শাহি সভায় ভিড় না থাকলেও ‘মন্ত্রীসভা’ সাজাচ্ছে বিজেপি! রাজ্যসভা থেকে ইস্তফা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীত্বের দৌড়ে স্বপন দাশগুপ্ত

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, কলকাতা, ১৬ মার্চ: শাহি সভা জমলনা প্রথম দফার নির্বাচনের ঠিক ১০-১২ দিন আগে! গতকাল, জঙ্গলমহল বাঁকুড়া এবং ঝাড়গ্রামের সভায় আশানুরূপ জমায়েত হয়নি। সূত্রের খবর অনুযায়ী, ঝাড়গ্রামের সভায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লোক হয়নি বলেই খড়্গপুরের হোটেল থেকে বেরোননি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী! ভার্চুয়ালি বক্তৃতা দিয়েছিলেন। যদিও, বিজেপি সূত্রে কপ্টারের যান্ত্রিক গোলযোগের কথা বলা হয়। নির্ধারিত সময়ের পর অবশ্য কিছু লোকজন এসেছিলেন, তবে ততক্ষণে ঘোষণা হয়ে যায় অমিত শাহ আসছেন না, তাই তাঁরাও ফিরে যান। একপ্রকার ফাঁকা মাঠে বক্তৃতা (ভার্চুয়াল) দেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। কাঙ্খিত ভিড় হয়নি বাঁকুড়ার খাতড়ার সভাতেও। প্রসঙ্গত, নির্বাচন ঘোষণা’র আগে জে.পি. নাড্ডার সভাও একবার সুপার ফ্লপ হয়েছিল ঝাড়গ্রামে। ফিরে গিয়েছিল নাড্ডার কনভয়! অন্যদিকে, রবিবার (১৪ মার্চ) শালবনীতে স্মৃতি ইরানি’র সভাতেও মাত্র হাজার দুয়েক লোক হয়েছিল বলে সূত্রের খবর। এই বিষয়ে যদিও বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব বিভিন্ন মহলে দাবি করেছে, “বিভিন্ন কারণেই মাঝেমধ্যে সঠিক সময়ে জমায়েত হচ্ছেনা। প্রথমত, শাসকদল আসতে দিচ্ছেনা। প্রচন্ড রোদে হেঁটে সভাস্থলে পৌঁছতে মানুষের অসুবিধা হচ্ছে। পরপর সভার ফলে, মানুষের পৌঁছতে সমস্যা হচ্ছে। সর্বোপরি, মানুষ ঠিক করেই নিয়েছেন, তাঁরা পরিবর্তন করবেন,‌ বিজেপিকে ভোট দেবেন, তাই সভায় আসা-না আসা নিয়ে কোনও গুরুত্ব নেই। তাছাড়াও, এই সময় মাঠ থেকে আলু তুলে প্যাকেট করা হচ্ছে, তাই গ্রামের মানুষ আসতে চাইছেন না। সবমিলিয়ে চিন্তার বিশেষ কারণ নেই!” এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য যে, শুধু বিজেপি নয়, জঙ্গলমহলে শাসকদলের সভাতেও আশানুরূপ জমায়েত বা ভিড় হচ্ছেনা! রাজনৈতিক মহলের মতে, মানুষ এখন ‘ডিজিটাল’ যুগে আছেন, সভার ভিড়ভাট্টা বিশেষ পছন্দ করছেন না! টিভি, মোবাইল মাধ্যমেই সব খবর নিয়ে নিচ্ছেন, আর আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছেন কাকে ভোট দেবেন। আর, বিজেপি’র শীর্ষ নেতৃত্ব একপ্রকার ধরেই নিয়েছে, তাঁরাই এবার সরকার গড়ছে। তাই, এখন থেকেই কাল্পনিক মন্ত্রীসভা সাজানোর কাজও চলছে!

thebengalpost.in
স্বপন দাশগুপ্ত :

তাই, রাজ্যসভা থেকে লোকসভা কিংবা বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্র থেকে কৃতী মানুষদের নিয়ে আসা হচ্ছে, বিধানসভায় প্রার্থী করার জন্য। রাজ্যসভার মনোনীত সাংসদ স্বপন দাশগুপ্ত’কে প্রার্থী করা হয়েছে তারকেশ্বর থেকে। বিখ্যাত জার্নালিস্ট (সাংবাদিক) হিসেবে Times of India, India Today, The Hindu পত্রিকায় সফলভাবে সাংবাদিকদতা করেছেন কলকাতার এই কৃতী সন্তান। প্রেসিডেন্সি’র প্রাক্তনী স্বপন দাশগুপ্ত’কে ২০১৬ সালে রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি রাজ্যসভা থেকে সাংসদ মনোনীত করেছিলেন। এদিকে, তিনি প্রার্থী হওয়ার পর, তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র তাঁর বিরুদ্ধে আইনবিরুদ্ধ কাজের অভিযোগ এনে রাজ্যসভা থেকে ‘ইস্তফা’ দেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন। মহুয়া’র দাবি ছিল, মনোনীত সাংসদ হয়ে কোনো দলের প্রতিনিধিত্ব করলে, রাজ্যসভা থেকে ইস্তফা দেওয়া উচিত। মহুয়া মৈত্র গতকাল টুইট করার পরই আজ ইস্তফা দিয়েছেন স্বপন দাশগুপ্ত। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য,‌ এ রাজ্যে বিজেপি’র মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে যাঁদের নাম ভেবে রাখা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে সবার উপরে আছে স্বপন দাশগুপ্তের নাম। এছাড়াও, দৌড়ে আছেন বাবুল সুপ্রিয়। ক্যাবিনেট মন্ত্রীত্ব পাওয়ার দৌড়ে এছাড়াও যাঁরা এগিয়ে আছেন, শুভেন্দু অধিকারী, রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়, লকেট চট্টোপাধ্যায়, নিশীথ প্রামাণিক, ভারতী ঘোষরা। আর সেজন্যই, লোকসভা থেকে বাবুল-লকেট-নিশীথ’কে নিয়ে আসা হয়েছে বিধানসভায়। অন্যদিকে, প্রেসডেন্সির আরেক স্বনামধন্য প্রাক্তনী অর্থনীতিবিদ অশোক‌ লাহিড়ী’কে উলুবেড়িয়ায় প্রর্থী করে সবথেকে বড় চমক দিয়েছেন মোদী-শাহ। পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের সদস্য, মনমোহন সিংহ এবং অটল বিহারী বাজপেয়ী আমলের মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা, বন্ধন ব্যাঙ্কের প্রাক্তন চেয়ারম্যান অশোক লাহিড়ী’কেই বিজেপি মন্ত্রীসভার অর্থমন্ত্রী হিসেবে ভেবে রাখা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। তবে, এ সবকিছুই যে নির্ভর করছে, বিজেপির ‌সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া বা সরকার গড়ার উপর, তা বলাই বাহুল্য!

thebengalpost.in
অশোক লাহিড়ী :

আরও পড়ুন -   বিধানসভার আগে ফের পাল্লা ভারী মুকুল গোষ্ঠীর! নাড্ডার দক্ষিণবঙ্গ সফরের আগেই বিজেপির সাংগঠনিক পদে বড়সড় রদবদল