মন্ত্রী নন ‘মিত্র’ মদন, অমিত মিত্রই অর্থে আবার; শিক্ষায় কে? প্রশ্ন সবার! শত প্ররোচনাতেও বিজেপিতে ‘না’, শিউলি-শ্রীকান্তকে মন্ত্রীত্বের পুরস্কার

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, কলকাতা, ১০ মে: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর মন্ত্রীসভার ৪৩ জন সদস্যকে বেছে নিয়েছেন। সোমবার রাজভবনে শপথ গ্রহণ করবেন তাঁরা। প্রায় সকলেই উপস্থিত থাকবেন সশরীরে, অসুস্থতার কারণে দু’একজন (অসুস্থ অমিত মিত্র, করোনা আক্রান্ত ব্রাত্য বসু প্রমুখ) ভার্চুয়ালি। তবে, মমতার এই মন্ত্রী-তালিকায় নাম নেই কামারহাটির বিধায়ক ওয়ান অ্যান্ড ওনলি মদন মিত্রের! শুভেন্দু’র অনুপস্থিতিতে অনেকেই হয়তো ভেবেছিলেন (হয়তো তিনি নিজেও) পরিবহন দপ্তরটা এবার ‘মদন দা’র জন্য বাঁধা! কিন্তু, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর একসময়ের বিশ্বস্ত ‘সঙ্গী’ মদন মিত্র’কে আপাতত বিশ্রামেই রাখতে চেয়েছেন। হয়তো মদন মিত্রের শারীরিক অবস্থার কথা ভেবেই! আরও একটা কারণ অবশ্য উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছেনা। সারদা মামলা থেকে ‘বেকসুর খালাস’ হননি মদন মিত্র! তাই, অভিষেক কিংবা পিকে’র পরামর্শেই হয়তো নতুন মন্ত্রীসভায় কোনোরকম ‘দাগ’ রাখতে চাননি মমতা। এই বিষয়ে যদিও কোনও বিবৃতি পাওয়া যায়নি কোনো পক্ষ থেকেই। অপরদিকে, সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অমিত মিত্র’ই এবারও অর্থমন্ত্রী হচ্ছেন! একটা সময় পর্যন্ত শোনা যাচ্ছিল, অমিত মিত্র যেহেতু নির্বাচন থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন, তাই মন্ত্রীত্ব থেকেও তিনি হয়তো অব্যাহতি চাইবেন, শারীরিক কারণে। কিন্তু, তাঁকে এখনই অব্যাহতি দিলেন না মমতা। আপাতত অর্থমন্ত্রী হিসেবে তাঁর বিকল্প পাওয়া যায়নি, তাই এবারও তাঁকেই অর্থের বোঝা সামলাতে হবে! তাই, শুধু মমতা নন, আগামী ৬ মাসের মধ্যে অমিত মিত্র’কেও জিতে আসতে হবে যেকোনও একটি আসন থেকে।

thebengalpost.in
অমিত মিত্র’ই অর্থে আবার :

অন্যদিকে, শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের প্রশ্ন, এবারও কি তাহলে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ই শিক্ষামন্ত্রী? নাকি ফিরিয়ে আনা হবে ব্রাত্য বসু’কে? নাকি পার্থকে উচ্চ শিক্ষা দিয়ে, ব্রাত্য হবেন স্কুল শিক্ষা মন্ত্রী? নাকি অন্য কেউ? এই প্রশ্নের উত্তর হয়তো মিলবে আর কয়েক ঘন্টার মধ্যেই। তা সত্ত্বেও, গত ৫ বছরের হতাশা (অভিজ্ঞতা) থেকে, শিক্ষিত বেকারদের বিশেষত শিক্ষক পদপ্রার্থী’দের সংখ্যা গরিষ্ঠ অংশই পার্থকে আর শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে চাইছেন না! কারণটা অন্য কিছু নয়, এস এস সি (স্কুল সার্ভিস কমিশন) ও প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে তাঁর ব্যর্থতা, মামলার পাহাড় ও দুর্নীতির বল্গাহীন অভিযোগের জন্য। বরং ব্রাত্য বসু’কেই তাঁরা চাইছেন, স্বচ্ছ ভাবমূর্তির জন্য। প্রসঙ্গত, এবারের মন্ত্রীসভায় ব্রাত্য বসু ঠাঁয়ও পেয়েছেন ক্যাবিনেট মন্ত্রী হিসেবে। ২৪ জন ক্যাবিনেট মন্ত্রী’র তালিকায় পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা থেকে আছেন, প্রাক্তন মন্ত্রী ও সবংয়ের ‘ভূমিপুত্র’ মানস রঞ্জন ভূঁইয়া। তিনি রাজ্যসভায় ইস্তফা দিলে, তাঁর জায়গায় তৃণমূল কাকে সাংসদ করে পাঠায়, সেটাও অবশ্য দেখার বিষয়। পূর্ব মেদিনীপুর থেকে ক্যাবিনেট তালিকায় আছেন সৌমেন কুমার মহাপাত্র। উচ্চ-শিক্ষামন্ত্রী (অবশ্য, যদি শিক্ষা দফতরকে ভাঙা হয়) হওয়ার দৌড়ে ড. সৌমেন কুমার মহাপাত্রও আছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে, মানস রঞ্জন ভূঁইয়া কোন দপ্তরে? খুব সম্ভবত কৃষি ও সেচ দপ্তর পেতে পারেন মানস। এছাড়াও, সুব্রত মুখোপাধ্যায়, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, সাধন পান্ডে, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক প্রমুখরা নিজেদের পুরানো দপ্তরেই থাকতে পারেন বলে জানা গেছে। পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন দপ্তরের দপ্তরের স্বাধীন দায়িত্ব পেতে পারেন ডেবরার বিধায়ক তথা প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ূন কবীর।

