সাংবাদিক সংক্রমিত পশ্চিম মেদিনীপুরে, সংক্রমণের কারণে বন্ধ রেল হাসপাতাল, দুঃশ্চিন্তায় রেল কর্মীরা

reporter corona effected first time in paschim medinipur district

thebengalpost.in
খড়্গপুর রেল হাসপাতাল :

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, খড়্গপুর, ১ সেপ্টেম্বর : জেলায় প্রথমবার কোনো সাংবাদিক করোনা সংক্রমিত হলেন! পুলিশ, স্বাস্থ্যকর্মী, আধিকারিক, আমলা, নেতা, মন্ত্রী প্রায় সকল শ্রেণীর করোনা যোদ্ধাই সংক্রমিত হয়েছেন পশ্চিম মেদিনীপুরে; বাকি ছিলেন, কেবল সাংবাদিক কূল! এবার, করোনা’র কুনজরে পড়লেন সাংবাদিকরাও। জেলার প্রথম সাংবাদিক হিসেবে করোনা সংক্রমিত হয়েছেন, খড়্গপুর শহরের এক বাসিন্দা। জানা যায়, স্থানীয় একটি সাপ্তাহিক পত্রিকার সাংবাদিক তিনি। সূত্রের খবর অনুযায়ী, গত কয়েকদিন ধরে একাধিক উপসর্গ দেখা দিয়েছিল তাঁর। গতকাল (সোমবার) তাই লকডাউনের মধ্যেও তাঁকে খড়্গপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে, র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট করানো হয়। এরপর তাঁর রিপোর্ট পজিটিভ আসে। আপাতত স্বাস্থ্য দপ্তরের অনুমতিক্রমে তিনি হোম আইশোলেশনে আছেন বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন -   অধিবেশন শুরুর দিনই করোনা সংক্রমিত ১৭ জন সাংসদ, স্কুল খোলা নিয়েও উঠে গেল প্রশ্ন
thebengalpost.in
খড়্গপুর রেল হাসপাতাল :

অপরদিকে, খড়্গপুরের ২৮ নং ওয়ার্ডের (তালঝুলি) এলাকার এক করোনা আক্রান্ত রেলকর্মী (৪৪)’র মৃত্যু হয় শনিবার। খড়্গপুরের ক্ষেত্রে যা ১৭ তম করোনা-মৃত্যু বলে জানা যায়! গতকাল (সোমবার), ওই পরিবারের সদস্যদের এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সংস্পর্শে থাকা প্রায় ৪০ জনের নমুনা সংগ্রহ করেছিল স্বাস্থ্য দপ্তর। এর মধ্যে ১২ জনের রিপোর্ট পজেটিভ এসেছে সোমবার! উল্লেখ্য যে, একই পরিবারে একসঙ্গে ১২ জন করোনা আক্রান্ত খড়গপুর শহরে এই প্রথম! তবে, আক্রান্ত’রা সকলেই প্রায় উপসর্গহীন বলে জানা গেছে। এছাড়াও, শহরের বুলবুলচটি, ঝাপেটাপুর, ইন্দা, ছোটো ট্যাংরা, ছোটো আয়মা, তালবাগিচা সহ বিভিন্ন এলাকায় এদিন মোট ২৮ জন করোনা আক্রান্তের সন্ধান পাওয়া গেছে বলে জানা যায় স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে। উল্লেখ্য যে, গত শনিবার ও রবিবার মিলিয়ে খড়্গপুর দমকল বাহিনীর ১৪ জন করোনা সংক্রমিত হয়েছেন। অপরদিকে, একের পর এক রেলকর্মী, আধিকারিক ছাড়াও রেলের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা (প্রায় ২৫ জন) করোনা আক্রান্ত হওয়ায় আপাতত দু’দিনের জন্য বন্ধ করা হয়েছে রেল হাসপাতাল। গতকালও র‌্যাপিড অ্যান্টিজেনে ১০ জন সাফাইকর্মীর রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। তাই, পুরো হাসপাতাল জীবাণুমুক্ত করে পুনরায় তা খোলা হবে বলে জানা গেছে। আর, এ নিয়েই চিন্তিত রেল কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা। কারণ, রেল সূত্রে করোনা আক্রান্তদের এই রেল হাসপাতালেই চিকিৎসা হচ্ছিল, জেলা প্রশাসনের সঙ্গে এ নিয়ে দ্বন্দ্ব তৈরি হওয়ার পর থেকে। তাই, এই দু’দিন নতুন করে কেউ সংক্রমিত হলে কোথায় রাখা হবে তা নিয়েই চিন্তিত তাঁরা। যদিও, রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কোনো অসুবিধা হবেনা, উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
***আরো পড়ুন : করোনা চিকিৎসায় জেলায় এবার প্লাজমা থেরাপি….