প্রশাসন সতর্ক করা সত্ত্বেও শীতলা পুজোর আয়োজন করে শালবনীর গ্রামে ২৮ জন সংক্রমিত, একদিনে মোট আক্রান্ত ৪০

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ৯ মে: দিন দশেক আগেই গ্রামবাসীরা শীতলা পুজোর আয়োজন করেছিলেন! শীতলা পুজো নিয়ে আপত্তি ছিলনা কোনো মহলেরই, তবে, আপত্তি ছিল জনসমাগম বা আড়ম্বর নিয়ে। আপত্তি যাঁরা তুলেছিলেন, তাঁরা জানাচ্ছেন, অতিমারীর মধ্যেও গ্রামের এই পুজো উপলক্ষে গ্রামবাসীদের একাংশের বাড়িতে হাজির হয়েছিলেন জেলার বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসকারী আত্মীয়-স্বজনরা। আর, এই ঘটনার ঠিক ৭-৮ দিনের মাথাতেই, জঙ্গলমহলের এই গ্রামে ছড়িয়ে পড়ল সংক্রমণ! পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার শালবনী ব্লকের কমলা গ্রামে গত বুধবার (৫ মে) সংক্রমিত হয়েছিলেন ১০ জন, শুক্রবার (৭ মে) সংক্রমিত হলেন ১৮ জন। সবমিলিয়ে, মাত্র ২ দিনের ব্যবধানে ২৮ জনের রিপোর্ট পজিটিভ এলো এই গ্রামের বাসিন্দাদের। অপরদিকে, জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে প্রাপ্ত, শুক্রবার রাতের যে করোনা রিপোর্ট শনিবার পাওয়া গেছে, তাতে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় যে ৫৫৯ জন করোনা সংক্রমিত হয়েছেন, তার মধ্যে শুধু শালবনীরই ৪০ জন! করোনা অতিমারীর প্রথম দিন থেকে শুরু করে, এই প্রথম জঙ্গলমহলের শালবনী ব্লকে একসঙ্গে এতজন করোনা সংক্রমিত হলেন। সৌজন্যে অবশ্যই কমলা গ্রাম! এর আগে, শালবনী ব্লকে সর্বাধিক ২৬ জন করোনা সংক্রমিত হয়েছিলেন গত ২৭ শে এপ্রিল। কিন্তু, একই গ্রামের ১৮ জন একদিনে সংক্রমিত (২ দিন মিলিয়ে সংখ্যাটা ২৮) হওয়ায়, শনিবার শালবনী প্রায় ‘হাফসেঞ্চুরি’ করে ফেলছিল!

thebengalpost.in
প্রশাসন সতর্ক করা সত্ত্বেও শীতলা পুজোর আয়োজন করে শালবনীর গ্রামে ২৮ জন সংক্রমিত : (ছবি- প্রতীকী ও সংগৃহীত)

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ শে এপ্রিল (মঙ্গলবার) শালবনী ব্লকের কমলা গ্রামে শীতলা পুজো বা দেশ পুজো’র আয়োজন করা হয়েছিল। এই পুজো যাতে একেবারেই অনাড়ম্বর ভাবে করা হয়, সেই দাবি জানিয়েছিলেন গ্রামের একটি অংশের সচেতন বাসিন্দারা। কিন্তু, আর একটি অংশের বাসিন্দারা করোনা বিধি উপেক্ষা করে, অন্যান্য বছরের মতোই জাঁকজমক করে পুজোর আয়োজন করতে চেয়েছিলেন। এই নিয়ে মতান্তরের খবর শালবনী ব্লক‌ প্রশাসনের কাছেও পৌঁছয়। গ্রামবাসীদের এই বিষয়ে সতর্ক করে দেওয়া হয়, পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকেও। তবে, শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের নজর এড়িয়ে গ্রামের ওই অংশের অসচেতন বাসিন্দারা করোনা বিধি না মেনেই জমায়েত হন বলে জানা গেছে। আরও তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা এই যে, শীতলা পুজো উপলক্ষে গ্রামের ওই অংশের বাসিন্দাদের বাড়িতে আসেন আত্মীয় স্বজনরাও! স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার যে অংশে সংক্রমণ প্রবল, সেই ঘাটাল-দাসপুর থেকেও গাড়িতে করে এসেছিলেন‌ আত্মীয় স্বজনরা! এই পুজোর দিন সাতেক পরেই উপসর্গ দেখা দেয়, গ্রামের ওই অংশের বাসিন্দাদের মধ্যে। অবশেষে, র‍্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টে গত ৫ ই মে ১০ জনের এবং গত ৭ ই মে আরও ১৮ জনের রিপোর্ট পজিটিভ আসে। তালিকায় আছে, ২ বছরের শিশু থেকে ৭০ বছরের প্রৌঢ়। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন গ্রামের একজন স্বাস্থ্যকর্মীও। গ্রামের একটি অংশের বাসিন্দারা যারা এই বিষয়ে বাধা দিয়েছিলেন, তাঁরা এই ঘটনায় রীতিমতো ক্ষুব্ধ! তবে, এই বিষয়ে তাঁরা প্রশাসনকে দোষ দিতে নারাজ। গ্রামের একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তি বললেন, “ব্লক প্রশাসন বুঝিয়ে বলেছিল, যাতে কোনোরকম আড়ম্বর বা জমায়েত না করা হয়। শালবনী থানার পুলিশও করোনা প্রতিরোধে প্রথম দিন থেকেই সক্রিয় ভূমিকা পালন করে চলেছে। তা সত্ত্বেও একদল অসচেতন মানুষ যদি নিজেরাই নিজেদের বিপদ ডেকে আনে, সেখানে প্রশাসন আর কি করবে! ধর্মীয় ব্যাপার হওয়ায়, প্রশাসন জোর খাটাতেও পারেনি, শুধুমাত্র সচেতন করে দিয়েছিল।” অতিমারীর এই আতঙ্কপূর্ণ আবহে, অনিবার্য ভাবে যে প্রশ্নটা এখন উঠতে শুরু করেছে, “ধর্মের জন্য মানুষ, নাকি মানুষের জন্য ধর্ম ?” যদিও প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, সংক্রমিত পরিবারের লোকজন শ্রমিক ও দিনমজুরি করে থাকেন, কাজেই কোথা থেকে সংক্রমণ এসেছে বলা মুশকিল, তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। এদিকে, গত চব্বিশ ঘণ্টায়, শালবনীর কমলা গ্রামের ১৮ জন ছাড়াও চকতারিনীর ১ জন, পিড়াকাটার ১ জন, বিআরবি বা টাঁকশালের ৬ জন এবং শালবনী বাজার ও সংলগ্ন এলাকার আরো ১৪ জন সহ মোট ৪০ জন করোনা সংক্রমিত হয়েছেন।

thebengalpost.in
টীকা নেওয়ার লম্বা লাইন শালবনী গ্রামীণ হাসপাতালের সামনে :

আরও পড়ুন -   'হঠাৎ আগুন লাগলে' কি করবেন পুজো উদ্যোক্তারা, প্রশিক্ষণ দিল মেদিনীপুর দমকল বাহিনী, জীবাণুমুক্ত করা হল শহরের পুজো মণ্ডপ ও রাস্তাঘাটগুলি