শালবনীর প্রত্যন্ত বুড়িশোল গ্রামে “গোষ্ঠী সংক্রমণ”! সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিল স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, স্থানীয় চিকিৎসক থেকে স্বাস্থ্য দপ্তর

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ২৮ মে: পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার শালবনী ব্লকের প্রত্যন্ত বুড়িশোল (কৃষ্ণনগর সংলগ্ন) গ্রাম। গ্রাম বাংলার দারিদ্র্য অধ্যুষিত অসংখ্য গ্রামের মধ্যে এটিও একটি। বেশিরভাগ বাসিন্দাদেরই দিনমজুরি করে জীবন অতিবাহিত হয়। ভয়াল করোনার প্রকোপ থেকে রক্ষা পায়নি জঙ্গলে ঘেরা ছোট্ট এই গ্রামটিও! গ্রামে সাকুল্যে ১৫-২০ টি পরিবারের বাস। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৩-৪ টি পরিবার মিলিয়ে ১৮ জনের করোনা রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। তবে, স্থানীয় সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী, অনেকেরই জ্বর-সর্দি সহ নানা উপসর্গ আছে। এলাকার গ্রামীণ চিকিৎসক ও সমাজসেবী হারাধন দুয়ারি’র কাছে এই বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানিয়েছেন, “হ্যাঁ, এখনও পর্যন্ত ১৮ জনের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে সরকারি-বেসরকারি। তবে, আরও কিছুজনের সাধারণ উপসর্গ আছে। তাদেরও টেস্ট করানোর পরামর্শ দিয়েছি। তবে, পুরো বিষয়টি তদারকি করছেন স্থানীয় উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের অভিজ্ঞ ANM ম্যাডাম। ওষুধপত্রও দেওয়া হয়েছে।” বিষয়টি সম্পর্কে ব্লক স্বাস্থ্য দপ্তর ও স্থানীয় পঞ্চায়েত সমিতিও ওয়াকিবহাল। তাঁরাও গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন ওই গ্রামের বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যের বিষয়টি।

thebengalpost.in
বুড়িশোল গ্রামে খাদ্যসামগ্রী তুলে দিল ছত্রছায়া :

এদিকে, ১৮ জন আক্রান্তই হাসপাতালে যেতে রাজি হয়নি বলে, সকলেরই বাড়িতেই চিকিৎসা চলছে এবং একপ্রকার পুরো গ্রামই কোয়ারেন্টিন বা নিভৃতবাসে চলে গেছে। স্থানীয় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সকলেই মোটামুটি ভালো আছেন। তবে, এখনও পর্যন্ত ২ জনের অক্সিজেন লেগেছে। তার মধ্যে একজন ইতিমধ্যে অনেকটাই সুস্থ আছেন। তবে, গতকাল থেকে একজন প্রৌঢ়ের সামান্য শ্বাসকষ্ট শুরু হওয়ায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রত্যেকের বাড়িতেই স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে দফায় দফায় ওষুধপত্র পাঠানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ নবকুমার দাস। শালবনী পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ সন্দীপ সিংহ জানিয়েছেন, “সমস্ত খোঁজখবর আমরা রেখেছি, স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রতিনিধি ও গ্রামীণ চিকিৎসক হারাধন বাবু’র মাধ্যমে। স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে স্থানীয় উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মাধ্যমে বিষয়টি তদারকি করা হচ্ছে।” এদিকে, যশ দুর্যোগের দিনই, এই বুড়িশোল গ্রামে পৌঁছে শুকনো খাবার ও কিছু খাদ্যসামগ্রী নিয়ে পৌঁছে গিয়েছিলেন টিম ছত্রছায়া’র সদস্যরা। ছত্রছায়া’র পক্ষ থেকে নুতন ঘোষ জানান, “গ্রামের প্রায় অর্ধেক পরিবার করোনায় আক্রান্ত শুনে, আমরা প্রয়োজনীয় কিছু খাদ্যমাগ্রী তুলে দিয়ে এসেছিলাম। মানুষ হয়ে মানুষের পাশে থাকার একটু চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি, এই দুঃসময়ের দিনে।” দুর্যোগের দিন গ্রামে একটি ত্রাণ শিবিরের ব্যবস্থাও করা হয়েছিল প্রশাসনের তরফে। আপাততো সকলেই চাইছেন দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুক এই গ্রাম।

thebengalpost.in
বুড়িশোল গ্রামে ছত্রছায়া :

thebengalpost.in
বুড়িশোল গ্রাম (ফাইল ছবি, নিজস্ব) :

আরও পড়ুন -   কালোজিরে দিয়ে প্রতিকৃতি এঁকে প্রয়াণ দিবসে মহানায়ককে শ্রদ্ধা জানালেন মেদিনীপুরের শিল্পী