একদিনে প্রায় দেড় লক্ষ মানুষ করোনা সংক্রমিত দেশে! রাজ্যে ৩৬৪৮, পশ্চিম মেদিনীপুরে ১৮, পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু ভাবাচ্ছে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরকে

দ্য বেঙ্গল পোস্ট বিশেষ প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১০ এপ্রিল: গত ১৫ মাসের করোনা সংক্রমণের ভয়াবহ লেখচিত্রকে রীতিমতো দুরমুশ করে দিয়ে ভারতবর্ষের দৈনিক সংক্রমণ এখন দেড় লক্ষের আশেপাশে ঘোরাফেরা করছে! কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের বুলেটিন অনুযায়ী, গত ৪৮ ঘন্টায় অর্থাৎ পর পর দু’দিন (শুক্রবার ও শনিবার) করোনা সংক্রমিত হয়েছেন যথাক্রমে ১ লক্ষ ৩১ হাজার ৯৬৮ জন এবং ১ লক্ষ ৪৫ হাজার ৩৮৪ জন (১০ এপ্রিল)। গত দু’দিনে মৃত্যু হয়েছে যথাক্রমে ৭৮০ ও ৭৯৪ জনের (১০ এপ্রিল)। ১৩০ কোটি জনসংখ্যার দেশে এখনও পর্যন্ত (শনিবার সকাল ৮ টা পর্যন্ত) ১ কোটি ৩২ লক্ষ ৫ হাজার ৯২৬ জন মানুষ করোনা সংক্রমিত হয়েছেন এই ভয়ানক নোভেল করোনা ভাইরাসের (কোভিড – ১৯ ) এ! শনিবার সকাল ৮ টা পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ১ লক্ষ ৬৮ হাজার ৪৩৬ জনের। এই মুহূর্তে দেশে চিকিৎসাধীন বা সক্রিয় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা হল- ১০ লক্ষ ৪৬ হাজার ৬৩১। শুক্রবার পর্যন্ত ভারতবর্ষের প্রায় ১০ কোটি (৯,৮০,৭৫,১৬০) মানুষ করোনা ভ্যাকসিন নিয়েছেন। এসবের মধ্যেই দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এখনই দেশে পূর্ণ লকডাউনের কোনও সম্ভাবনা নেই। তাই, সতর্কতা (মাস্ক ব্যবহার) ও সাবধানতা (সামাজিক দূরত্ব) অবলম্বন করতে হবে এবং ভ্যাকসিনেশনের জন্য নাম নথিভুক্ত করে, দ্রুত ভ্যাকসিন নিতে হবে। প্রসঙ্গত, দেশে এই মুহূর্তে দেশে ৪৬ উর্ধ্বদের ভ্যাকসিনেশন প্রক্রিয়া চলছে।

thebengalpost.in
করোনার উর্ধ্বগতি :

এদিকে, রাজ্যেও রীতিমতো করোনা বিস্ফোরণ ঘটছে! গতকাল সন্ধ্যার বুলেটিন অনুযায়ী, রাজ্যে গত চব্বিশ ঘণ্টায় করোনা সংক্রমিত হয়েছেন ৩৬৪৮ জন। মৃত্যু হয়েছে ৮ জনের। এর মধ্যে ৬ জনই কলকাতার। হাওড়া ও মুর্শিদাবাদে ১ জন করে মোট ২ জন। অপরদিকে, কলকাতা ও উত্তর ২৪ পরগণা জেলায় গত চব্বিশ ঘণ্টায় করোনা সংক্রমিত হয়েছেন যথাক্রমে ৯৮৭ ও ৮৮৪ জন! এই মুহূর্তে রাজ্যের উর্ধ্বমুখি সংক্রমণ চিত্র গত বছরের চরম সময়ের কথাই ভাবাচ্ছে। ২০২০ র আগস্ট থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত গড়ে ৩ হাজার – সাড়ে ৩ হাজার মানুষ করোনা সংক্রমিত হচ্ছিলেন। ফের একুশের মার্চ-এপ্রিল থেকে করোনা গ্রাফ ক্রমেই উর্ধ্বমুখি হওয়ায় আশঙ্কার কালো মেঘ বাংলার আকাশে বাতাসে ঘনিয়ে আসছে যেন! এর মধ্যেই, দুঃশ্চিন্তার খবর হল, রাজ্যে করোনা ভ্যাকসিনের চাহিদা যে হারে বাড়ছে, তাতে এই মুহূর্তে বিভিন্ন জেলায় ভ্যাকসিনের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে! যদিও, কেন্দ্রের কাছে রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে, দ্রুত ভ্যাকসিন পাঠানোর জন্য।

thebengalpost.in
এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু হল পশ্চিম মেদিনীপুরে (প্রতীকী ছবি- মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের করোনা বিভাগ)

