গত ৪৮ ঘন্টায় পশ্চিম মেদিনীপুরে করোনা সংক্রমিত ৫১০! আজই খুলছে ‘ডেবরা সেফ হোম’, আগামীকাল ‘আয়ুশ’

মণিরাজ ঘোষ, পশ্চিম মেদিনীপুর, ৩ মে: পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী গত চব্বিশ ঘণ্টায় করোনা সংক্রমিত হয়েছেন ৫১০ জন! গত কয়েকদিনের তুলনায় সংক্রমণের এই হার নিঃসন্দেহে স্বস্তিদায়ক। তবে কি আংশিক লকডাউনের প্রভাব? বিশেষজ্ঞদের মতে এখনও আংশিক লকডাউনের প্রভাব সেভাবে না পড়লেও, ধীরে ধীরে এই প্রভাব পড়বে। রবিবার (২ মে) ভোট-গণনার সকালেও কর্তব্যে অবিচল জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের কাছ থেকে যে করোনা রিপোর্ট পাওয়া গিয়েছিল, তার ভিত্তিতে জেলায় সংক্রমিত হয়েছিলেন ৩৮০ জন। বৃহস্পতিবার, শুক্রবার ও শনিবারের তুলনায় সামান্য বেড়েছিল সংক্রমণ! তবে, আজ (সোমবার) সকালে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের রিপোর্টে সংক্রমণ একধাক্কায় কমে হয়েছে ২৩০। যদিও, রবিবার বলেই টেস্ট অন্যান্য দিনের তুলনায় কম হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে সে যাই হোক, সোমবারের ২৩০ এর সৌজন্যে, গত ৭ দিনে জেলায় অনেকটাই কমল করোনা সংক্রমিতের সংখ্যা। গত ৭ দিন বা এক সপ্তাহে জেলায় মোট করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ২৬৯০ (৫৭৮, ৪৪৪, ৩৪৯, ৩৬৬, ৩৪৩, ৩৮০, ২৩০) জন। গত ৪৮ ঘন্টায় জেলার ৪ টি করোনা হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ৪০ জনের কাছাকাছি। এছাড়াও, হোম আইশোলেশনে থাকা অনেকেই সুস্থ হয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে, গত ৪৮ ঘন্টায় করোনা সংক্রমিত জেলায় অন্ততপক্ষে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।

thebengalpost.in
আয়ুশ সেফ হোম :

এই পরিস্থিতিতে, আজ থেকেই জেলায় আরও দুটি করোনা করোনা চিকিৎসা কেন্দ্র খুলে দেওয়া হচ্ছে। ডেবরা সেফ হোম এবং আয়ুশ সেফ হোম (মেদিনীপুর শহরের আবাস/খাসজঙ্গল)। শনিবার বিকেলে জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দপ্তরের একটি পরিদর্শক দল গিয়ে এই দুই হাসপাতালের পরিকাঠামো খতিয়ে দেখে, অবিলম্বে চিকিৎসা পরিষেবা শুরু করার বিষয়ে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। এই পরিদর্শক দলে ছিলেন, অতিরিক্ত জেলাশাসক (জেলা পরিষদ ও জনস্বাস্থ্য) পীনাকী রঞ্জন প্রধান, জেলার উপ মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ সৌম্যশঙ্কর সারেঙ্গী এবং মেদিনীপুর সদরের মহকুমাশাসক নীলাঞ্জন ভট্টাচার্য। জেলার উপ মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক জানিয়েছেন, “সোমবার থেকেই ৪০ শয্যার ডেবরা সেফ হোম খুলে দেওয়া হচ্ছে। মঙ্গলবার থেকেই ১০০ শয্যার আয়ুশ সেফ হোম খুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জেলায় যেভাবে সক্রিয় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে তাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখানে করোনা হাসপাতালের মতো না হলেও নূন্যতম চিকিৎসা পরিষেবা, অক্সিজেন সবকিছুই থাকবে। চিকিৎসক ও নার্সরাও ২৪ ঘন্টার জন্য থাকবেন।” জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ নিমাই চন্দ্র মন্ডল জানিয়েছেন, “ডেবরা ও আয়ুশ সেফ হোম পুনরায় শুরু করার জন্য সমস্ত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসা পরিষেবা সঠিকভাবে দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।”

thebengalpost.in
ডেবরা সেফ হোম :

