টি বেডে চিকিৎসাধীন আছেন ১২৯ জন, ঘাটাল সুপার স্পেশালিটির ৮০ টি করোনা শয্যায় চিকিৎসাধীন আছেন ৭০, খড়্গপুর মহকুমা হাসপাতালের কোভিড ওয়ার্ডের ৫০ টি বেডে চিকিৎসাধীন আছেন ৩৪ জন। অপরদিকে, ডেবরা সুপার স্পেশালিটির করোনা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আছেন ৩০ জন, বেড আছে ৫০ টি। আয়ুশ করোনা হাসপাতালের ১০০ টি বেডে চিকিৎসাধীন আছেন ৩১ জন। অন্যদিকে, মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের HDU SARI ইউনিটে চিকিৎসাধীন আছেন ২৫ জন। বেড আছে মাত্র ২৬ টি। সবমিলিয়ে জেলার করোনা হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাধীন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা হল- ৩১৯। এদিকে, মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের পরিষেবা ও শয্যা কম থাকা নিয়ে অভিযোগ তুলছেন অনেক রোগীর পরিজন থেকে শুরু করে জেলার সচেতন নাগরিকরা। বিভিন্ন সমাজকর্মী থেকে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা দাবি তুলছেন, অবিলম্বে বেড বাড়ানো হোক মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের করোনা ওয়ার্ডে। এ নিয়ে অবগত আছেন বলে জানিয়েছেন জেলার জনস্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ শ্যামপদ পাত্রও। তিনি বললেন, “এ নিয়ে আমি কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনকে জানিয়েছি। আবারও কথা বলব।” অপরদিকে, মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডাঃ পঞ্চানন কুন্ডু জানিয়েছেন, “২৬ টি বেড ছাড়াও, আমরা করোনা সাসপেক্টেড বা করোনা উপসর্গযুক্ত কিন্তু রিপোর্ট নেগেটিভ বা টেস্টই হয়নি, এরকম রোগীদের জন্য ৫০ টি সারি বেড রেখেছি। এছাড়াও, করোনা সংক্রমিত প্রসূতিদের জন্য ১০ টি পৃথক আইসোলেশন বেড রাখা আছে। এছাড়াও, আমরা চেষ্টা করছি বেড বাড়ানোর, তবে ওই ওয়ার্ডে তো আর জায়গা নেই। আবার, যেখানে-সেখানে করোনা রোগী রাখাও সম্ভব নয়, অন্যান্য সাধারণ রোগীদের সমস্যা হতে পারে। তা সত্ত্বেও চেষ্টা করছি।”

thebengalpost.in
খড়্গপুরের নতুন সেফ হোম :

এদিকে, লেভেল ফোর শালবনী করোনা হাসপাতালে পর্যাপ্ত সংখ্যক চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী’র অভাব নিয়ে কর্তৃপক্ষের ক্ষোভ আছে। তাঁদের মতে, “১২০-১৩০ জন রোগী, এর মধ্যে আবার অর্ধেকের বেশি সঙ্কটজনক! HDU ওয়ার্ডেই ভর্তি ৫০ জন। পরিস্থিতি সামলানো ভয়াবহ হয়ে যাচ্ছে।” নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চিকিৎসক বললেন, “উপায় নেই, নিজেরা অসুস্থ হয়ে পড়ছি, তা সত্ত্বেও রোগী দেখে চলেছি!” এ নিয়ে জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ নিমাই চন্দ্র মন্ডল জানিয়েছেন, “এবার পরিস্থিতি আগের বারের থেকেও কঠিন। সঙ্কটজনক রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। শালবনীর উপরই চাপ বেশি পড়ছে। তাই, আরও কিছু চিকিৎসক ওখানে দেওয়ার বিষয়ে জেলা প্রশাসনের সাথে কথা হয়েছে।” অপরদিকে, জেলার উপ মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ সৌম্যশঙ্কর সারেঙ্গী জানিয়েছেন, “চিকিৎসক, নার্স, CCU বিশেষজ্ঞ নেওয়ার জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছিল। আজকেই ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। করোনা হাসপাতাল গুলিতে চিকিৎসক ও নার্সের সংখ্যা বাড়ানোর জন্যই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জেলা প্রশাসনের তরফে। তবে, কঠিন এই পরিস্থিতিতে দাঁতে দাঁত চেপে আমাদের স্বাস্থ্য যোদ্ধারা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন, তাঁদের কুর্নিশ জানাই।” তিনি এও জানিয়েছেন, “মাত্র ১৭০০০ ভ্যাকসিন এসেছে। এর মধ্যে, পরিবহন কর্মী, হকার ও সাংবাদিকদের জন্য ১০,০০০। আগামীকাল থেকে তা দেওয়া হবে। বাকি ৭,০০০ হয়তো দ্বিতীয় ডোজ দিতেই চলে যাবে! আশা করছি আরও ভ্যাকসিন পাঠানো হবে।”

আরও পড়ুন -   করোনা আক্রান্ত হয়ে চালকের মৃত্যু, সংক্রমিত মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