পেনশন ও ভাতার টাকা উধাও! “ব্যাঙ্কিং জালিয়াতি”র শিকার মেদিনীপুর শহরের অসহায় পরিবার, অতিমারীর চরম সঙ্কটে প্রশাসনের মুখাপেক্ষী

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১৩ মে: তিন মাস ধরে ব্যাঙ্ক আর সাইবার ক্রাইম থানার দরজায় কড়া নেড়ে নেড়ে ‘পায়ের চটি ছিঁড়ে গেলেও’ কোনও সুরাহা হয়নি! বরং, অথর্ব স্বামী আর শারীরিক-প্রতিবন্ধী (বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন) পুত্রকে নিয়ে ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে জেলা শহর মেদিনীপুরের বছর ৫০ এর মহিলার। অভিযোগ, স্বামীর পেনশনের টাকা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢোকা (ক্রেডিট হওয়া) মাত্রই সেই টাকা উধাও হয়ে যাচ্ছে গত দু-মাস ধরে! পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার মেদিনীপুর শহরের লালদিঘী এলাকার বাসিন্দা মনিকা দাস এমনই মারাত্মক অভিযোগ করলেন বৃহস্পতিবার। চলতি বছরের (২০২১) মার্চ মাসেই প্রথমবার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে উধাও হয়ে যায় স্বামী রবীন্দ্রনাথ দাসের পেনশন (Pension) বাবদ পাওয়া ২৪,৯০০ টাকা। এর পরেই, স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার রাজাবাজার শাখায় (Midnapore Town Branch) ছুটে যান ওই প্রৌঢ়া। সাইবার ক্রাইম থানায় লিখিত অভিযোগ জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয় ব্যাঙ্কের তরফে। এরপর, মাঝে একটা মাস (এপ্রিল) বাদ দিয়ে, ফের মে মাসে উধাও হয়ে যায় পক্ষাঘাতগ্রস্ত (Paralysed) স্বামীর পেনশনের টাকা। অতিমারীর মধ্যেই মাথায় হাত পড়ে মহিলার! ফের ব্যাঙ্কের দ্বারস্থ হলে, থানায় যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। থানা থেকে মহিলাকে পাঠানো হয় ফের ব্যাঙ্কেই! সেই থেকেই প্রায় নিত্যদিন ব্যাংক ও থানার মধ্যে চক্কর কাটছেন মনিকা দাস। তবে, এখনও পর্যন্ত কোনও সুরাহা হয়নি বলেই অভিযোগ!

thebengalpost.in
thebengalpost.in

প্রসঙ্গত, স্বামী রবীন্দ্রনাথ দাস কোলাঘাট থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্টের কর্মী ছিলেন। ২০০৭ সালের জুলাই মাসে অবসর নেন বৃদ্ধ স্বামী। বছর কয়েকআগেই পক্ষাঘাতগ্রস্ত বা প্যারালাইজ্‌ড (Paralysed) হয়ে যান রবীন্দ্রনাথ। বছর ২০’র একমাত্র পুত্র সমীর-ও সম্পূর্ণরূপে শারীরিক প্রতিবন্ধকতার শিকার! চরম সঙ্কটে পড়া ওই মহিলার অভিযোগ, “মাস দুয়েক ধরে প্রতিবন্ধী ছেলের ভাতা বাবদ প্রাপ্য টাকাও উধাও হয়ে যাচ্ছে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে।” এভাবে, জালিয়াতির ফলে ভাঁড়ার শূন্য মহিলার পরিবারে। করোনা কালে দিনগুজরান হবে কীভাবে, সেই দুঃশ্চিন্তায় ঘুম উড়ে গেছে গোটা পরিবারের। অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশের এক কর্তা। মহিলার নিরক্ষরতার সুযোগ নিয়েই কি এমন জালিয়াতি? খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তবে, মুখ খুলতে নারাজ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। এমন অবস্থায় মহিলার পাশে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। তৃণমূল নেতা সৌরভ বসুর দাবি, “অসহায় এই পরিবারের চরম বিপদের সময়ে, মানবিকতার পরিচয় দিয়ে তড়িঘড়ি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন প্রশাসন ও ব্যাংক কর্তৃপক্ষের।” তবে, দলের তরফে মহিলার পাশে যে থাকা হবে তাও কার্যত পরিষ্কার করে দেন স্থানীয় তৃণমূল নেতা।

thebengalpost.in
ব্যাঙ্কের পাসবই :

আরও পড়ুন -   হারভেস্টারের ধাক্কায় পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরায় মর্মান্তিক মৃত্যু হল এক ব্যক্তির