thebengalpost.in
আইপিএস থেকে মন্ত্রী, স্বপ্নের দৌড় হুমায়ূনের :

প্রসঙ্গত, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা থেকে এবার চমক দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জেলার ৪ জনকে বেছে নিয়েছেন মন্ত্রী হিসেবে। এর মধ্যে, প্রথমবার রাজনৈতিক আঙিনায় বা ভোট যুদ্ধে নেমেই যিনি জয়ী হয়েছেন, তিনি প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ূন কবীর। পশ্চিমাঞ্চল উন্নত মন্ত্রকের দায়িত্ব পেতে পারেন হুমায়ূন। অপরদিকে, নির্বাচনের ঠিক প্রাক্কালে, বিজেপি’তে যোগ দেওয়া নিয়ে কেশপুরের বিধায়ক শিউলি সাহা’কে নিয়ে কম জলঘোলা হয়নি! তিনি নাকি মুকুল রায়ের হাত ধরে বিজেপিতে যোগদান করবেন! একই, গুজব রটেছিল শালবনীর বিধায়ক শ্রীকান্ত মাহাত’কে নিয়েও। শুভেন্দু অনুগামী হিসেবে পরিচিত শ্রীকান্তও নাকি বিজেপি’তে যাওয়ার পথ পরিষ্কার করে রেখেছিলেন! কিন্তু, সমস্ত ‌গুজব ও জল্পনা উড়িয়ে, তৃণমূলেই থেকে গিয়ে ব্যাপক লড়াই দিয়েছেন দু’জনই। বিপুল ভোটে জিতে বিধায়কও হয়েছেন। এবার, সেই জয়েরই পুরস্কার হিসেবে ‘প্রতিমন্ত্রী’ হয়ে গেলেন, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার কেশপুর ও শালবনীর দুই বিধায়ক যথাক্রমে শিউলি‌ সাহা ও শ্রীকান্ত মাহাত। এছাড়াও, মমতা মন্ত্রীসভায় অন্যান্যদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নাম ক্রিকেটার মনোজ তিওয়ারি, ফরওয়ার্ড ব্লক থেকে আসা পরেশ চন্দ্র অধিকারী, ঝাড়গ্রাম বিধানসভার বিধায়ক তথা সাঁওতালি সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী বীরবাহা হাঁসদা প্রমুখ। বাকিদের ক্ষেত্রে আপত্তি না থাকলেও, শিক্ষিত যুব সম্প্রদায় অবশ্য পরেশ চন্দ্র অধিকারী’কে মন্ত্রী করা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন! তাঁর মেয়ে অঙ্কিতা অধিকারী যেভাবে মেরিট প্যানেলে না থেকেও স্কুল সার্ভিস কমিশনের একাদশ-দ্বাদশে সফল হয়ে শিক্ষিকা হয়ে গিয়েছিলেন, তা ভালোভাবে নেয়নি শিক্ষিত ও শিক্ষক পদপ্রার্থী যুব সম্প্রদায়ের দল!

thebengalpost.in
মমতা মন্ত্রীসভায় শিউলি – শ্রীকান্ত :

আরও পড়ুন -   জুলাইয়ের শেষে উচ্চ মাধ্যমিক, আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহে মাধ্যমিক : মুখ্যমন্ত্রী