অন্যদিকে, গত ৪৮ ঘণ্টায় পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার মেদিনীপুর শহর ও শহরতলীতে করোনা সংক্রমিত হয়েছেন মোট ১৬৬ জন। এর মধ্যে, শুধু রবিবারের রিপোর্ট অনুযায়ী ১২৫ জন। মেদিনীপুর শহরের মির্জাবাজার (পানপাড়া সহ), হবিবপুর, অরবিন্দনগর (জর্জকোট সহ), সিপাই বাজার, অশোকনগর এই চারটি এলাকায় ভয়াবহ গোষ্ঠী সংক্রমণ দেখা দিয়েছে! একই পরিবারের একাধিক জন গড়ে এই এলাকাগুলি ৬-৭ জন করে করোনা সংক্রমিত হয়েছেন। এরপরেই আছে- পাটনা বাজার, কুইকোটা, আবাস, নজরগঞ্জ, রাঙামাটি, রাজাবাজার, মাইকেল মধুসূদন নগর, ধর্মা প্রভৃতি এলাকা। এছাড়াও, ক্ষুদিরাম নগর, কোতবাজার, নতুন বাজার, বড়বাজার প্রভৃতি এলাকায় করোনা সংক্রমিত হয়েছেন ১-২ জন করে। এছাড়াও, গুড়গুড়িপাল সহ মেদিনীপুর সদর ব্লক এলাকায় প্রায় ১০ জন এবং মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ সূত্রে প্রায় ১০ জন করোনা সংক্রমিত হয়েছেন। সোমবার করোনা সংক্রমিত হয়েছেন ৪১ জন। পুলিশ লাইন ও বিধাননগর থেকে অন্তত ৫ জন করে করোনা সংক্রমিত হয়েছেন। এছাড়াও, রাঙামাটি, আবাস, কুইকোটা, কেরানীচটি, হবিবপুর, মির্জাবাজার, রবীন্দ্রনগর, অরবিন্দ নগর, রাজাবাজার, পাটনা বাজার, ধর্মা,‌ শরৎপল্লী, বার্জটাউন প্রভৃতি এলাকা থেকে করোনা সংক্রমিতের সন্ধান‌ পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, গত দু’দিনে রেলশহর খড়্গপুরে করোনা সংক্রমিত হয়েছেন যথাক্রমে- ৭৬ (রবিবার) ও ১১২ (সোমবার)। সোমবার যে ১১২ জন সংক্রমিত হয়েছেন তার মধ্যে শুধু রেল সূত্রে ৭১ জন। এছাড়াও, খড়্গপুর গ্রামীণ, আইআইটি খড়্গপুর এবং শহর মিলিয়ে আরও ৪১ জন করোনা সংক্রমিত হয়েছেন গত চব্বিশ ঘণ্টায়। গত ৪৮ ঘন্টায় ডেবরা এলাকায় মোট করোনা সংক্রমিত হয়েছেন ২২ জন। রবিবার ১২ (শ্যামনগর-৩ জন, বালিচক, আষাড়ি, পশ্চিম বেগুনি, ইয়ারপুর, বড়গড়, ভোগপুর, শ্যামচক, পশং, বানিছা) জন এবং সোমবার ১০ (পাণ্ডাত, গোটগেড়িয়া, গায়েশপুর, রঘুনাথপুর, মির্জাপুর, পশ্চিম বৈতা, পদিমা এবং বালিচক- ৩ জন) জন করোনা সংক্রমিত হয়েছেন। গত দু’দিনে পিংলায় ৩ জন ও সবংয়ে ৩ জন করোনা সংক্রমিত হয়েছেন। এছাড়াও, বেলদা-নারায়ণগড়ে ৬ জন‌ করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। দাঁতনে ৪ জন করোনা সংক্রমিত হয়েছেন। কেশপুরে ২ জন, কেশিয়াড়িতে ১ জন করোনা সংক্রমিত হয়েছেন।

thebengalpost.in
আয়ুশ সেফ হোম :

এছাড়াও, রবিবার ও সোমবার মিলিয়ে ঘাটাল মহকুমায় করোনা সংক্রমিত হয়েছেন যথাক্রমে- ৪৭ জন‌ ও ৩৬ জন (মোট ৮৩ জন)। রবিবারের রিপোর্ট অনুযায়ী, গড়বেতার ৩ টি ব্লক মিলিয়ে করোনা সংক্রমিতের সংখ্যা হল- ৪২! এর মধ্যে, করমাশোল (কিয়াবনী), রাধানগর, দুর্লভগঞ্জ, আমলাগোড়া, গড়বেতা চন্দ্রকোনা রোড এলাকায় পরিবার সংক্রমণের হাত ধরে একাধিক জন করোনা সংক্রমিত হয়েছেন। সোমবার গড়বেতা থেকে ৬ জনের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। এর মধ্যে, গোয়ালতোড়ের (গড়বেতা- ২ নং) ৩ জন, এছাড়াও, গড়বেতা-৩ নং এর দুর্লভগঞ্জ, সিমলাপাল, চন্দ্রকোনা রোড থেকে মোট ৩ জন করোনা সংক্রমিত হয়েছেন। রবিবার পুনরায় শালবনী বিআরবি বা টাকশালে ৬ জন করোনা সংক্রমিত হয়েছেন। এছাড়াও, রবিবার গোবরুতে ২ জন, শালবনীতে ৫ জন এবং JSW তে ১ জন করোনা সংক্রমিত হয়েছেন। এই প্রথম মালিদা (পিড়াকাটার কাছে) এলাকায় করোনা সংক্রমিত হয়েছেন ১ জন। রবিবার সব মিলিয়ে ১৫ জন ও সোমবার আরও ৩ জন (শালবনী- ২, তিলাখুলি- ১) করোনা সংক্রমিত হয়েছেন।

আরও পড়ুন -   ভারতের মুকুটে নতুন পালক, চিনের কপালে চিন্তার ভাঁজ, এক্সিকিউটিভ বোর্ডের চেয়ারম্যান হচ্ছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধন