মেদিনীপুর-খড়্গপুর-ঘাটাল-সবং সহ জেলায় ৫৮ জন সংক্রমিত! শালবনী থেকে মেদিনীপুর ভ্যাকসিনের লম্বা লাইন

মণিরাজ ঘোষ, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১৬ এপ্রিল: গত চব্বিশ ঘণ্টায় দেশ ও রাজ্যে সংক্রমণ আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে! দেশজুড়ে দৈনিক সংক্রমণ ২ লক্ষের গন্ডী অতিক্রম করেছে আগের দিনই। আজ (১৬ এপ্রিল) সকাল ১১ টার বুলেটিন অনুযায়ী, গত চব্বিশ ঘণ্টায় করোনা সংক্রমিত হয়েছেন ২ লক্ষ ১৭ হাজার ৩৫৩ জন। মৃত্যু হয়েছে ১১৮৫ জনের! এখনও পর্যন্ত একদিনে সর্বাধিক। মহারাষ্ট্র (৩৪৯), দিল্লি (১১২), উত্তর প্রদেশ (১০৪), ছত্তিশগড় (১৩৫), গুজরাট (৮১) প্রভৃতি রাজ্যে যেন মৃত্যু-মিছিল শুরু হয়ে গেছে। অপরদিকে, গত চব্বিশ ঘণ্টায় ভ্যাকসিনেশনের সংখ্যাও অন্যান্য দিনের তুলনায় কিছুটা কম। ২৭ লক্ষ ৩০ হাজার ৩৫৯ জন করোনা ভ্যাকসিন নিয়েছেন গতকাল (১৫ এপ্রিল)। এর ফলে, দেশের ১১ কোটি ৭২ লক্ষ ২৩ হাজার ৫০৯ জন মানুষ ভ্যাকসিনেশনের আওতায় এলেন। অন্যদিকে, গতকাল সন্ধ্যার (বৃহস্পতিবার) রিপোর্ট অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গেও করোনা সংক্রমণ শিখরে পৌঁছে গেছে ‌প্রায়! বুধবারের তুলনায় এক ধাক্কায় আরো এক হাজার বেড়ে, গত চব্বিশ ঘণ্টায় সংক্রমিত হয়েছেন ৬৭৬৯ জন (এখনও পর্যন্ত সর্বাধিক)। মৃত্যু হয়েছে ২২ জনের। কলকাতা ও উত্তর চব্বিশ পরগণা ছাড়াও এই মুহূর্তে প্রতিটি জেলাতেই সংক্রমণ বিপদসীমার উপর দিয়েই বইছে!

thebengalpost.in
মেদিনীপুরের কেরানীটোলা’য় লম্বা লাইন :

অন্যদিকে, জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে প্রাপ্ত শুক্রবার সকালের রিপোর্ট অনুযায়ী, গত চব্বিশ ঘণ্টায় পশ্চিম মেদিনীপুরে করোনা সংক্রমিত হয়েছেন ৫৮ জন (RT-PCR ২৭, RAPID ANTIGEN ১৫, TRUENAT ১৬)। যা বৃহস্পতিবারের (৮২) তুলনায় সামান্য কম হলেও, সংখ্যাটা নিঃসন্দেহে দুঃশ্চিন্তার! গত চব্বিশ ঘণ্টায় রেলের ৬, আইআইটি’র ২ সহ মোট ২৫ জন আক্রান্ত রেলশহর খড়্গপুরেরই। মেদিনীপুর শহরের উত্তর থেকে দক্ষিণ, পূর্ব থেকে পশ্চিম সর্বত্রই সংক্রমণ বাড়ছে! গত চব্বিশ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ১৬ জন। ঘাটাল, দাসপুর, চন্দ্রকোনা (ক্ষীরপাই) সহ ঘাটাল মহকুমায় নতুন করে করোনা সংক্রমিত হয়েছেন ১০ জন। বলপাই, ভঞ্জপুর, বরছাহারা সহ সবংয়ে ৩ জন ও ডেবরার ভোগপুরে ১ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। শালবনী, গড়বেতা ও কেশিয়াড়িতে ১ জন করে করোনা সংক্রমিত হয়েছেন গত চব্বিশ ঘণ্টায়। আর, সংক্রমণের এই ভয়ঙ্কর গর্জনে আতঙ্কিত জেলাবাসী এবার ‘ভ্যাকসিন’ নিতে তৎপর হয়ে উঠেছেন! মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেও ভ্যাকসিনের প্রতি উৎসাহ দেখা যায়নি জেলাবাসী তথা রাজ্যবাসীর মধ্যে। এজন্য নানা রকম অজুহাতও খাড়া করছিলেন অনেকে। মাত্র ২ সপ্তাহেই বদলে গেছে চিত্রটা! শালবনী থেকে মেদিনীপুর, ডেবরা থেকে খড়্গপুর সর্বত্র ভ্যাকসিনের জন্য লম্বা লাইন। ৪৫ উর্ধ্ব সাধারণ মানুষ নাম রেজিস্ট্রেশন করে ভ্যাকসিন নিচ্ছেন লম্বা লাইন দিয়ে। যদিও, এখনও ষাটোর্ধ্ব’দের ভিড়ই বেশি চোখে পড়ছে! শালবনী’র স্বাস্থ্য আধিকারিক (BMOH) ডাঃ নবকুমার দাস বললেন, “ভ্যাকসিনে উৎসাহ ও চাহিদা বেড়েছে। লম্বা লাইন ভ্যাকসিনের জন্য।” অনেকেই আবার বেসরকারি হাসপাতালের দিকে পা বাড়াচ্ছেন অধৈর্য হয়ে! জেলা শহর মেদিনীপুরে অবস্থিত একটি বেসরকারি হাসপাতালে (সরকার নির্ধারিত ২৫০ টাকার বিনিময়ে)ও নাম রেজিস্ট্রেশন করে (আধার কার্ড) ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে। জেলার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে জেলার উপ মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ সৌম্যশঙ্কর সারেঙ্গী জানিয়েছেন, “ভ্যাকসিন ধাপে ধাপে পাঠানো হচ্ছে। আজও ১০০০০ ডোজ আসার কথা। তবে, চাহিদার তুলনায় এখনও কম! আশা করা যায়, এক-দু্’ সপ্তাহের মধ্যে সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে যাবে। রাশিয়ার স্পুটনিক ভি ইতিমধ্যে ছাড়পত্র পেয়েছে। আরও কয়েকটি লাইনে আছে। এই মুহূর্তে মহামারী রুখতে ভ্যাকসিনেশনই সবথেকে কার্যকরী উপায়। তবে, মাস্ক ব্যবহার আর দূরত্ব বজায় রাখাও অত্যন্ত জরুরি।”

thebengalpost.in
শালবনীতে ভ্যাকসিনের জন্য লাইনে বৃদ্ধ – বৃদ্ধারা :

আরও পড়ুন -   ফের ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা! ভারী বৃষ্টিপাত আগামীকাল থেকে