সহকর্মী বিদায় নিয়েছে, পূরণ হয়নি সব দাবি, তবুও কর্তব্যে অবিচল ভিআরপি’রা ডেঙ্গু প্রতিরোধে মাঠে-ঘাটে

মণিরাজ ঘোষ, শালবনী, ৫ আগস্ট : বর্ষা এসে গেছে। ডেঙ্গু’র প্রকোপ যেকোনো মুহূর্তে বাড়তে পারে। তাই, আশেপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা বাধ্যতামূলক। জমা জল নিষ্কাশন করাও জরুরি। অগত্যা, প্রশাসনের ভরসা সেই চিরবঞ্চিত ভিআরপি বা গ্রামীণ সম্পদ কর্মী’রা। সম্প্রতি (২৯ জুলাই), শালবনী ব্লকের ৯ নং কাশীজোড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের, ভুরসা গ্রামের মাত্র ৩৮ বছর বয়সী ভিআরপি মফিজুল আলম প্রাণ দিয়েছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিজের কর্তব্য পালন করতে গিয়েই। জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে, তিনি যখন স্থানীয় এলাকায় ঝোপ-জঙ্গল পরিষ্কার করার কাজ পরিচালনা করেছিলেন, তখনই তাঁর পায়ে কামড় দিয়েছিল, অজানা কোনো বিষাক্ত মাকড়সা জাতীয় পতঙ্গ। সঠিক চিকিৎসার অভাবে, প্রায় এক মাস এ হাসপাতাল ও হাসপাতাল ঘুরে, তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর দু’দিন আগে যদিও মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে তাঁর অস্ত্রপচার করা হয়, তবে তাঁকে বাঁচানো যায়নি! শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছিলেন, পরিবার-পরিজন ও স্থানীয় এলাকাবাসী থেকে শুরু করে জেলার ভিআরপি বা গ্রামীণ সম্পদ কর্মীরা। তবে, সেই শোক সামলে ফের তাঁরা গ্রামের পথে-ঘাটে-মাঠে দায়িত্ব পালনে বদ্ধপরিকর।

thebengalpost.in
গড়মালে নর্দমা তৈরির কাজ চলছে :

ডেঙ্গু প্রতিরোধক কর্মসূচি উপলক্ষে, আজ (বুধবার) গ্রামীণ সম্পদ কর্মীদের পরিচালনায় ঝোপ-জঙ্গল পরিষ্কার থেকে শুরু করে, জমা জল নিষ্কাশনের জন্য গ্রামীণ নালা-নর্দমা গুলি নতুনভাবে সংস্কার করা হল শালবনী ব্লকের ৮ নং গড়মাল এলাকায়। এদিনের এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন, গ্রামীণ সম্পদ কর্মী বাপ্পা বেতাল, বিশ্বজিৎ মাহাত, সুভাষ সাহু, সিভিক ভলেন্টিয়ার গুরুপ্রসাদ ভান্ডারী এবং পঞ্চায়েত কর্মী বিশ্বজিৎ সিং। ভিআরপি বাপ্পা বেতাল বললেন, “কি আর করা যাবে! কর্তব্য তো পালন করতেই হবে। করোনা প্রতিরোধ থেকে শুরু করে ডেঙ্গু প্রতিরোধ, আমরা সর্বদা দায়িত্ব পালনে বদ্ধপরিকর। মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী’র কাছে আমাদের বেশ কিছু দাবিদাওয়া যা এখন সকলেই জানেন। জীবন ও জীবিকার নিরাপত্তার দাবি সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ। দেখা যাক মুখ্যমন্ত্রী আমাদের কথা কবে ভাবেন!”
এই বিষয়ে বিশেষ কিছু মন্তব্য না করলেও, জেলা পরিষদের জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিষয়ক কর্মাধ্যক্ষ শ্যামপদ পাত্র বলেছেন, “ভিআরপি দের দাবি দাওয়া’র বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে, বর্ষাকালে যাতে এই ধরনের দুর্ঘটনা আর না ঘটে, সেকথা ভেবে তাদেরকে বিশেষ জুতো দেওয়ার বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।”

thebengalpost.in
ঝোপ-জঙ্গল পরিষ্কার করার কাজ চলছে :

আরও পড়ুন -   সংক্রমণে ফের শীর্ষে মেদিনীপুর, আক্রান্ত ৭৬ জন, খড়্গপুরে ২৭ জন, জেলায় সংক্রমিত ১৬৭ জন