বিপর্যয়ের মধ্যেও জীবনের জয়গান! সদ্যজাতকে উদ্ধার করল NDRF, বিপর্যস্ত প্রায় ১ কোটি মানুষের মধ্যে প্রাণহানি ১ জনের, দিনের শেষে ‘নায়ক’ যোদ্ধারাই

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, কলকাতা, ২৬ মে: এ যেন বিপর্যয়ের মধ্যেও জীবনের জয়গান! ঘূর্ণিঝড়ে প্রবলভাবে ক্ষতিগ্রস্ত দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার একাধিক বিপর্যস্ত এলাকাগুলি থেকে সাধারণ মানুষকে উদ্ধার করল NDRF, SDRF, সেনা ও পুলিশ কর্মীরা। সেই তালিকায় আছে একাধিক সদ্যজাত সন্তান ও শিশুরাও! বুধবার সকালে দক্ষিণ ২৪ পরগণার কুলপিতে ভেঙে পড়া একটি বাড়ি থেকে ২-৩ বছরের একটি শিশু কন্যাকে উদ্ধার করেছিল এনডিআরএফ (কেন্দ্রীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী) বাহিনী। দুপুর নাগাদ সেই এনডিআরএফ বাহিনীরই অন্য একটি দল ডায়মন্ডহারবারের ১ নং ওয়ার্ডে এক সদ্যজাত সন্তানকে উদ্ধার করে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিল পরম মমতায়। প্রসঙ্গত, হুগলী নদীর জল উপচে লোকালয়ে ঢুকে গিয়ে একপ্রকার বন্যা পরিস্থিতি তৈরি করে দক্ষিণ ২৪ পরগণার ডায়মন্ডহারবারের ১ নং ওয়ার্ডে। প্রাণে বাঁচতে সাধারণ মানুষ পাকা বাড়ির ছাদে উঠে পড়ে! কিন্তু, দেখা যায় সেই বাঁধভাঙা জল বাড়ির ছাদের উপরেও উঠে যাচ্ছে অর্থাৎ পুরো বাড়িটাই প্রায় ডুবতে বসেছে। সেই পরিস্থিতিতেই NDRF (National Disaster Response Force) বাহিনী গিয়ে ওই সদ্যজাত শিশু সহ আট থেকে আশি সকলকেই উদ্ধার করে নিয়ে আসেন। কাউকে কোলে করে, তো কাউকে ঘাড়ে চাপিয়ে! বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের দৌলতে এই ছবি বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ায় সকলেই ‘ধন্য ধন্য’ করছেন কেন্দ্র ও রাজ্যের পুরো উদ্ধারকারী দলকে। হয়তো তাঁদের জন্যই বিপর্যস্ত এক কোটি মানুষের মধ্যে আজ প্রাণহানি হয়েছে মাত্র একজনের!

thebengalpost.in
সদ্যজাতকে উদ্ধার করে নিয়ে যাচ্ছেন NDRF এর সৈনিক :

thebengalpost.in
নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী ও মুখ্যসচিব :

উল্লেখ্য যে, যশ বা ইয়াশ (Yaas) পূর্ব মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগণাকেই সবথেকে বিপর্যস্ত করেছে। রাজ্যে এখনও পর্যন্ত যে ১৫ লক্ষ ৪ হাজার মানুষ’কে উদ্ধার করা হয়েছে তার মধ্যে অধিকাংশই এই দুই জেলার। দক্ষিণ ২৪ পরগণার মতোই আজ দুপুরে একই ছবি উঠে এসেছে, পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কাঁথি’র জুনপুট কোস্টাল থানার শৌলাতে। সেখানেও, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী জলমগ্ন আট থেকে আশি সকলকেই একপ্রকার মৃত্যুর মুখ থেকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দিয়েছে। সর্বভারতীয় সংবাদ সংস্থা সূত্রে প্রাপ্ত এই ২-৩ টি দৃশ্য ছাড়াও, আজ সারা রাজ্য জুড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষকে উদ্ধার করে দিনের শেষে ‘নায়ক’ সেই উদ্ধারকারী দল বা যোদ্ধারাই। কেন্দ্র ও রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ছাড়াও রাজ্য পুলিশের বাহিনীরাও অক্লান্ত পরিশ্রম করে গেছেন সারাদিন ধরে।

thebengalpost.in
আরও একজনকে উদ্ধার :

thebengalpost.in
নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় :

বিকেল নাগাদ ‘নবান্ন’ থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, “এখনো পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী ১ কোটি মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। ৩ লক্ষ বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১৫ লক্ষ ৪ হাজার মানুষকে নিরাপদ এলাকায় সরিয়ে আনা গেছে, প্রায় ১৪ হাজার রিলিফ ক্যাম্প বা ত্রাণ শিবিরে। ১৩৪ টি বাঁধ ভেঙেছে এখনও পর্যন্ত, তবে সংখ্যাটা আরো বাড়বে!” তবে তিনি আরও জানিয়েছেন, “মাত্র ১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। সেটাও এই সাইক্লোন বা যশের জন্য নয়। তিনি রিলিফ ক্যাম্প থেকে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। তারপর কোনোভাবে মৃত্যু হয়! এটা একটা দুর্ঘটনা।” মৃত ব্যক্তি কোন জেলার মুখ্যমন্ত্রী তা জানানি, তবে খবর পাওয়া গেছে পূর্ব মেদিনীপুরে রামনগরে জলে ডুবে একজনের এবং বাঁকুড়াতে ত্রাণশিবিরে এক প্রৌঢ়ের মৃত্যু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, বন্যা ও বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত চাষ-জমি, ঘর-বাড়ি সহ সবকিছুর তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। তিনি নিজে শুক্রবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাগর ও হিঙ্গলগঞ্জ এবং পূর্ব মেদিনীপুরের দীঘাতে পরিদর্শনে যাবেন। সাগর ও দীঘাতে তাঁর ক্ষয়ক্ষতি বিষয়ক প্রশাসনিক বৈঠক করার কথা।

thebengalpost.in
উদ্ধার কার্যে NDRF :

thebengalpost.in
পূর্ব মেদিনীপুরের জুনপুটে উদ্ধারকারী দল :

আরও পড়ুন -   'বন্দুক মাথায় ঠেকিয়ে' একই কায়দায় সোনাদানা ও টাকা ছিনতাই মেদিনীপুর ও খড়্গপুরে, আতঙ্কে দুই শহরবাসী