লাগামছাড়া সংক্রমণ! ৮০০ ছাড়িয়ে হাজারের দিকে রাজ্য, মেদিনীপুর-খড়্গপুর সহ জেলায় ফের ৪ জন, সতর্ক করল কেন্দ্র

thebengalpost.in
রেকর্ড সংখ্যক করোনা সংক্রমণ :

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ২৯ মার্চ: একদিকে লকডাউনের বর্ষপূর্তি, অন্যদিকে করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ! ২০২০’র ২৪ শে মার্চ থেকে সারা ভারতবর্ষ জুড়ে শুরু হয়েছিল সেই ঐতিহাসিক লকডাউন! প্রায় ৯-১০ মাস ধরে লড়াই চালিয়েছেন করোনা যোদ্ধা থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি নাগরিক। ধীরে ধীরে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এসেছে। অন্যদিকে, ২০২১ এর ১৬ ই জানুয়ারি থেকে সারা ভারতবর্ষ জুড়ে শুরু হয়েছে বহু প্রতীক্ষিত টিকাকরণ বা ভ্যাকসিনেশন কর্মসূচি। সারা দেশ জুড়ে সফলভাবে চলছে সেই প্রক্রিয়া। ৬ কোটির বেশি মানুষ ইতিমধ্যে টিকাকরণের আওতায় এসেছেন। তবে, এর মধ্যেই সারা বিশ্বের সঙ্গে তালমিলিয়ে ভারতেও ফের বাড়ছে নোভেল করোনা ভাইরাসের দাপট। মার্চ থেকে প্রতিদিনই প্রতিদিনের রেকর্ড ভাঙছে! এই মুহূর্তে দেশের দৈনিক সংক্রমণ ৬০,০০০ এর গন্ডি অতিক্রম করে গেছে। রবিবারের বুলেটিন অনুযায়ী, গত চব্বিশ আক্রান্ত হয়েছেন ৬২,৭১৪ জন। আশঙ্কা বাড়িয়ে একদিনে মৃত্যু হয়েছে ৩১২ জনের! মহারাষ্ট্রের অবস্থাই সবথেকে ভয়াবহ। মোট সংক্রমণের ৫৫-৬০ শতাংশ শুধু ওই রাজ্যেই। তবে, বাকি রাজ্যগুলির দশাও প্রতিদিন খারাপ হচ্ছে। ছত্তিশগড়, পাঞ্জাব, কেরালা, মধ্যপ্রদেশ, গুজরাট, দিল্লি, কর্ণাটক, তামিলনাড়ু এবং পশ্চিমবঙ্গেও আশঙ্কাজনক ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে সংক্রমণ!

thebengalpost.in
চলছে ভ্যাকসিনেশন :

সারা দেশের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এবার পশ্চিমবঙ্গেও করোনার দ্বিতীয় ঢেউ! গত ২৬ শে মার্চ এরাজ্যে করোনা সংক্রমিত হয়েছিলেন, ৬৪৬ জন। এরপর হঠাৎ করেই বেড়ে গিয়ে, ২৭ শে মার্চ করোনা আক্রান্ত হলেন ৮১২ জন; আর এবার ২৮ শে মার্চ তথা রবিবার সন্ধ্যার বুলেটিন অনুযায়ী করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৮২৭ জন। কলকাতা ও উত্তর ২৪ পরগণার সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে ক্রমশ! অন্যদিকে, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের রিপোর্ট অনুযায়ী জেলায় গতকাল করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৪ (চার) জন। গত, ২৫ শে মার্চের পর (মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে মৃত্যু হয়েছিল এক ব্যক্তির) জেলায় নতুন করে মৃত্যু’র খবর নেই। গতকাল সন্ধ্যার বুলেটিন অনুযায়ী, ৪ জন করোনা আক্রান্তের মধ্যে ২ জন খড়্গপুর এলাকার, ১ জন মেদিনীপুর এলাকার এবং ১ জন ঘাটাল (দীর্ঘগ্রাম) এলাকার। অপরদিকে, শনিবার জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন ১২ জন। সেই তালিকায় অবশ্য একাধিক আরপিএফ জওয়ান ছিলেন। জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, দ্রুত আক্রান্তদের সংস্পর্শে থাকা পরিবারের সদস্য বা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে, কোভিড টেস্টের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। অপরদিকে, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এখনই লকডাউন না হলেও, সমস্ত ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা অবলম্বন করতে হবে রাজ্যগুলিকে।

আরও পড়ুন -   জেলা বিজেপির সহ-সভাপতি সহ মেদিনীপুরে ৫ জন সংক্রমিত, ডেবরায় পুলিশকর্মী'র স্ত্রী ও কন্যার রিপোর্টও পজিটিভ, জেলায় ২৩ জন করোনা আক্রান্ত হলেন নতুন করে