পশ্চিম মেদিনীপুরের একটি SBI ব্যাঙ্ক থেকে ১৮ কোটি টাকা লুট! জঙ্গলমহলের “মাস্টার মাইন্ড” গ্রেফতার আরামবাগ থেকে

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ২০ মে: হিন্দি সিনেমার চিত্রনাট্য’কেও হার মানাবে এই কাহিনী! জঙ্গলমহলের প্রত্যন্ত গ্রামের এক যুবক দিল্লি-হিল্লি, SBI-Paytm সবাইকে ঘোল খাইয়ে দিয়ে কোটি কোটি টাকা লুটে নিয়েছিল মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে। অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়ল প্রায় ১৮ কোটি টাকা লুটের “মাস্টার মাইন্ড”! পশ্চিম মেদিনীপুরে গোয়ালতোড়ের যুবক (বয়স আনুমানিক ৩৫-৪০) রাজীব বক্সী’কে মঙ্গলবার গভীর রাতে আরামবাগ থেকে গ্রেফতার করল ঘাটাল মহকুমা পুলিশ আধিকারিক অগ্নিশ্বর চৌধুরীর নেতৃত্বে ঘাটাল থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। যুবকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, সাইবার ক্রাইমের মাধ্যমে বা অনলাইন প্রতারণার মাধ্যমে প্রায় ১৮ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার।

thebengalpost.in
ধৃতকে নিয়ে আসা হয়েছে ঘাটালে :

ঘাটাল পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পশ্চিম মেদিনীপুরের গোয়ালতোড়ের যুবক রাজীব বক্সী, গৌতম বন্দ্যোপাধ্যায় নাম ব্যবহার করে, নিজেকে সাইবার‌ ক্রাইম শাখার বড় অফিসার হিসেবে পরিচয় দিয়ে স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (SBI)’র ঘাটাল শাখা থেকে বেশ কয়েকদফায় প্রায় ১৮ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। এই কাজে সে ব্যবহার করেছিল ওই ব্রাঞ্চের (শাখার) অফিসার জনৈক শ্রীমন্ত দাস’কে। শ্রীমন্ত দাসের সঙ্গে সুসম্পর্ক ছিল ঘাটাল‌ SBI এর ব্রাঞ্চ ম্যানেজার গৌতম দত্ত’র। শ্রীমন্ত’কে অন্ধভাবে বিশ্বাস করতেন গৌতম। এবার, ওই প্রতারক রাজীব বক্সী (গৌতম বন্দ্যোপাধ্যায় নাম নিয়ে), ঘাটাল ব্রাঞ্চের ম্যানেজারকে প্রায়শই ফোন করে বলত, “যে যে অ্যাকাউন্ট নম্বরগুলি পাঠাচ্ছি, সেগুলিতে এই (বিভিন্ন অঙ্কের টাকা) পরিমাণ টাকা হ্যাক করা হয়েছে। ওই টাকা এই অ্যাকাউন্টগুলিতে ঢুকিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করুন।” এই কাজে রাজীব ব্যবহার করত শ্রীমন্ত’কে। এদিকে, ব্রাঞ্চ ম্যানেজারও শ্রীমন্ত কেই এই দায়িত্ব দিয়ে দিতেন। ব্রাঞ্চ ম্যানেজারের কোড ব্যবহার করে শ্রীমন্ত অনায়াসেই টাকা লেনদেন চালিয়ে যাচ্ছিল গত কয়েক মাস ধরে। অনেক সময়, ব্রাঞ্চ ম্যানেজার গৌতম দত্ত নিজেও জানতেন না, টাকার লেনদেনের বিষয়ে!

thebengalpost.in
অগ্নিশ্বর চৌধুরী :

অন্যদিকে, SBI এর ঘাটাল ব্রাঞ্চের এই অবৈধ লেনদেন প্রথম ধরা পড়ে এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে (৫ এপ্রিল নাগাদ)। 197 কমিউনিকেশন, যা পেটিএম (Paytm) হিসেবে পরিচিত সকলের কাছে, সেই কোম্পানির দিল্লির অ্যাকাউন্ট থেকে মোট ৪২ লক্ষ ২ হাজার ৭০৫ টাকা অবৈধভাবে হাতিয়ে নেওয়া হয়, অনলাইন জালিয়াতির মাধ্যমে। অভিযোগ, মোট ৭ বার ধরে ওই পরিমাণ টাকা SBI এর ঘাটাল‌ ব্রাঞ্চের কোনও অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করা হয়। দিল্লি SBI তা ধরে ফেলে এবং SBI এর রিজিওনাল ম্যানেজার গৌতম মুনি’কে জানায়। এপ্রিল মাসেই গৌতম মুনি ঘাটাল থানায় এফ আই আর (FIR) দায়ের করেন। ধাপে ধাপে কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে কেউটে বেরিয়ে আসতে থাকে! দেখা যায়, ওই ব্রাঞ্চ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা এইভাবে অবৈধ লেনদেন করা হয়েছে বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে। টোটাল করলে প্রায় ১৭-১৮ কোটি টাকা! প্রাথমিক তদন্তে শ্রীমন্ত’কে পুলিশ আগেই গ্রেফতার করে। SBI কর্তৃপক্ষ তাকে চাকরি থেকেও বরখাস্ত করে। কিন্তু, “মাস্টার মাইন্ড” রাজীব (ওরফে, গৌতম বন্দ্যোপাধ্যায়)’কে পুলিশ খুঁজে পায়না। তার খোঁজে তল্লাশি চলতে থাকে। রাজীবের গোয়ালতোড়ের বাড়িতে বেশ কয়েকবার গিয়েও পুলিশ ব্যর্থ হয়। অবশেষে, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে, মঙ্গলবার (১৮ মে) আরামবাগের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় ঘাটাল থানার পুলিশ। রাজীবের মোবাইল লোকেশন ট্র্যাক করে ঘাটাল মহকুমা পুলিশ আধিকারিক অগ্নিশ্বর চৌধুরী’র নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী মঙ্গলবার (হিসেবে বুধবার, ১৯ মে) রাত্রি ২ টার সময় আরামবাগ থেকে তাকে গ্রেফতার করে! বুধবার এই কুখ্যাত অপরাধীকে ঘাটাল মহাকুমা আদালতে তোলা হলে, ৫ দিনের পুলিশ হেফাজত দেওয়া হয়। এদিকে, ঘাটাল এস বি আই (SBI) এর ব্রাঞ্চ ম্যানেজার গৌতম দত্ত’কেও সাসপেন্ড করা হয়েছে বলে জানা গেছে। আপাতত, এই জাল কতদূর প্রসারিত, আর কেউ জড়িত কিনা এবং মোট কত পরিমাণ টাকা লুটে নেওয়া হয়েছে সেসবই তদন্ত করে দেখবে পুলিশ!

thebengalpost.in
ধৃতের ৫ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ :

ইতিমধ্যে, ধৃত রাজীবের গোয়ালতোড়ের বিলাসবহুল বাড়ি থেকে বিভিন্ন জিনিসপত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তার বিলাসবহুল গাড়িটিও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, দেশ-বিদেশে বাড়ি আছে রাজীবের।‌‌ সে বিলাসবহুল জীবনযাপন করত! আপাতত, এহেন কুখ্যাত সাইবার ক্রিমিনাল বা অপরাধীকে গ্রেফতার করতে পারায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে ঘাটাল মহকুমার পুলিশ। সাধারণ মানুষ অভিনন্দন জানিয়েছেন পুলিশকে।

আরও পড়ুন -   অক্সিজেনের মাত্রা কমল! বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য'কে হাসপাতালে ভর্তি করা হল, স্ত্রী মীরা অনেকটাই সুস্থ