সংক্রমিত হচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা, নিরবিচ্ছিন্ন স্বাস্থ্য পরিষেবা দেওয়ার জন্য নিয়োগ থেকে শুরু করে নানা পদক্ষেপ জেলা টাস্ক ফোর্সের

দ্য বেঙ্গল পোস্ট প্রতিবেদন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১৯ আগস্ট: পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় একাধিক চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বাস্থ্য পরিষেবার সাথে যুক্ত প্রযুক্তিবিদ (টেকনোলজিস্ট)’রা করোনা আক্রান্ত হচ্ছেন। করোনা হাসপাতাল ছাড়াও, জেলার সদর হাসপাতাল তথা মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে’ও সংক্রমিত হচ্ছেন একাধিক চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও ল্যাব টেকনিশিয়ান থেকে শুরু করে ডাটা এন্ট্রি অপারেটররা। শুধু তাই নয়, মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হওয়া একাধিক রোগীর শরীরে ধরা পড়ছে সংক্রমণ। স্থানান্তরিত করার আগেই পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক হয়ে উঠছে! স্বভাবতই চিকিৎসা করা কিংবা স্থানান্তরিত করা দুইই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। এই পরিস্থিতিতে জেলাশাসক ডঃ রশ্মি কমলে নেতৃত্বে জেলা‌র কোভিড টাস্ক ফোর্স গতকাল (১৮ আগস্ট) কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল। উপস্থিত ছিলেন, জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ নিমাই চন্দ্র মন্ডল, উপ মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ সৌম্যশঙ্কর সারেঙ্গী এবং

thebengalpost.in
জেলাশাসকের কার্যালয় :
মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডাঃ পঞ্চানন কুন্ডু প্রমুখ।

আরও পড়ুন -   করোনা মোকাবিলায় এগিয়ে এলেন পশ্চিম মেদিনীপুরের শিল্পপতি ও বণিকরা, হাসপাতাল ও সেফ হোমের পরিকাঠামো উন্নয়নে দিলেন প্রতিশ্রুতি

জেলা টাস্ক ফোর্স যে সিদ্ধান্তগুলি গ্রহণ করেছে—-
১. সিসিইউ মেডিক্যাল অফিসার ও সিসিইউ প্রযুক্তিবিদদের লাভজনক বেতনে এবং কন্ট্রাকচুয়াল ভিত্তিতে শালবনী করোনা হাসপাতালে নিয়োগ করা হবে।
২. ৭জন ডেটা এন্ট্রি অপারেটর এবং ৭জন মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট কন্ট্রাকচুয়াল ভিত্তিতে নিয়োগ করা হবে।
৩. ৫ শয্যা বিশিষ্ট খড়গপুরে আইসোলেশন সেন্টার বা সেফ হোম চালু হল গতকাল থেকে। আগামী সোমবার ৫০টি শয্যা নিয়ে ঘাটালে চালু হচ্ছে আইসোলেশন সেন্টার, দশদিনের মধ্যে ৮০টি শয্যা করা হবে।
৪. প্রতিটি মহকুমা পিছু একটি করে শবদেহ বাহী নতুন গাড়ি প্রদান করা হবে। ৫. প্রতিটি মহকুমা পিছু কোভিড পজিটিভদের মৃতদেহ সৎকার করার জন্য পৃথক শ্মশানের ব্যবস্থা করা হবে।
এছাড়াও, মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের জন্য দুটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে—
৬. ফুসফুসের সংক্রমণ বা শ্বাসকষ্টের রোগীদের জন্য SARI (Surveillance of severe acute respiratory infection) ইউনিটে ১৫ টি শয্যা এবং পৃথক HDU (High Dependency Unit) ইউনিট খোলা হবে, যেখানে ২০ টি শয্যা থাকবে। এখানে মূলত করোনা’র উপসর্গ থাকা বা প্রবল শ্বাসকষ্টের উপসর্গ থাকা আশঙ্কাজনক রোগীদের আপদকালীন চিকিৎসা করা হবে। লেভেল ফোর শালবনী করোনা হাসপাতালে পাঠানোর মতো পরিস্থিতি না থাকলে, তবেই এখানে চিকিৎসা করা হবে, স্থানান্তরিত করার আগে পর্যন্ত।
৭. সেন্ট্রাল অক্সিজেন পরিষেবা সরবরাহ করা হবে আগামী সপ্তাহের মধ্যে।
এ প্রসঙ্গে মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডাঃ পঞ্চানন কুন্ডু জানিয়েছেন, “পরিস্থিতি উপলব্ধি করেই জেলা টাস্ক ফোর্স এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। মেডিক্যাল কলেজে পৃথক একটা আইশোলেসন ইউনিট করা হয়েছে, সেখনেই শয্যা বাড়িয়ে পরিষেবা বৃদ্ধি করা হবে। অপরদিকে, আইসি বিল্ডিং এর চারতলা’তে অক্সিজেন পরিষেবা সহ HDU ইউনিট করার কথা ভাবা হয়েছে। যে সমস্ত রোগীদের সিসিইউ’তে রাখার প্রয়োজন নেই, তাদের এখানে রাখা হবে।”

thebengalpost.in
মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ :

গতকালই জেলাশাসক ডঃ রশ্মি কমল জানিয়েছিলেন, “জেলার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে, প্রয়োজনীয় সমস্ত রকম সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হচ্ছে।”
জেলা স্বাস্থ্য ভবনের পক্ষ থেকে উপ মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ সৌম্যশঙ্কর সারেঙ্গী জানিয়েছেন, “আপদকালীন পরিস্থিতিতেও স্বাস্থ্য পরিষেবা নিরবিচ্ছিন্ন রাখতেই, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। অনেক, স্বাস্থ্যকর্মী এবং স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মী সংক্রমিত হয়েছেন বা হচ্ছেন, সেসব দিকে নজর রেখেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।”