এবার পশ্চিম মেদিনীপুরে করোনা আক্রান্তের অসহায় মৃত্যু! প্রায় ১০ ঘন্টা পর বাড়ি থেকে ‘মৃতদেহ’ নিয়ে গেল প্রশাসনের কর্মীরা

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, খড়্গপুর (পশ্চিম মেদিনীপুর), ২৮ এপ্রিল: এবার চিকিৎসা সংক্রান্ত চরম অব্যবস্থায় পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় এক করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির অসহায় মৃত্যু হল, নিজের বাড়িতেই! মৃত্যু’র পর প্রশাসনের গাফিলতিতে প্রায় ১০ ঘন্টা ধরে পড়ে রইল করোনা আক্রান্তের মৃতদেহ!পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার খড়্গপুর গ্রামীণ (লোকাল) থানার অন্তর্গত বলরামপুরে, বুধবার ভোরবেলায় (৫ টা-সাড়ে ৫ টা নাগাদ) করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় গোবিন্দ মিশ্র নামে এক ব্যক্তির (৫২)। এরপর, শুধুমাত্র প্রশাসনিক গাফিলতিতে মৃতদেহ প্রায় ১০ ঘন্টা ধরে বাড়িতেই পড়ে থাকার অভিযোগ উঠল! পরিবারের অভিযোগ, “মৃত্যুর পর পর পুলিশ ও প্রশাসনের সাথে বারাবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও, কোনো সাড়া মেলেনি!” শেষমেশ, বিকেল ৩ টা নাগাদ স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্মীরা এসে মৃতদেহ নিয়ে যান, সৎকারের উদ্দেশ্যে।

thebengalpost.in
মৃত্যু’র ১০ ঘন্টা পর মৃতদেহ সংগ্রহ করল প্রশাসন :

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন আগে (শুক্রবার-শনিবার নাগাদ) শ্বাসকষ্ট অনুভব করায় ওই ব্যক্তি সরকারি হাসপাতালে যান চিকিৎসা করাতে। সেই সময় নমুনা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়, বলা হয়- “করোনা রিপোর্ট পজিটিভ এলে ভর্তি নেওয়া হবে। নাহলে বাড়িতেই থাকুন।” এর, দিন-দুয়েক পর অর্থাৎ সোমবার তাঁর রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে বলে সরকারি ভাবে জানানো হয়। এদিকে, আইআইটি খড়্গপুরের চুক্তিভিত্তিক কর্মী গোবিন্দ বাবু’র শ্বাসকষ্ট ততদিনে আরও বাড়তে থাকে। মঙ্গলবার তিনি শহরের এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হতে যান! তাঁর করোনা রিপোর্ট পজিটিভ শুনে ফেরত পাঠানো হয় বলে অভিযোগ। বলা হয়, সরকারি করোনা হাসপাতালে যাওয়ার জন্য। এরপর, মঙ্গলবার রাত থেকে তাঁর শ্বাসকষ্ট আরও বাড়ে। বাড়ির লোককে সরকারি করোনা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ না দিয়েই ভোরবেলা তাঁর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়! এই করোনা-কালে, মরেও যেন শান্তি নেই! মৃত্যু’র পর প্রায় ১০ ঘন্টা বাড়িতেই পড়ে থাকে মৃতদেহ। অবশেষে, বিকেল ৩ টা নাগাদ, প্রশাসনের তরফে কর্মীরা এসে মৃতদেহ নিয়ে যান সৎকারের উদ্দেশ্যে। এই বিষয়ে একাধিক প্রশাসনিক কর্তা র সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, প্রত্যেকেই বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, “খোঁজ নিয়ে দেখছি!”

আরও পড়ুন -   সব রেকর্ড ভেঙে রাজ্যে করোনা সংক্রমিত ৯৮২ জন! পশ্চিম মেদিনীপুরে ১২ জন সংক্রমিত, শুধু মেদিনীপুরেই ১০, আরো বাড়ানো হবে টেস্ট