অন্যদিকে, গত ৬ দিনে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় ১৪৮ জন (৮, ২২, ৩৫, ১১, ৩০, ৪২) করোনা সংক্রমিত হওয়ার পর, শনিবার সকালের রিপোর্ট অনুযায়ী জেলায় নতুন করে করোনা সংক্রমিত হয়েছেন ১৮ জন। এর মধ্যে, মেদিনীপুর শহরে ৬ জন, ঘাটাল ও দাসপুরে ২ জন করে মোট ৪ জন, ডেবরায় ২ জন (বুড়িগেড়িয়া-অর্জুনী ১ জন, বালিচক ১ জন), গোয়ালতোড়ে (ফতেসিংপুর) ১ জন, গড়বেতায় ১ জন, চন্দ্রকোনা রোডে ১ জন, দাঁতনে ১ জন, খড়্গপুরে ১ জন এবং আনন্দপুরে (কেশপুর) ১ জন করোনা সংক্রমিত হয়েছেন। অপরদিকে, করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে এখনও পর্যন্ত পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় দু’জনের মৃত্যু হল! গত ২৫ শে মার্চের পর, গত বুধবার (৭ এপ্রিল) ঘাটালের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে! ঘাটাল হাসপাতাল থেকে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে আসার পথেই মৃত্যু হয় ভিন রাজ্য ফেরত ওই শ্রমিকের। ৩৬ বছরের ওই যুবক কর্মসূত্রে ছত্তীসগড়ে থাকতেন। সেখানে সোনার কাজ করতেন। সম্প্রতি সেখান থেকে ঘাটালের বাড়িতে ফিরেছিলেন। এরপরই জ্বর হওয়ায় ঘাটাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে। কিন্তু, উপসর্গ ভালো না ঠেকায়, তাঁকে মেদিনীপুর মেডিক্যালে স্থানান্তরিত করা হয়। পথেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে বিভিন্ন সূত্রে। এরপরই তাঁর লালারসের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। RT-PCR টেস্টের রিপোর্ট পজিটিভ আসে! তবে, ওই যুবক কী জ্বর নিয়েই বাড়ি ফিরেছিলেন, না বাড়িতে এসে জ্বর হয়েছিল? মেদিনীপুর মেডিক্যালের অধ্যক্ষ ডাঃ পঞ্চানন কুন্ডু বলেন, “জ্বর নিয়েই ফিরেছিলেন, না এসে জ্বর হয়েছে, সেটা ঠিক জানি না। খোঁজ নিতে হবে। তবে জ্বর নিয়ে ঘাটাল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।” তিনি এও জানালেন, ওই যুবককে যখন মেডিক্যালে আনা হয়েছিল ততক্ষণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তাই সবদিক খতিয়ে দেখে মৃতদেহের ময়না-তদন্ত করা হয়েছে। অধ্যক্ষ জানাচ্ছেন, যাবতীয় সতর্কতা অবলম্বন করেই দেহের ময়না-তদন্ত করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, গত ২৫ শে মার্চও মেদিনীপুর মেডিক্যালে এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে। ওই রোগীও করোনায় সংক্রমিত ছিলেন। এই নিয়ে জেলায় ২ জনের মৃত্যু হল করোনার দ্বিতীয় পর্বে! আর এ নিয়ে ঘাটাল-দাসপুর সহ প্রতিটি ব্লকের স্বাস্থ্য আধিকারিকদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জেলা প্রশাসন তথা জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে।

আরও পড়ুন -   করোনা জর্জরিত মহারাষ্ট্রের কোভিড হাসপাতালে ফের বড় দুর্ঘটনা! আগুনে দগ্ধ হয়ে মৃত্যু ১৩ জনের, মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী