“এক ঘন্টার উপর র‍্যালি করছি, মুখ্যমন্ত্রীর জন্যও করিনা”, নিজেদের ‘স্বার্থ’ গোছাতেই কি সেলিব্রেটিরা রাজনীতিতে, প্রশ্ন সব মহলেই

দ্য বেঙ্গল পোস্ট বিশেষ প্রতিবেদন, সমীরণ ঘোষ, ২৯ মার্চ: “এক ঘন্টার উপর র‍্যালি করছি, মুখ্যমন্ত্রীর জন্যও করিনা! ঠাট্টা করছ?” এই একটা ‘বেফাঁস’ মন্তব্য একদিকে যেমন রাজ্য-রাজনীতি তোলপাড় করে দিয়েছে, ঠিক তেমনই অনেক অপ্রিয় সত্যকেও ফের সাধারণ মানুষের চোখের সামনে নিয়ে এসেছে। বর্তমান সময়ে, টলিউডের শিল্পী-কলাকুশলীরা যেভাবে ঝাঁকে ঝাঁকে সরাসরি রাজনীতিতে যোগ দিচ্ছেন, আর যোগ দেওয়ার ‘কয়েক ঘন্টা’র মধ্যেই প্রার্থী হয়ে যাচ্ছেন, তাতে দলমত নির্বিশেষে সচেতন নাগরিকদের একটা অংশ প্রথম থেকেই প্রশ্ন তুলছেন এর রাজনৈতিক-যৌক্তিকতা নিয়ে। সত্যিই কি অভিনয়-পরিচালনা সহ চলচ্চিত্র শিল্পের সঙ্গে যুক্ত কলাকুশলীরা রোদে পুড়ে, জলে ভিজে, নানা ঝক্কি-ঝামেলা সহ্য করে সারাবছর ধরে মানুষের পাশে থেকে মানুষের ‘সেবা’ করতে রাজনীতিতে আসছেন? নাকি নিজেদের আখের গোছাতে বা পায়ের তলার মাটি শক্ত করতে বা আরো একটু প্রভাবশালী হতেই রাজনীতিতে আসছেন? অন্তত বেশিরভাগ শিল্পীর (অবশ্যই, ব্যতিক্রমী আছেন) নীতি-নৈতিকতা, হাবভাব দেখে দ্বিতীয় যুক্তিটাই সঙ্গত বলে মনে হচ্ছে। শনিবার অশোকনগরের তৃণমূল প্রার্থী নারায়ণ গোস্বামীর হয়ে প্রচারে বেরিয়ে বসিরহাটের সাংসদ নুসরাত জাহানের ‘বেফাঁস’ মন্তব্য থেকেও সেই বিষয়টাই আরও একবার পরিস্ফুট হল! আজীবন রাজনীতি না করেও যে কর্মীদের অমানুষিক পরিশ্রম আর মুখ্যমন্ত্রীর আশীর্বাদে তিনি ভারতবর্ষের সাংসদ হলেন, সামান্য পরিশ্রমেই (সেটাও আবার গাড়িতে চেপে রোড শো) তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতার মুখোশটা কি সুন্দর খসে পড়ল! বললেন, “এক ঘন্টার উপর র‍্যালি করছি, মুখ্যমন্ত্রীর জন্যও করিনা!” মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দয়ায় টিকিট পাওয়া আর জিতে আসা সেলিব্রেটি-সাংসদের এই ব্যবহারই শুধু নয়, আরও বেশ কিছু উদাহরণ তুলে ধরা যেতে পারে, সেলিব্রেটিদের ‘সেবা’ করার ইচ্ছে প্রসঙ্গে!

thebengalpost.in
শনিবার নুসরাত জাহান :

সম্প্রতি, বারাসতের তৃণমূল বিধায়ক (বিদায়ী) চিরঞ্জিত চক্রবর্তী দলকে একপ্রকার ব্ল্যাকমেইল করেই এবারও টিকিট নিয়েছেন! রায়দীঘির বিদায়ী বিধায়ক দেবশ্রী রায় টিকিট না পেয়ে, তৃণমূল ছেড়েছেন এবং জানিয়ে দিয়েছেন, “সম্মান দিয়ে যে দল কাছে ডাকবে তিনি যাবেন!” রুদ্রনীল ঘোষ বাম, তৃণমূল হয়ে এবার বিজেপি’র প্রার্থী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘গড়’ ভবানীপুরের প্রার্থী হয়েছেন রুদ্রনীল। প্রার্থী না হলেও, ‘মহাগুরু’ মিঠুন চক্রবর্তী সম্পর্কেও একই কথা প্রযোজ্য। তৃণমূল থেকে বিজেপিতে গিয়ে দিলীপ ঘোষের ‘খাসতালুক’ খড়্গপুরে প্রার্থী হয়েছেন অভিনেতা হিরন্ময় চট্টোপাধ্যায় (হিরন)। শ্রাবন্তী, পায়েল, তনুশ্রী, যশ ‘ রা এই দু’দিন আগে অবধি দিদির মঞ্চ কাঁপিয়ে এবার বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন! প্রথম তিন নায়িকা তো গঙ্গাবক্ষে ‘টলিউডের ক্রাশ’ (বক্তা- সায়নী ঘোষ) মদন মিত্রের সঙ্গে চুটিয়ে দোল খেললেন গতকাল। শুধু তাই নয়, ওই দোল উৎসবের আয়োজক সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তরে মদন মিত্র জানালেন, “ভবিষ্যতেও ওদেরকে আমাদের পাশে দেখা যেতে পারে। রাজনীতিতে কোনও কিছুই অসম্ভব নয়!” এবার একনজরে কিছু পারিবারিক বা ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ‘মতাদর্শ’ দেখে নিন একঝলকে:
১. কৌশানী মুখার্জি তৃণমূলের প্রার্থী, তাঁর ‘বিশেষ বন্ধু’ (বা, প্রেমিক) বনি সেনগুপ্ত বিজেপিতে (বনির মা পিয়া সেনগুপ্তও তৃণমূলে)।
২. নুসরাত জাহান তৃণমূল সাংসদ, তাঁর বিশেষ বন্ধু যশ দাশগুপ্ত বিজেপির প্রার্থী।

এছাড়াও একাধিক উদাহরণ আছে। যা থেকে এটুকু পরিষ্কার, নিজেদের মধ্যে ‘ব্যক্তিগত সেটিং’ সম্পন্ন করেই রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে ‘শর্তসাপেক্ষ সেটিং’ করে নিয়েছেন। আসলে, ২০২১ এর বিধানসভা যুদ্ধে তৃণমূল না বিজেপি, কে জয়ী হবে, তা নিয়ে সকলের মতোই টলি শিল্পিরাও দ্বিধাবিভক্ত। তাই দুই দলের সঙ্গেই ‘সেটিং’ করে রাখলেন। এবার শুধু সুযোগ বুঝে এদিক থেকে ওদিকে চলে গেলেই হল! তাই, সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে রাজনৈতিক মহলের মন্তব্য, “ভাবুন, ভাবুন, ভাবা অভ্যাস করুন।”

thebengalpost.in
রবিবার (২৮ মার্চ) গঙ্গাবক্ষে অনুষ্ঠিত দোল উৎসবে :

আরও পড়ুন -   টিম নিয়ে "খেলা" পরিচালনা করতে চললেন জাতীয় রেফারি মেদিনীপুরের ইন্দ্রজিৎ পানিগ্রাহী