উদ্বেগ বাড়িয়ে পশ্চিম মেদিনীপুরে করোনা আক্রান্ত ৩৫ জন! খড়্গপুরে ১৬, মেদিনীপুরে ১১, সংক্রমণ ছড়াচ্ছে জেলার অন্যত্রও

thebengalpost.in
পশ্চিম মেদিনীপুরেও বাড়ছে করোনা সংক্রমণ :

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ৬ এপ্রিল: কালবৈশাখীর ঝড় আসুক বা না আসুক, করোনা ঝড়ে ফের কুপোকাত হতে চলেছে সারা বাংলা! ইতিমধ্যেই, মহারাষ্ট্রের অবস্থা বেসামাল হয়ে পড়েছে। মুম্বাই সহ বিভিন্ন শহরে লকডাউন বা নাইট কার্ফু শুরু হয়ে গেছে। ছত্তিশগড়, পাঞ্জাব, কর্ণাটক, দিল্লি, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, গুজরাট, তামিলনাড়ু, উত্তর প্রদেশ, কেরালা সহ বিভিন্ন রাজ্যের অবস্থাও ক্রমে ভয়াবহ হয়ে উঠছে। করোনা’র দ্বিতীয় ঢেউয়ে পশ্চিমবঙ্গের অবস্থাও রীতিমতো আশঙ্কাজনক হয়ে পড়েছে। রবিবার করোনা সংক্রমিত হয়েছিলেন ১৯৫৭ জন। সোমবার ১৯৬১ জন! মৃত্যু হয়েছে ৪ জনের। কলকাতা আর উত্তর ২৪ পরগণার অবস্থা আতঙ্কিত হওয়ার মতোই। গত চব্বিশ ঘণ্টায় সংক্রমিত যথাক্রমে ৬০৬ ও ৫০৩। এরপরই আছে, হাওড়া (১৮৪), দক্ষিণ চব্বিশ পরগণা (১২২), হুগলি (৮২) ও পশ্চিম বর্ধমান (৭৯)। এদিকে, করোনা প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করেছে দুই মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম সহ জঙ্গলমহলেও। সবমিলিয়ে, সারা রাজ্য জুড়ে এক ভয়াল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে!

thebengalpost.in
কোভিডের বিরুদ্ধে নতুন যুদ্ধ :

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে প্রাপ্ত সোমবার রাতের রিপোর্ট অনুযায়ী, গত চব্বিশ ঘণ্টায় জেলায় করোনা সংক্রমিত হয়েছেন ৩৫ জন! এর মধ্যে, আইআইটি ক্যাম্পাসের (IIT KHARAGPUR) ২ জন সহ শুধুমাত্র খড়্গপুরেই ১৬ জন। মেদিনীপুর শহরে ১১ জন। এছাড়াও, দাসপুরে ৩ জন, দাঁতনে ২ জন এবং কেশিয়াড়ি, চন্দ্রকোনা ও গড়বেতায় ১ জন করে সংক্রমিত হয়েছেন। উদ্বেগজনক এই পরিস্থিতিতে, সোমবার জেলাশাসক ডঃ রশ্মি কমলের নেতৃত্বে জেলা টাস্ক ফোর্সের কোভিড সংক্রান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিত ছিলেন, জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ নিমাই চন্দ্র মন্ডল, মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডাঃ পঞ্চানন কুন্ডু, উপ মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক (১) ডাঃ সৌম্যশঙ্কর সারেঙ্গী প্রমুখ। অতিরিক্ত জেলাশাসক বৃন্দ, অতিরিক্ত মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক বৃন্দ এবং জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অম্লান কুসুম ঘোষও এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। কোভিড প্রতিরোধে একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের HDU-SARI ইউনিট ছাড়াও, শালবনী সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালেও পুনরায় কোভিড চিকিৎসা পরিষেবা প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। স্বল্প উপসর্গ থাকলেও এবার থেকে আর হোম আইশোলেশন নয়, হাসপাতালেই (খড়্গপুর মহকুমা হাসপাতাল, ঘাটাল মহকুমা হাসপাতালেও সেফ হোম পরিষেবা দেওয়া হবে) চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার বিষয়েও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে এবং সারা জেলা জুড়ে পুনরায় সচেতনতা মূলক প্রচার চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে প্রশাসন সূত্রে।

thebengalpost.in
প্রস্তুত শালবনী করোনা হাসপাতাল (HDU Unit) :

এদিকে, গত বছর (২০২০) এই সময়ে রাজ্যে সবেমাত্র প্রবেশ করেছিল (১৭ মার্চ) করোনা। এপ্রিলের এই সময়ে, দৈনিক ৫০-৬০ জন করে আক্রান্ত হচ্ছিলেন রাজ্যে। রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি যখন শিখরে পৌঁছেছিল, সেই সময় অর্থাৎ জুন-জুলাই মাসে (২০২০) প্রতিদিন গড়ে ২০০০ জন বা তার বেশি মানুষ করোনা সংক্রমিত হচ্ছিলেন। দেশে সংক্রমিত হচ্ছিলেন দৈনিক ৭০-৮০ হাজার। সেই সময় সারা দেশের সাথে সাথে রাজ্যেও কঠোর লকডাউন পরিস্থিতি বজায় ছিল! ফলে ধীরে ধীরে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এসেছিল। করোনা গ্রাফ নিম্নমুখী হয়েছিল। কিন্তু, নতুন বছরে (২০২১) লকডাউন পর্ব কাটিয়ে সবেমাত্র স্বাভাবিক গতিতে এগোনো শুরু করেছিল সারা দেশ। তবে, করোনা ভ্যাকসিন আসার (১৬ জানুয়ারি, ২০২১) আগে থেকেই অবশ্য সাধারণ মানুষ কোভিড বিধি শিকেয় তুলেছিল। সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সহ ৫ রাজ্যের নির্বাচনী পরিস্থিতি। ফলে, ধীরে ধীরে ভয়াল আকার ধারণ করেছে করোনা। দেশের মাত্র ৫-৬ শতাংশ মানুষ ভ্যাকসিনেশনের আওতায় আসার আগেই লাগামছাড়া করোনা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বাধ্য হয়েই তাই দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আগামী ৮ ই এপ্রিল রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছেন। বৈঠকে লকডাউন বিষয়ে আলোচনা হবে বলে জানা গেছে বিভিন্ন সূত্রে। অন্যদিকে, মহারাষ্ট্র তথা মুম্বাইয়ে ফের লকডাউন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায়, সেই রাজ্য থেকে পুনরায় পরিযায়ী শ্রমিকরা নিজেদের রাজ্যে ফিরে আসার প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছে বলেও জানা গেছে বিশ্বস্ত সূত্রে। সবমিলিয়ে, পরিস্থিতি যে ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে উঠতে চলেছে তা বলাই বাহুল্য!

আরও পড়ুন -   মেদিনীপুরে ভয়াবহ আগুন স্পিনিং মিলে, পুড়ে ছাই ১০ লক্ষ টাকার সুতো