সংকটজনক রোগীদের “শয্যা-সংকট” পশ্চিম মেদিনীপুরে! “রোগী ফেরানো যাবেনা” রাজ্যের নির্দেশের পর মেডিক্যালে নতুন SARI ইউনিটের উদ্যোগ

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১ মে: ভয়াবহ করোনা পরিস্থিতিতে সারা রাজ্য জুড়েই সংকটজনক বা শ্বাসকষ্টজনিত গুরুতর সমস্যায় ভোগা রোগীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে! মৃত্যুও হচ্ছে। এই চিত্র এখন রাজ্যের সর্বত্র। অক্সিজেন সংকট, আইসিইউ/সিসিইউ (ICU/CCU) বেডের চূড়ান্ত অভাব, এইচডিইউ (HDU) বেডের অভাব, এমনকি সাধারণ বেডও প্রায় অমিল। বেশিরভাগ বেসরকারি হাসপাতালগুলি বলছে “বেড নেই”! আবার, অনেক বেসরকারি হাসপাতাল এই সুযোগে, বিপুল পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে রোগী ভর্তি নিচ্ছে। অন্যদিকে, সরকারি করোনা হাসপাতাল আবার পজিটিভ রিপোর্ট ছাড়া রোগী ভর্তি না নিয়ে ফিরিয়ে দিচ্ছে! এই পরিস্থিতিতে, রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তর গতকাল নতুন একটি নির্দেশিকায় জানিয়েছে, “কোনোভাবেই সংকটজনক বা শ্বাসকষ্ট যুক্ত রোগীদের ফেরানো যাবেনা। করোনা রিপোর্ট যদি না থাকে, ভর্তি নেওয়ার পর র‍্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট (RAT) করিয়ে পজিটিভ/নেগেটিভ দেখে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। রিপোর্ট পজিটিভ হলে চিকিৎসা করতে হবে ওই করোনা হাসপাতালেই। রিপোর্ট নেগেটিভ হলেও, যতক্ষণ না অন্য কোনো হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা যাচ্ছে, ততক্ষণ অবধি চিকিৎসা করতে হবে।” এদিকে, সংকটজনক রোগীদের শয্যা-সংকট পশ্চিম মেদিনীপুর জেলাতেও! রিপোর্ট পজিটিভ হলে, শালবনী করোনা হাসপাতাল বা মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ। এক্ষেত্রে, শালবনী করোনা হাসপাতালে ৫০ টি HDU বেড আছে, তবে অতি সংকটজনক রোগীদের চিকিৎসা করার মতো পরিকাঠামো (ICCU/CCU) থাকলেও, পর্যাপ্ত সংখ্যায় চিকিৎসক নেই এখনও পর্যন্ত। তাই, স্থানান্তরিত করা হয় মেদিনীপুর মেডিক্যালে। এই মেদিনীপুর মেডিক্যালে আবার মাত্র ২৬ টি HDU বেড করোনা রোগীদের জন্য। তাই, পজিটিভ রিপোর্ট এবং অতি-সংকটজনক রোগী ছাড়া এতদিন এই করোনা ওয়ার্ডে (HDU-SARI ইউনিট) ভর্তি নেওয়া হচ্ছিল না! তবে, গতকালের নির্দেশিকার পর নড়েচড়ে বসেছে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ। তার আগে অবধি, সংকটজনক রোগী অথচ রিপোর্ট হয়নি বা রিপোর্ট নেগেটিভ হলে, চরম সমস্যায় পড়তে হয়েছে একাধিক রোগী ও রোগীর পরিজনদের। খড়্গপুর সহ বেশ কয়েকটি জায়গায় বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু’র অভিযোগও উঠেছে!

thebengalpost.in
মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের HDU SARI UNIT :

মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডাঃ পঞ্চানন কুন্ডু’কে ফোন করা হলে, এই বিষয়ে তিনি জানিয়েছেন, “করোনা বিভাগে ২৬ টি মাত্র বেড থাকায় একটু সমস্যা হচ্ছিল, সব রোগীদের ভর্তি নেওয়ার ক্ষেত্রে। তবে, সাসপেক্টেড বা কোভিড উপসর্গ যুক্ত, কিন্তু করোনা পরীক্ষা না হওয়া রোগীদের আমরা অন্য ওয়ার্ডে রেখে, রিপোর্ট করানোর ব্যবস্থা নিয়েছিলাম। সেখানে যথাযথ চিকিৎসা পরিষেবাও দেওয়া হয়। তবে, শ্বাসকষ্টযুক্ত রোগীদের জন্য (যতক্ষণ না পজিটিভ রিপোর্ট আসছে) এবার পৃথক সারি (SARI) ওয়ার্ড করা হচ্ছে। এখানে ৩০ টি বেড রাখা হবে। আগামী কয়েকদিনে আরও ৩০ টি শয্যা বাড়ানো হবে। তবে, করোনা ওয়ার্ডেও বেড বাড়ানোর জন্য পরিকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে।” এদিকে, গত ৭ দিনে জেলায় মোট সংক্রমিত হয়েছেন- ২৬৩৮ (৩৩১, ২৪৬, ৩২৪, ৫৭৮, ৪৪৪, ৩৪৯, ৩৬৬) জন। জেলার ২ টি করোনা হাসপাতাল (শালবনী ও মেদিনীপুর মেডিক্যাল) এবং ২ টি সেফ হোম (ঘাটাল ও খড়্গপুর) মিলিয়ে গড়ে প্রতিদিন রোগী ভর্তি থাকছেন প্রায় ২০০ জন। মোট শয্যা ৩০৬ টি (শালবনী ১৫০, মেদিনীপুর মেডিক্যাল ২৬, ঘাটাল ৮০ ও খড়্গপুর ৫০)। শনিবার সকালের জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের রিপোর্ট অনুযায়ী, রোগী ভর্তি আছে যথাক্রমে- মেদিনীপুর মেডিক্যালে ২১, শালবনীতে ৭৭, ঘাটালে ৬৫ ও খড়্গপুরে ৪৩ (মোট ২০৬) জন। অন্যদিকে, মেদিনীপুর শহরের প্রায় সবকটি নার্সিংহোম বা বেসরকারি হাসপাতাল (নির্দেশ সত্ত্বেও সবাই অবশ্য করোনা রোগী ভর্তি নিচ্ছেনা, যারা নিচ্ছে সেইগুলি) জানিয়ে দিয়েছে, বেড ফাঁকা নেই! দু’একটিতে সামান্য কিছু বেড ফাঁকা আছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। এই পরিস্থিতিতে সংকটজনক রোগীরা কি করবেন? জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ নিমাই চন্দ্র মন্ডল জানিয়েছেন, “রাজ্য সরকারের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী সংকটজনক রোগীদের কোনোভাবেই ফেরানো যাবে না। সরকারি হাসপাতাল হোক বা বেসরকারি হাসপাতাল! আর, মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ছাড়া, শালবনীতে ৫০ টি এইচডিইউ বেড আছে। এছাড়া, শালবনী করোনা হাসপাতালের আরও কিছু বেডকে সেন্ট্রাল অক্সিজেন পাইপ লাইনের আওতায় নিয়ে এসে উন্নত পরিষেবা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঘাটাল-খড়গপুরে সেন্ট্রাল অক্সিজেন পাইপ লাইনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে। কাজ শুরু হচ্ছে দ্রুত। মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের কাছেও জেলা প্রশাসনের তরফে শয্যা বাড়ানোর আবেদন জানানো হয়েছে।” জেলার উপ মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ সৌম্যশঙ্কর সারেঙ্গী জানিয়েছেন, “এই মুহূর্তে জেলায় ৭৬ টি এইচডিইউ (HDU) বেড আছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে, ঘাটাল-খড়্গপুরেও HDU পরিষেবা দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তবে, কিছুটা দেরি হতে পারে,‌ কারণ পর্যাপ্ত সংখ্যক চিকিৎসকের অভাব আছে। যদিও, সেন্ট্রাল পাইপ লাইনের কাজ দ্রুত শেষ হয়ে যাবে। আয়ুশ সেফ হোমটিও আগামী সপ্তাহে শুরু হয়ে যাবে বলে আশা করছি। এই বিষয়ে জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।”

thebengalpost.in
রোগী না ফেরানোর বিজ্ঞপ্তি :

আরও পড়ুন -   মঙ্গলেই মেদিনীপুরে মেগা মনোনয়ন! অপেক্ষা করছে একাধিক চমক