করোনা আবহে কাঁচা মালের দাম বাড়ায় বড়দিনের কেকও এবার ‘বড় দামে’

শ্রীকৃষ্ণ মাইতি, হলদিয়া, ২২ ডিসেম্বর : মাঝখানে মাত্র দু’দিন। তার পরেই- জিঙ্গল বেল, সান্টা ক্লজ আর অপরিহার্য সেই খাবারটা! মানে, বড়দিনের কেক খাওয়ার পালা। বড়দিন, অর্থাৎ ২৫ শে ডিসেম্বরের মোটামুটি এক সপ্তাহ আগে থেকে পরের প্রায় সপ্তাহ দুয়েক ধরে নলেন গুড়ের কেক, ফ্রুট কেক, স্পেশ্যাল ফ্রুট কেক কিংবা প্লাম কেকের ভুরভুরে সুবাস যেন বশ করে ফেলবে চারপাশ। কিন্তু, করোনাকালে এ বারের বড়দিনে বাজারের অবস্থা ভালো নয়। সাধারণ মানুষের পকেটের অবস্থা আরও খারাপ। তাই, মনে কিছুটা আশঙ্কা-অনিশ্চয়তা নিয়েই আগাম খোঁজ নিতে হচ্ছে কেক প্রস্তুতকারকদের কাছে। মানে, স্থানীয় বেকারি কিংবা বাড়িতে যাঁরা কেক বানান, তাঁদের কাছে। করোনা আবহে কিভাবে কেক তৈরি হচ্ছে, বাজারে কিরকম চাহিদা রয়েছে, নতুন কি কি আইটেম তৈরি হয়েছে তা জানতেই আমরা যাই পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়ার একটি কেক প্রস্তুত কারক কারখানায়। সেখানে গিয়ে কারিগর ও কারখানার আধিকারিকদের সাথে কথা বলে জানতে পারি, করোনার কারণে অর্ডার অনেক কমে গিয়েছে। ফলে কারখানায় কাজ করে, যে সমস্ত কারিগর অর্থ উপার্জন করে সংসার চালাতেন, তাঁরা একটু সমস্যায় পড়েছেন।

thebengalpost.in
হলদিয়ার বিদ্যুৎ বেকারি :

হলদিয়ার ব্রজলালচকে নিউ বিদ্যুৎ বেকারি নামে একটি কারখানা রয়েছে। সেখানে মহিলা ও পুরুষ মিলে ৫০/৬০ জন প্রতিনিয়ত কাজ করে থাকেন। গত কয়েক বছর, নিয়ম করে কয়েকমাস আগে থেকে কাজ শুরু করে দিতে হতো। কিন্তু, করোনার কারণে এবছর অর্ডার কম। তবে, করোনা আবহে সরকারি নিয়ম মেনেই মাস্ক, গ্লাভস, মাথায় টুপি পরে কাজ চলছে। এখানে ২৫/৩০ রকমের কেক তৈরি হয়ে থাকে। তার মধ্যে নলেন গুড়ের কেক, সোনার বাংলা নামক কেকের চাহিদা বেশি। জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায়, দাম স্বল্প পরিমাণে বাড়াতে হয়েছ। এক কেজি কাজুর দাম ৮০০ টাকা। আখরোট ২ হাজার টাকা কেজি। পেস্তার কেজি ১২০০ টাকা করে যাচ্ছে। তাই কিছু করার নেই সামান্য দাম বাড়াতে হয়েছ। কর্তৃপক্ষ জানালেন, “গত বছর এক পাউন্ডের যে কেকের দাম ২০০ টাকা ছিলো, সেই কেকের দাম এবার ২১০ টাকা। এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের কেক আছে যার দাম ২১০ থেকে ৩৩৯ টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করবে। এক পাউন্ড চকোলেট কেকের দাম এবার প্রায় ৫০ টাকা বেড়ে ২৭০ টাকার কাছাকাছি হবে।” বড়দিনে প্রধানত রিচ ফ্রুট কেক ও প্লাম কেকের চাহিদা তুঙ্গে থাকলেও, ডান্ডি কেক, চকোলেট কেকও এই সময়ে কম কিছু বিকোয় না। তা ছাড়া, শুধু খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষ তো নন, বড়দিনের কেক সর্বজনীন। তাই কেকের চাহিদা প্রতিবছর থাকলেও এবছর করোনার কারণে অনেকটাই কম। হলদিয়ার নিউ বিদ্যুৎ বেকারির তৈরি কেক পূর্ব মেদিনীপুর জেলার বিভিন্ন এলাকার পাশাপাশি পশ্চিম মেদিনীপুর, হাওড়া, হুগলী জেলা সহ অন্যান্য জেলারও চাহিদা মেটায়।

thebengalpost.in
বড়দিনের কেক এবার অগ্নিমূল্য :

আরও পড়ুন -   'নত মস্তকে' প্রণাম মেদিনীপুরের পুণ্য ভূমিকে, পিঠ চাপড়ে দিলেন রাজীব-শুভেন্দুর, মুষ্ঠিবদ্ধ হাতে প্রতিক্রিয়া রাজীবের